রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯

মধুপুরে সাংবাদিক আকবরের শখের লাউ চাষে সফলতা

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
  ০৬ নভেম্বর ২০২২, ১৫:৩৬

শখের বশে লাউ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন সাংবাদিক আকবর আলী। পারিবাকি চাহিদা মিটিয়েও বছরের ৬ মাস ৪৮ শতাংশ জমিতে লাভজনক সবজি লাউ চাষ করতে খরচ হয় ২০ হাজার টাকা। সেই লাউ বিক্রি করা হচ্ছে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা। লাউ বিক্রি করে সংসার পরিচালনা ও সন্তানদের লেখাপড়া চলছে। সব মিলিয়ে লাউ বিক্রি করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন তিনি। 

বলছি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কুড়াগাছা ইউনিয়নের পিরোজপুর (পলাইটেকি) গ্রামের সাংবাদিক আকবর আলীর কথা। তার দেখাদেখি গ্রামের অনেক কৃষক লাউ চাষ শুরু করেছেন। ফলে বাড়ছে লাউ চাষির সংখ্যা।

সরেজমিনে জানা যায়, সাংবাদিক আকবর আলী গত ৫ বছর আগে ১৮ শতাংশ জমিতে বছরের আশ্বিন মাস থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত লাউ চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরই সফলতা পেয়েছেন। পরের বছর থেকে বড় পরিসরে লাউ চাষ শুরু করেন। বর্তমানে ৪৮ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করছেন। এতে বছরের ৬ মাসে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা। বছরে সেই লাউ বিক্রি হচ্ছে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা। বাকি ৬ মাস ধান চাষ করেন।

আকবর আলী জানান, লাউ বিক্রির টাকা দিয়ে ৩ সন্তানের লেখাপড়ার খরচসহ সংসার ভালোভাবে পরিচালনা করছেন। কয়েকটি গরু কিনেছেন। কয়েক শতাংশ জমিও কিনেছেন। এ সবজি চাষ করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। 

স্থানীয় কৃষক মো. আলাউদ্দিন মিয়া জানান, গত কয়েক বছর ধরে আকবর লাউ চাষ করে অনেক টাকা লাভ করেছে। তার ঘর-বাড়ি ও চলাফেরায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তা দেখে গ্রামের অনেক চাষি এখন লাউ চাষ করছেন। অনেকেই সফল হচ্ছেন। স্থানীয় লাউ চাষি মো. সেলিম (৪৫) জানান, তিনি আকবরের দেখাদেখি ১৮ হাজার টাকা খরচ করে ৪৪ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করেছেন। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে সঠিকভাবে ক্ষেতে সার-ওষুধ দিয়েছেন। ক্ষেতে অনেক লাউ হয়েছে। এ পর্যন্ত ১ লাখ টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। যে লাউ আছে তাতে আরও ১ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন রাসেল বলেন, আমরা কৃষি বিভাগ সব কৃষককে প্রশিক্ষণ ও সঠিক পরামর্শ দিয়ে সাবলম্বী করার চেষ্টা করছি। ফলে অনেক কৃষক আমাদের দিক-নির্দেশনা ও সঠিক পরামর্শে সাবলম্বী হয়েছে।

যাযাদি/ সোহেল
 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে