সোনাইমুড়ীতে স্বাস্থ্যসেবার হালচাল ডেন্টাল চিকিৎসার নামে প্রতারণা!

সোনাইমুড়ীতে স্বাস্থ্যসেবার হালচাল   ডেন্টাল চিকিৎসার নামে প্রতারণা!

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ডেন্টাল চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা। যেন দেখার কেউ নেই। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন ও ছাড়পত্র ছাড়াই ডাক্তার লিখে কোনো রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার বিধান না থাকলেও এখানে নিজের নামে প্যাড ছাপিয়ে নামের আগে ডাক্তার লিখে প্রতারণা করছে। এ সুযোগে এসব নামধারীরা হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা।

প্রশাসনের তদারকি না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রায় অর্ধশত লাইসেন্সবিহীন ডাক্তারের চেম্বার রয়েছে। ডিজিটাল ব্যানার ও চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে নিজের নামে প্যাড ছাপিয়ে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। কোনো কোনো সময় দেখা যায় এলাকায় মাইকিং ও প্রচারপত্র বিলি করে রোগী সংগ্রহ করে থাকে। বিলাসবহুল মার্কেটে রুম ভাড়া নিয়ে অনুমোদন ছাড়াই চেম্বার খুলে বসে। চেম্বারের বাইরে বিডিএস পাস ডাক্তারের নাম সাইনবোর্ডে ঝুলিয়ে রাখলেও ডাক্তার কখনো আসেন না। মাঝেমধ্যে এলেও ২/১ ঘণ্টা চেম্বার করে চলে যান। ভিতরে অনভিজ্ঞ ও ডিগ্রি নেই এমন ব্যক্তি দিয়ে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। পৌর এলাকার সোনাইমুড়ী বাজারে ২/১ জন বিডিএস পাস ডেন্টাল ডাক্তার রয়েছেন। এসব ডাক্তা তাদের ইচ্ছামতো ফি নিয়ে থাকেন বলে কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন। সোনাইমুড়ী পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন হাটবাজারে প্রায় অর্ধশত ডেন্টাল চেম্বার রয়েছে। সেগুলোর অধিকাংশের নেই অনুমোদন, নেই অভিজ্ঞ ডাক্তার। পৌর এলাকার কলেজ রোডে রাজিব ডেন্টাল কেয়ারের স্বত্বাধিকারী রাজিব গুহু মজুমদারের চেম্বারের বাইরে একজন বিডিএস পাস ডাক্তারের নাম লেখা থাকলে ওই ডাক্তার এখানে বসেন না। ওই চেম্বারের মালিক নিজ নামে প্যাড ছাপিয়ে ৫০০ টাকার বিনিময়ে রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র দেন। পৌর এলাকার কলেজ মার্কেটে মিজান ডেন্টাল কেয়ার, ঢাকা ডেন্টাল, ইমা প্লাজার সামনে আনসারী ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল কেয়ার, হাই স্কুল রোড মডার্ন ডেন্টাল কেয়ার ও ডি ডেন্টাল কেয়ারে অভিজ্ঞ ডাক্তার নেই। অনভিজ্ঞ ও হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে চলছে চিকিৎসা। সোনাইমুড়ী বাজারের একজন ডেন্টাল রোগী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, এ ধরনের ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক। চেম্বারের ডাক্তার কাগজে কলমে দেখানো হয়। বাস্তবে অনভিজ্ঞ লোকেই চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

সোনাইমুড়ী উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন অফিস তদারকি না করায় রোগীরা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন। নোয়াখালী সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, ডেন্টাল কেয়ারের অনুমোদন নিতে হলে ডাক্তারের নামে ট্রেড লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন, ডাক্তারের ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও নির্দিষ্ট অঙ্কের সরকারি ফি জমা দিতে হয়। কিন্তু এসব ডেন্টাল কেয়ারের কোনোটিরই অনুমোদন নেই।

নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন মাছুম ইফতেখার জানান, সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এসব অনুমোদনহীন ডেন্টাল প্রতিষ্ঠান অনভিজ্ঞ লোক দিয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছে। এতে রোগীরা প্রতারিত হওয়ার খবর তিনি শুনেছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

যাযাদি/এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে