বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১

হোসেনপুরে সাড়া ফেলেছে বিস্ময়কর পলিনেট হাউজ

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
  ২৪ জুন ২০২৪, ১১:৪৯
ছবি-যায়যায়দিন

রাস্তার পাশে পলিথিন জাতীয় কাগজ দিয়ে সুন্দর একটি বড় ঘর৷ এমন ঘর এ এলাকার লোকজন আগে কখনো দেখে নি৷ কারো চোখে পড়লেই মনে প্রশ্ন জাগে এটা কিসের ঘর! শাক সবজি চাষের জন্য এ পলিনেট হাউজ তৈরি করে সফল কৃষক হয়ে উঠেছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার এখলাস উদ্দিন সবুজ নামের এক যুবক। যা দেখতে লোকজন প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন। তার বাড়ি উপজেলার পুমদি ইউনিয়নের নারায়ণ ডহর গ্রামে।

কৃষক এখলাস উদ্দিন সবুজ ঢাকার কবি নজরুল ইসলাম সরকারি কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেন। পড়াশোনা শেষ করে হতে চেয়েছিলেন ব্যবসায়ী। এরই ধারাবাহিকতায় মাছের রেনু থেকে পোনা উৎপাদন শুরু করেছিলেন। পরে এক কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে হয়ে উঠেছেন এক সফল কৃষক।

সম্প্রতি তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় পলিনেট হাউজ প্রর্দশনী বাস্তবায়নে পলিনেট হাউজে উচ্চমূল্য ফসল ক্যাপসিকাম আবাদ করে লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন।

জানা গেছে,পলিনেট হাউস তৈরি করা হয় নেট, পলি এবং লোহা বা বাঁশের অবকাঠামো দিয়ে। চারপাশে নেট দিয়ে ঘেরা হয়। আর ওপরের অংশে থাকে পলিথিন বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ত্রিপল। পলিনেট হাউস তৈরি করতে প্রয়োজন তাপমাত্রা সহনশীল বিশেষ পলিথিন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী মেশিন। এর সঙ্গে জৈব সার আর নারিকেলের ছোবড়া পচিয়ে বিশেষ উপাদান তৈরি করতে হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তি প্রয়োগে আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে বছরব্যাপী উচ্চমূল্যের ফসল ফলানো যায়। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি নিয়ন্ত্রণ, অত্যাধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনা, ক্ষতিকর পোকার প্রবেশ রুখে দিয়ে নিরাপদ ফসল উত্পাদনে এক আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি।পলিনেট হাউসে উচ্চমূল্যের ফসল যেমন ক্যাপসিকাম, ব্রকলি, রকমেলন, রঙিন তরমুজ, রঙিন ফুলকপি, বাঁধাকপি, লেটুস ও অসময়ের সবজির পাশাপাশি চারা উত্পাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে গ্রীষ্মকালেও ফলবে শীতকালীন সবজি।

এখলাস উদ্দিন সবুজের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আধুনিক প্রযুক্তিতে মার্চিং পেপার দিয়ে টমেটো চাষ করে সাফল্য পাওয়ায় উপজেলা কৃষি অফিস তাকে পলিনেট হাউজ উপহার দেয়। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পে তিনি এই শেডে উচ্চমূল্যের ফসল আবাদ করার চুক্তিবদ্ধ হন। ক্যাপসিকাম বিক্রি করে তিনি লাভবান হয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম শাহজাহান কবির বলেন, পলিনেট হাউজে ফসল উৎপাদন করে তিনি সফল হয়েছেন। কৃষি অফিস থেকে সার্বক্ষণিক তাকে সহায়তা করা হচ্ছে। তাকে দেখে অন্যান্য যুবকরা কৃষিতে আসতে উৎসাহী হচ্ছে।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে