বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

নানীর মাঝেই মাকে খোঁজে নুসাইবা  

যাযাদি ডেস্ক
  ৩০ মে ২০২৩, ১২:৪২
আপডেট  : ৩০ মে ২০২৩, ১২:৪৭
ফাইল ছবি

মা-বাবার আদরের নয়নমনি ছিল নুসাইবা আনবার। হঠাৎ করেই মায়ের মৃত্যুতে তার জীবনে নেমে আছে অন্ধকার। মাকে হারানোর পর বাবার সাথে যোগাযোগ কমে যায়। একমাত্র ভাই পাড়ি জমিয়েছে কানাডা। তার আশ্রয় মেলে নানীর কাছে। সেটাই আপাতত তার ঠিকানা। নানীকে এখন পালন করতে হচ্ছে মায়ের ভূমিকা। নানীর মাঝেই মাকে খোঁজে ১৩ বছরের নুসাইবা। আর এভাবে বড় হচ্ছে সে।

জানা যায়, ২০২১ সালের এই দিনে (৩০ মে) রাজধানীর কলাবাগান থেকে চিকিৎসক ডা. কাজী সাবিরা রহমান লিপির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেই ঘটনায় তার পরিবার কলাবাগান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।

ঘটনার দুই বছর পার হলেও উদঘাটন হয়নি ডা. সাবিরার খুনের রহস্য। জানা যায়নি ঘটনার সাথে কে বা কারা জড়িত।

এদিকে থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত সংস্থা বলতে পারছে না, খুনের কারণ। তবে তারা আশা করছেন অতি শিগগিরই চাঞ্চল্যকর এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করবেন।

এদিকে পিবিআই মামলার তদন্ত পাওয়ার পর গত বছর ১৯ এপ্রিল ডা.সাবিরার স্বামী এ কে এম সামছুদ্দিন আজাদকে শান্তিনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ২৪ এপ্রিল তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছে।

সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে কারামুক্ত হয়েছেন তিনি। সর্বশেষ গত ৩ মে মামলাটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু ওইদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই‘র পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান সোহাগ উদ্দিনের আদালত আগামি ১ জুন প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। এ নিয়ে ১৯ দফা প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়েছে।

খুনের কারণ জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই‘র পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা বলেন,‘কি কারণে ডা. সাবিরা খুন হয়েছেন তার কারণ এখনো জানা যায়নি। মামলার তদন্ত চলছে। সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা বিষয়টি তদারকি করছে।

মামলার বাদী ডা. সাবিরার ফুফাতো ভাই রেজাউল হাসান মজুমদার বলেন,‘দুই বছর হয়ে গেলো এখনো জানতে পারলাম না খুনের কারণ। আশা করছি, সাবিরা খুনের মামলারও রহস্য উদঘাটন হবে। দোষীরা গ্রেপ্তার হবেন।আমরা সময় আশায় আছি। রহস্য উদঘাটনের। সাবিরার মা, ছেলে-মেয়েও বিচার চাই।

সাবিরার পরিবার সম্পর্কে রেজাউল হাসান বলেন, ছেলে আহমেদ তাজওয়ার কানাডায় পড়াশোনা করছে। মাঝে মধ্যে ফোন দিয়ে মামলার আপডেট জানতে চাই। আমার ফুফু সালমা রহমানও ফোন দিয়ে বলছে, দুই বছর হতে চললো মামলার তো কিছু হলো না। সবাই আপডেট চাই। আমি কি আপডেট দিবো।

এদিকে সাবিরার মেয়ে নুসাইবা আনবার নানীর সাথে থাকছে। ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সে। রেজাউল হাসান বলেন, নুসাইবার সমস্ত দেখভাল করছে নানী। নানী এখন মায়ের ভূমিকা পালন করছে। যেন মেয়েটা মন খারাপ করে থাকে। মায়ের অভাব বুঝতে না পারে। একারণে আমার ফুফুর মেয়ে হারানোর কষ্ট কিছুটা কমেছে। নুসাইবা না থাকলে ফুফুর অবস্থা খারাপ হয়ে যেত।

২০২১ সালের ৩০ মে সকালে কলাবাগান প্রথম লেনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটের শোবার ঘর থেকে চিকিৎসক কাজী সাবিরা রহমান ওরফে লিপির রক্তাক্ত ও দগ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গলা কাটা, পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও পোড়া ছিল। এঘটনায় ১ জুন সাবিরা ফুফাতো ভাই রেজাউল হাসান মজুমদার কলাবাগান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
X
Nagad

উপরে