বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

'সেই বই লেখার অপেক্ষায়, যা আমার হাত থেকে বেরিয়ে যাবে, তার ডানা গজাবে- উঁচুতে উঠবে' গীতাঞ্জলি শ্রী

নতুনধারা
  ১০ জুন ২০২২, ০০:০০
আপডেট  : ১০ জুন ২০২২, ০৯:২৬

ভারতের গীতাঞ্জলি শ্রী এবারের বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ জিতে নিয়েছেন। পেছনে ফেলেছেন আরো ৪ লেখিকা ও একজন লেখককে। হিন্দি সাহিত্যের কোনো বই এই প্রথম আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার পেল। যে কোনো ভাষার উপন্যাস ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে লন্ডন/যুক্তরাজ্য বা আয়ারল্যান্ড থেকে প্রকাশ হলে তা পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হয়। ৬টি বইয়ের শর্টলিস্টে থেকে শেষ পর্যন্ত পুরস্কার জয় করল গীতার বই 'টুম্ব অব স্যান্ড'। মূল বইয়ের নাম 'রেত সমাধি'। হিন্দি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেইজি রকওয়েল। পুরস্কারের অর্থ লেখক গীতাঞ্জলি শ্রী ও অনুবাদক ডেইজি রকওয়েলের মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছে পুরস্কারের নিয়ম অনুসারে। গীতাঞ্জলির জন্ম ১২ জুন, ১৯৫৭ সালে ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের মইনপুরী শহরে। তার বাবা অনিরুদ্ধ পান্ডে এলাহাবাদের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) ছিলেন। গীতার প্রকৃত নাম গীতাঞ্জলি পান্ডে। তিনি তার মায়ের নামের অংশ শ্রী তার নামের সঙ্গে জুড়ে দেন। তিনি থাকেন রাজধানী নয়াদিলিস্নতে। বেশ কয়েকটি ছোট গল্প সংকলন এবং পাঁচটি উপন্যাসের লেখিকা। তার ২০০০ সালে প্রকাশিত উপন্যাস 'মাই' ২০২১ সালের 'ক্রসওয়ার্ড বুক অ্যাওয়ার্ডে'র জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত হয়েছিল। ২০২২ সালে ডেইজি রকওয়েল ইংরেজিতে টুম্ব অব স্যান্ড নামে অনুবাদ করেন তার উপন্যাস রেত সমাধি। এর হিন্দি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৮ সালে। কথাসাহিত্যের পাশাপাশি, তিনি প্রেমচাঁদের ওপর সমালোচনামূলক রচনাও লিখেছেন। তার প্রথম গল্প, 'বেল পত্র' (১৯৮৭), সাহিত্য সাময়িকী 'হান্স'-এ প্রকাশিত হয় এবং তার পরে অনুগঞ্জ (১৯৯১) ছোটগল্পের সংকলন প্রকাশিত হয়। তার 'মাই' (মা) উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ তাকে খ্যাতি এনে দেয়। এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন নীতা কুমার, যিনি সাহিত্য একাডেমি অনুবাদ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন এবং বশির আনওয়ান এটি উর্দুতে অনুবাদ করেন। বিখ্যাত উর্দু সাহিত্যিক ইন্তিজার হোসেনের ভূমিকা লিখে দেন। গীতার দ্বিতীয় উপন্যাস 'হামারা শাহর উস বারস' এ বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার কিছুটা ছায়াপাত ঘটেছে। তার চতুর্থ উপন্যাস, খালি জাগাহ (২০০৬), ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়েছে 'দ্য এম্পটি স্পেস' নামে। এর অনুবাদ করেন নিবেদিতা মেনন। তার পঞ্চম উপন্যাস, রেত সমাধির প্রশংসা অনেকেই করেছেন। বিশিষ্ট লেখিকা অলকা সারাওগি বলেন, 'ওঃং ংবিবঢ়রহম রসধমরহধঃরড়হ ধহফ ংযববৎ ঢ়ড়বিৎ ড়ভ ষধহমঁধমব, ঁহঢ়ৎবপবফবহঃবফ ধহফ ঁহরহযরনরঃবফ্থ 'এর সুইপিং ইমাজিনেশন বা ব্যাপক কল্পনাশক্তি এবং ভাষার বিশেষ ক্ষমতা অভূতপূর্ব এবং বাধাহীন'। কি আছে এই উপন্যাসে? রেত সমাধি উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট ১৯৪৭ সালের দেশভাগ। যে দেশ ভাগ বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানকে ব্যাপকভাবে ছুঁয়ে গেছে। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ৮০ বছর বয়সি এক নারী। তার জীবনে দেশভাগের কী প্রভাব পড়েছিল তারই আখ্যান এই উপন্যাস। 'টুম্ব অব স্যান্ড' যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত হয়। পুরস্কারের বিচারক প্যানেলের প্রধান ফ্রাংক উইনি বলেছেন : 'গীতাঞ্জলির উপন্যাসে বর্ণনার শক্তি বর্ণনাতীত'-, 'এটি ভারতভাগ ও ভারতের ওপর একটি চমৎকার উপন্যাস।' তার এ কথায় গীতার ভাষা ব্যবহার বর্ণণাভঙ্গি ও বিশেষ করে উপন্যাসের কাহিনী বিন্যাসে তার পারদর্শিতার সাক্ষ্যই ফটে ওঠে। সাহিত্য কর্মের জন্য এর আগেও গীতা কিছু পুরস্কার এবং সম্মাননা লাভ করেছেন। গীতাঞ্জলি শ্রী ইন্দু শর্মা কথা সম্মান পুরস্কার লাভ করেন। এখানে আউটলুক অনলাইনে প্রকাশিত তার একটি সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো। প্রশ্ন: আপনার শৈশব, শিক্ষা সম্পর্কে কিছু বলুন। কীভাবে আপনি একজন লেখক হয়ে উঠলেন উত্তর : আমার শৈশব কেটেছে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন শহরে যেখানে আমার বাবা একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে পোস্টেড ছিলেন। সেখানেই আমি স্থানীয় ইংরেজিমাধ্যম স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করি। হিন্দি ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে আমার যোগসূত্র ছিল অনানুষ্ঠানিক এবং ব্যক্তিগত। আমার মা শুধু হিন্দি বলতেন। আমার চারপাশে ইউপির শহরে প্রচুর হিন্দিভাষী ছিল। আমার শৈশবে, আজকালকার ইংরেজি-স্কুলগামী বাচ্চাদের চেয়ে বেশি হিন্দি ম্যাগাজিন পড়তাম। যেমন চাঁদমামা, পরাগ, নন্দন। আমরা জনপ্রিয় 'ভারতীয়' উপাখ্যান, রামায়ণ, মহাভারত, অ্যারাবিয়ান নাইটস, পঞ্চতন্ত্র, কথাসরিৎসাগর, ভূতনাথ এবং চন্দ্রকান্ত সান্তাটির গল্প পড়তাম। সে সময়ে শিশুদের জন্য এখনকার মতো ইংরেজি বইয়ের আধিক্য ছিল না। প্রশ্ন : আপনার শৈশব এবং যে পরিবেশে আপনি বেড়ে উঠেছেন তাতে কি এমন কিছু ছিল যা আপনাকে লেখার প্রেরণা দিয়েছিল? উত্তর: মুন্সী প্রেমচাঁদের নাতনির সঙ্গে আমার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। শৈশব থেকে তার পুরো পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, আমি মনে করি, এটা আমাকে 'সংস্কৃতি' সম্পর্কে সংবেদনশীল করার ক্ষেত্রে খুব ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছিল। তাদের পরিবার ছিল ভারতীয় সঙ্গীত ও সাহিত্যের চর্চাকারী। প্রশ্ন : আপনার লেখালেখিতে কি আপনার কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার কোনো প্রভাব পড়েছে? উত্তর : কলেজে পড়ার জন্য আমি দিলিস্ন, এরপর এলএসআর এবং তারপর জেএনইউতে (জওহরলাল ভার্সিটি) চলে আসি এবং আধুনিক ভারতীয় ইতিহাস অধ্যয়ন করেছি, যদিও আমি ইতিমধ্যে হিন্দি সাহিত্যের প্রতি টান অনুভব করছিলাম। আনুষ্ঠানিক হিন্দি শিক্ষার অনুপস্থিতিতে, ইতিহাস একটি কার্যকর বিকল্প ছিল, কিন্তু আমি ইতিহাসের অধ্যয়নের জন্য হিন্দি সাহিত্য ব্যবহার করে টিউটোরিয়াল করতে শুরু করি। আমার পিএইচডি'র জন্য আমি বিংশ শতাব্দীর জাতীয়তাবাদী বুদ্ধিজীবী হিসেবে প্রেমচাঁদের ওপর এমএস ইউনিভার্সিটি, বরোদার একজন ঐতিহাসিকের সঙ্গে কাজ করেছি। আমি এর ওপর একটি বই করেছি, যার মূল্য সম্পর্কে আমি খুব বেশি আত্মবিশ্বাসী নই, তবে এটি ছিল হিন্দি জগতে আমার প্রথম পূর্ণাঙ্গ প্রবেশ। এগুলো আমার লেখক হওয়ার প্রেরণা ছিল। আমি একজন লেখক আমার শৈশব থেকেই এ ধারণাটি ছিল। স্কুল জীবনে আমি ইংরেজিতে অ্যাডভেঞ্চার গল্প লিখেছিলাম, যা সরাসরি এনিড বস্নাইটনের কথা মনে করিয়ে দেয়! তারপরে আমি হিন্দি এবং ইংরেজি উভয় ভাষায় লেখার চেষ্টা চালিয়ে যাই। প্রশ্ন: আপনি কি পড়ার ব্যাপারে উদাস ছিলেন? আপনার প্রিয় লেখক কারা ছিলেন? তারা কীভাবে আপনাকে প্রভাবিত করেছিলেন? \হউত্তর : মূলত আমি সাহিত্য পছন্দ করতাম। পড়া একটি প্রধান বিনোদন ছিল, খুব এলোমেলো যদিও এটা ছিল। প্রচুর রাশিয়ান লেখক ও ভিক্টোরিয়ান লেখিকা, ফরাসি ক্লাসিক, নুট হ্যামসন, ম্যাক্স হ্যাভেলার, ক্যালভিনো, কাফকা, কুন্ডেরা, ল্যাটিন আমেরিকান সাহিত্য, জাপানি সাহিত্য, বাংলা, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, কেরালার ভারতীয় লেখক এবং হিন্দি লেখকরা আমার নিজের সময় পর্যন্ত, যেমন কৃষ্ণ সোবতি, নির্মল ভার্মা, শ্রীলাল শুক্লা, বিনোদ কুমার শুক্লা, ইত্যাদি আমার প্রিয় লেখক। যদিও আমার লেখার ওপর এসবের প্রভাব সম্পর্কে জানি না, তারা আমার মধ্যে শৈল্পিক প্রচেষ্টায় বৈচিত্র্য এবং ভিন্নতার প্রতি ভালোবাসা জাগিয়েছিল। প্রশ্ন : আপনি আপনার সৃজনশীল কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট? উত্তর : কখনোই না! আমি এখনো সেই বইটি লেখার অপেক্ষায় আছি যেটি আমার হাত থেকে সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে যাবে এবং তার নিজের ডানা গজাবে এবং নিজে থেকেই উঁচুতে উঠবে। এমনকি এর সুন্দর উড়া দেখে আমি বিস্মিত হব। আমি মাঝে মাঝে সে আভাস পাই, কিন্তু এর বেশি কিছু না! প্রশ্ন : সাহিত্যকর্মের অঙ্কুরোদগম নিয়ে কিছু বলবেন কি? কি প্রথম আসে? একটি সাধারণ ধারণা, একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি, একটি পস্নট, একটি চরিত্র? উত্তর : আমি কীভাবে একটি কাজের ধারণা পাই এটা এখনো একটি রহস্য। এমনকি আমার জন্য একটি আবিষ্কার। আমার কোনো সেট ফর্মুলা নেই এবং একটি সাধারণ ধারণা, একটি অদ্ভুত বাক্য শোনা, একটি একক চিত্র কোনো কিছুই নেই। আমার সর্বশেষ উপন্যাসটি নিয়ে কিছু বলি। এটার জন্য আমাকে যেতে হয়েছিল উত্তর ভারতীয় একটি বড় এলাকায়, যেখানে বহু সাধারণ মানুষের বাস। শুরু করার পরে আমি দেখতে পেলাম যে মহিলারা যারা সহজে এই ঘরগুলো থেকে বের হতে পারে না তারা বারান্দায় গিয়ে দেখা করার এবং এমন একজনের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার অজুহাত খুঁজে পেতে পারে যিনি অন্য কোনো বাড়ি থেকে অন্য কোনো সিঁড়ি বেয়ে সেখানে পৌঁছেছেন। বারান্দাই তাদের আকাশ, তাদের সীমা। \হ প্রশ্ন : পস্নটের সূচনা কী করে হয়? আপনি এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পস্নটটি কি শেপ নেয় নাকি এটি চরিত্র থেকে আসে? বা আইডিয়া থেকে? উত্তর: হঁ্যা, কিছু কিছু জিনিস আমার মুড অফ করে দেয়। তবে তারপর কাজটি চলতে থাকে, পস্নট, চরিত্র, এমনকি ফর্ম নিজেরাই পথ বেছে নেয়। প্রশ্ন: আপনার কাছে লেখালেখি কি সহজ মনে হয়? নাকি আপনি এটা কঠিন মনে করেন? উত্তর : লেখা আমার জন্য সহজ নাকি কঠিন? রিয়েলি, এটা আমি বলতে পারব না। কাহিনী যন্ত্রণাদায়ক এবং বেদনাদায়ক হলেও আমি সাধারণভাবেই এগিয়ে যাই। কখনো কখনো লেখা আমাকে একটি বাস্তব বোধের জোগান দেয়, কিন্তু কখনো কখনো সুইসাইডাল ডিপ্রেশন বা হতাশা বোধেরও সৃষ্টি করে। এটা মুডের ওপর নির্ভর করে এবং তার উঁচু নিচু আছে। আমি দীর্ঘ সময় নিয়ে লিখি। যে কোনো জায়গায় আমি অন্তত এক মাসের জন্য অফিস-আওয়ারে কাজ করি। যার অর্থ হলো সারাদিন নিজেকে একটি ঘরে বন্দি করে রাখা এবং পড়া, লেখা (আমি নির্দিষ্ট কিছু কাজ না করলে নোট নেওয়া), খালি চোখে তাকিয়ে থাকা। এখানে ধ্যানের কিছু আছে, কিছু জেদেরও জায়গা আছে, শিল্প সৃষ্টি হলো না এমন শ্রমও আছে। \হ প্রশ্ন : আপনার সবচেয়ে ভালো কাজ কোনটা? আপনার কোনো কাজ কী আপনার মনে হয়েছে যে এটি যথেষ্ট ভালো নয়? উত্তর: আমি আমার সব কাজ সম্পর্কে মিশ্র ধারণা পোষণ করি। এগুলো সম্ভাবনাপূর্ণ বলে মনে হয় এবং ভালো কাজ বলে মনে হয়। কিন্তু আমি এখনো কোন কাজ সবচেয়ে ভালো এটা বলতে পারি না, অনুভব করতে পারি না- যে এটি ঠিকঠাকভাবে বেরিয়ে এসেছে। এটা এ রকম মনে হয়- আমি চূড়ান্ত বা আল্টিমেট মাস্টারপিস তৈরির প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি, কিন্তু আমার শেষ বইটিও কি সেটাই হবে? সে সম্পর্কে কিছু বলতে পারি না। প্রশ্ন: হিন্দি সাহিত্যের বর্তমান অবস্থা কী? আপনি কি এটাকে অভিজাত মনে করেন? উত্তর : হিন্দি সাহিত্য একটি মিশ্র জিনিস। উত্তর ভারতের একটি বৃহৎ বেল্টের কথা বলছি এবং সেখানে বহু লোক নিরক্ষর। এর মধ্যেই হিন্দি সাহিত্য অত্যন্ত প্রাণবন্ত সাহিত্য, বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং অভিজাত, বিশেষজ্ঞ, নন-এলিটিস্ট, এমনকি পপুলার, বিভিন্ন সার্কেল দ্বারা আবদ্ধ। প্রশ্ন : এটিকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য কী করা যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন? উত্তর : বৃহত্তর পাঠকের কাছে পৌঁছানোর জন্য শিক্ষা একটি মূল প্রয়োজন। তবে আরও ভালো বাজার নেটওয়ার্ক, আরও ভালো প্রচার, আরও মানসম্পন্ন অনুবাদ এবং হিন্দিকে একটি পস্ন্যাটফর্ম করার জন্য যতটা সম্ভব বিভিন্ন ধরনের সাহিত্য ফোরাম প্রয়োজন। অবশ্যই ইংরেজিতে আমার কাজগুলো ব্যাপক সংখ্যক পাঠকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। 'মাই' ইংরেজিতে প্রকাশিত হওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে আমার বইয়ের ব্যাপক রিভিউ হয়েছে, বহু সাক্ষাৎকার দিয়েছি, বহু লোক ছবি তুলে নিচ্ছে। যদিও বইটি হিন্দিতে ১০ বছর আগে প্রকাশিত হয়েছে! কথা হচ্ছে আমরা যে ভাষায় পারি সেই ভাষায় লিখি এবং সেটাকে ভালোবাসি এবং এর জন্য ভালোবাসা পেতে পারি। কিন্তু অনুবাদ যদি তা আরও বৃহত্তর পাঠকের কাছে নিয়ে যায় এবং আরও অর্থের জোগান দেয় তবে কারো তো মনে করার কিছু নেই। ভাষান্তর- আহমদ মতিউর রহমান

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে