রোববার, ০১ অক্টোবর ২০২৩, ১৭ আশ্বিন ১৪৩০
walton

নকলায় কৃষাণী লুতফা বেগমের স্বেচ্ছাশ্রমে জমির ধান কেটে বাড়ীতে পৌছে দিলেন ছাত্রলীগ

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি
  ০১ মে ২০২৩, ১৬:৩৪

স্বামী আবুল হোসেন দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ্য। পুত্র শ্রবন প্রতিবন্ধী। ৫৫ শতাংশ জমি অন্যের কাছ থেকে বর্গা নিয়ে এবছর করেছে বোর আবাদ। পেঁকে উঠেছে ধান। উপযুক্ত হয়েছে ধান কাটার সময়। কিন্তু বাজারে শ্রমিক সংকট ও শ্রমিকের মুল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান কেঁটে ঘরে তুলতে পারছে না। নিজের পরিবারেও নেই কেউ এমন ধান কেঁটে ঘরে তুলবে।

বলছি শেরপুরের নকলা উপজেলার পৌরসভাধীন তাতরকান্দা গ্রামের বর্গাচাষী (কৃষাণী) লুতফা বেগমের কথা। যেকোন মূহুর্তে ঘটতে পারে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তার শেষ সম্ভল ৫৫ শতাংশ জমির ধান ও কৃষাণীর স্বপ্ন ভেঙ্গে মাটি হয়ে যেতে পারে। যখন আকাশ চুম্বি শ্রমিকের মুজুরী তখন দিশেহারা কৃষাণী। এমতাবস্থায় এগিয়ে আসে শেরপুরের নকলা উপজেলা ছাত্রলীগ।

জানাযায়, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আবু হামজা কনকের নেতৃত্বে পৌরসভাধীন তাতরাকান্দা এলাকার অসহায় কৃষাণী লুতফা বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছেন ছাত্রলীগের নেতা কর্মীগণ। "কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ" এই শ্লোগানে ছাত্রলীগের কর্মীগন কাস্তে হাতে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কৃষাণী লুতফা বেগমের ৫৫ শতাংশ, উপজেলার টালকী ইউনিয়নের ফুলপুর গ্রামে অসহায় শারীরিক অক্ষম আজগর আলীর ৪২ শতাংশ, জালালপুর এলাকার শাহনাজ বেগমের ২৫ শতাংশ ও চাঁনপুর এলাকার আজমত আলীর ৭৫ শতাংশ ধান কেঁটে আটি বেঁধে মাথায় নিয়ে বাড়ি পৌছে দেয় ছাত্রলীগ। এভাবে প্রতিদিন কোন না কোন অসহায় কৃষকের ধান কেঁটে মাথায় নিয়ে বাড়ি পৌছে দিচ্ছেন তারা।

কৃষাণী লুতফা বেগম বলেন, আমি শ্রমিক দিয়ে ধান কাটলে পুরো ধানই চলে যেতো মুজুরী হিসেবে। বর্গাদারকেই কি দিব আর নিজেদেরই কি থাকবে। ছাত্রলীগ আমার পাশে এসে দাড়িয়েছে। সমস্ত ধান কেটে বাড়ি পর্যন্ত পৌছে দিয়েছে। কৃষাণী শাহনাজ বেগম বলেন, আমি কখনো চিন্তাও করতে পারিনি আমি এভাবে ছাত্রলীগের সগযোগিতা পাব। আমি শ্রমিকের মুজুরী নিয়ে খুবই চিন্তায় ছিলাম। আমি অসহায় মহিলা হয়ে কিভাবে টাকা দিয়ে ধান কেঁটে বাড়ি নিয়ে আসব। ছাত্রলীগ আমার কাছে দেবদূত। চাষী আজমত আলী বলেন, আমি বিশ্বাস করি অসহায়দের পাশে আল্লাহ আছে। আল্লাহ আমার কাছে ছাত্রলীগদের পাঠিয়েছে। তানা হলে আমার ক্ষেতের বোর আবাদ আজ ঘরে তুলতে পারতাম না।

নকলা উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক আবু হামযা কনক বলেন, "কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ" এই শ্লোগানকে ধারন করে আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কাজ করি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে। বৈষয়িক মন্দা মোকাবেলায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে অসহায় কৃষক/কৃষাণীদের পাশে দাড়িয়েছি। যদি সংবাদ পাই কোন অসহায় কৃষক শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে পারছে না আমরা সাথে সাথে পৌছে যাই তার ক্ষেতের ধান কাটতে। পরে পৌছে দেই বাড়িতেও। যতদিন ধান আছে ততদিন অসহায় কৃষক/কৃষাণীর ধান কেঁটে দিতে প্রস্তুত রয়েছি আমিসহ উপজেলা ছাত্রলীগ। আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদী বলেন, ছাত্রলীগের এই উদ্যোগ বেশ প্রশংসনীয় হয়েছে। অনেক কৃষক/র্কষাণী রয়েছে যারা শ্রমিকের মুজুরীর অভাবে ধান কাটতে পারে না। যদিওবা ধান কেটে আনে সব শ্রমিকের মুজুরীর পেছনেই ব্যায় হয়ে যায়। শেষে কিছুই থাকে না। এ বছর নকলা উপজেলায় রোব ধানের বাম্পার ফলনও হয়েছে। এখন কালবৈশাখী ঝড় তোফানের সময়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ধান ৮০% পেঁকে গেলেই কৃষকদের কেঁটে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছি আমরা।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
X
shwapno

উপরে