আফগানিস্তানে উগ্রবাদের পুনরুত্থান

তালেবানের মতো উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর পুনরুত্থান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য হুমকি। পরমতসহিষ্ণু, উদার, গণতান্ত্রিক ও মানবিক আফগানিস্তান প্রতিষ্ঠা করতে এই উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে রুখে দাঁড়াতে হবে।
আফগানিস্তানে উগ্রবাদের পুনরুত্থান

দুই দশকের সহিংস লড়াইয়ের পর আবার তালেবানদের দখলে এলো আফগানিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে ২০০১ সালে ক্ষমতা হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া তালেবান বিনা রক্তপাতে কাবুলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। পুরো আফগানিস্তান এখন তাদের দখলে। কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিয়ন্ত্রণও নিয়েছে তারা। প্রেসিডেন্ট পালিয়ে গেছেন। সঙ্গে নাকি নিয়েছে কাড়ি কাড়ি টাকা। তাজিকিস্তান তাকে আশ্রয় না দেয়ায় তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের পথে। এত দ্রম্নত তালেবান ক্ষমতা দখল করতে পারবে, তা কিছুদিন আগেও ছিল কল্পনাতীত। যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল ৩০ দিনের মধ্যে তালেবানরা ক্ষমতা নেবে। অথচ তালেবানদের লাগল মাত্র ১০ দিন। একের পর এক প্রাদেশিক শহর তারা খুব দ্রম্নত দখল করে নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর একের পর এক শহর দখল করে সর্বশেষ কাবুল কব্জায় নেওয়ার মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালের পর দ্বিতীয় পর্বের উত্থান ঘটাল তালেবান। এর মধ্যদিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের আফগান যুদ্ধের লজ্জাজনক ও হাস্যকর পরিণতিও হলো। এই পরাজয়ে অবশ্য বিশ্বের অনেক দেশই খুশি। তারা মনে করে দেশটিতে তালেবান শাসন ফিরে এলেও মার্কিন কব্জায় থেকে মুক্ত হলো। তবে দেশটির উদারপন্থি ও সাধারণ আফগানরা তালেবানের সেই ত্রাসের রাজত্ব ফেরায় চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছে। এর সঙ্গে নারী নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার প্রশ্নটিও জড়িত। দোকান-পাট বন্ধ। অনেকেই দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছে। বিমান বন্দরে অরাজক ও বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এবং বেশ কজন মারাও গেছে। \হযদিও তালেবান নেতারা বলেছেন তাদের দুই দশক আগের শাসন আর এখনকার শাসন এক হবে না। তারা অনেকটা উদারপন্থা অবলম্বন করবে। ইতিমধ্যে তারা অপরাধীদের ব্যাপারে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। নারীদের ব্যাপারেও নাকি তারা উদার হবে। তালেবানদের কোন কথা সত্য আর কোন কথা মিথ্যা এটা নিশ্চিত হওয়া কঠিন। কারণ তারা উগ্রবাদী জঙ্গি সংগঠন। তাদের প্রথম শাসনের ইতিহাস আফগান জনগণসহ বিশ্ববাসীর জানা আছে। উলেস্নখ্য, ভূরাজনৈতিক দিক থেকে আফগানিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থানে এর অবস্থান। সুতরাং এখানকার রাজনীতি অস্থিতিশীল থাকলে এর প্রভাব অন্যান্য দেশেও পড়বে। আফগানিস্তানের মোট ৩৪টি প্রদেশ ও ৪২১টি জেলা রয়েছে। ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ শাসন ও শোষণ থেকে আফগানিস্তান মুক্তিলাভ করে। ১৯৬০ সালের দিকে রাজা জহির শাহের নেতৃত্বে আফগানিস্তান সব সূচকে উন্নয়নের শীর্ষে ছিল। ১৯৭১ সালে দাউদ খান বিদ্রোহ করে আফগানিস্তানে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। ১৯৭৮ সালে আফগানিস্তানে রাশিয়া সমর্থক কমিউনিস্ট পার্টির আরেকটি পাল্টা অভু্যত্থান ঘটেছিল। নতুন সরকার গঠিত হয়েছিল তবে কমিউনিস্ট পার্টির মূল বিষয় ভূমি সংস্কারের প্রশ্নে প্রচুর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত রাশিয়া কমিউনিস্ট সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আফগানিস্তানে সেনাবাহিনী প্রেরণ করেছিল, তবে তারা পরাজিত হয় এবং ১৯৮৯ সালে তাদের প্রত্যাহার করা হয়, যা পরে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের অন্যতম কারণ ছিল। সেই সময় তালেবান আমেরিকার প্রত্যক্ষ সহায়তায় আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের আধিপত্য রুখতে সক্ষম হয়। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসন চালানোর আগে এর বেশির ভাগ জায়গায় তালেবানের শাসন ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তালেবান সরকারের পতন হয়। ২০ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা তালেবান ধীরে ধীরে সামরিক শক্তি সঞ্চয় করে। বিশেষ করে প্রাদেশিক শহরগুলোর বাইরে তারা সংঘটিত হতে থাকে পুরোমাত্রায়। কারণ মার্কিন ও ন্যাটো সৈন্যদের নজরদারি ছিল কেবল শহরকেন্দ্রিক। যার কারণে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে অধিকাংশ শহর তারা দখলে নেয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আফগান বাহিনী কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে আফগান সেনা ও পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার দাবি করেছিল। কিন্তু ফলাফল শূন্য। সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর সহায়তা না থাকায় গত কয়েক দিন আফগান বাহিনী তালেবানের কাছে শুধু অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে। ইতিহাস বলে, ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের পর তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রতিরোধ শুরু হয়। জন্ম হয় তালেবানের। সশস্ত্র তালেবানের আবির্ভাব ঘটে ১৯৯৪ সালে, আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহারের আশপাশে। পশতু ভাষায় তালেব শব্দের অর্থ ছাত্র। আর তালেবান এর বহুবচন। বর্তমানে শব্দটি সংগঠনকে নির্দেশ করে। সোভিয়েত ইউনিয়নের সেনারা সরে যাওয়ার পর ও তাদের সমর্থিত সরকারের পতনের পর আফগানিস্তানের কয়েকটি গোষ্ঠীর মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল, তালেবান ছিল তার একটি। তালেবান সংগঠনের সবাই পশতু। ১৯৮০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে আফগান মুজাহিদিন নিয়ে একটি সংগঠন গড়ে ওঠে। আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করা সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে তারা লড়াই করে অনেককে আকৃষ্ট করেছিল। সংগঠন তৈরির দুই বছরের মধ্যেই তালেবান রাজধানী কাবুলসহ আফগানিস্তানের বেশিরভাগ অংশের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে তারা নিজেদের দখলকৃত অংশে ইসলামী আমিরাত ঘোষণা করে কট্টর শরিয়া আইন চালু করে। অন্যান্য মুজাহিদিন দল পিছু হটে দেশের উত্তরাঞ্চলে চলে যায়। ক্ষমতায় থাকাকালে পাঁচ বছরে আফগানিস্তানে তাদের নিয়ন্ত্রিত অংশে কঠোর শরিয়া আইন চাপিয়ে দিয়েছিল তালেবান। নারীদের যে কেবল পড়ালেখা বা চাকরি করার সুযোগ ছিল না তা-ই নয়, পুরুষ অভিভাবক ছাড়া তারা ঘরের বাইরেও বের হতে পারতেন না। জনসমক্ষে মৃতু্যদন্ড বা চাবুক মারা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। পশ্চিমা চলচ্চিত্র ও বই ছিল নিষিদ্ধ। ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম এমন সব সাংস্কৃতিক নিদর্শনও ধ্বংস করে ফেলা হয়েছিল। দুই দশক পর আবার আফগানিস্তানে ফিরেছে সেই বর্বর শাসন। এই দুই দশকের লড়াইয়ে মারা গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৪০০-এর বেশি সেনা। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার। হাজার হাজার আফগান নাগরিক মারা গেছেন এ লড়াইয়ে। উদ্বাস্তু হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। সাম্প্রতিক দিনগুলোতেও কয়েক লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছেন। \হ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে আল কায়দার হামলার পর নভেম্বরে উত্তরে থাকা ওই বাহিনীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক বিমান হামলার সহায়তা নিয়ে কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তালেবান যোদ্ধারা তখন আশ্রয় নেয় আফগানিস্তানের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায়। শুরু করে আফগান সরকার ও তাদের পশ্চিমা মিত্রদের বিরুদ্ধে ২০ বছরের দীর্ঘ লড়াই। সোভিয়েতের বিরোধিতা করতে গিয়ে তখন এই তালেবানকে সমর্থন দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তাদের মদদে ও অর্থায়নে ভয়ংকর জঙ্গিগোষ্ঠীতে পরিণত হয় তালেবান। তাদের সঙ্গে সখ্য হয় আল কায়দা, আইএসের মতো দুর্র্ধর্ষ জঙ্গিগোষ্ঠীর। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশয়ের কারণেই তালেবান এখন আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছে। যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান দোহা চুক্তি ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রম্নয়ারি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিই বর্তমান সংঘাতের প্রধান কারিগর। এই চুক্তি থেকে আফগানিস্তানের সরকারকে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। শুধু তাই নয়, আফগানিস্তানে শান্তি ও পুনর্মিলনে আগ্রহী একটি সংস্থাসহ বিশ্বের প্রতি তালেবানের অতীতের নৃশংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিষয়ে কোনো জবাবদিহি ছাড়াই তালেবানকে বৈধতা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ গড়ে ওঠা তালেবানের দোহা কার্যালয় সংগঠনটির ভাবমূর্তি উন্নতিতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করেছে। দোহা চুক্তি তালেবানকে সব দিয়েছে, যা তারা চেয়েছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার, তালেবান যোদ্ধাদের মুক্তি ও চলাফেলায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, তালেবানকে বৈধতা দান। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, কোনো কিছু না দিয়েই তালেবান সবকিছু পেয়েছে। ২০১৬ সালে তালেবানের অর্থভান্ডার নিয়ে একটি সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। তাতেই উঠে এসেছে চমকপ্রদ বেশ কয়েকটি তথ্য। এতদিন জানা ছিল মাদক পাচার, চাঁদাবাজি করেই নিজেদের খরচ জোগাড় করে নিজেরা। কিন্তু ২০১৬ সালের সমীক্ষা বলছে অন্য কথা। বিশ্বের ১০টি জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে সম্পদশালী হিসেবে তালেবানের স্থান পঞ্চম। শীর্ষে রয়েছে আইএস। তাদের বার্ষিক আয় ২ বিলিয়ন ডলার। আর তালেবানের বার্ষিক আয় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের আশপাশে। খননকাজ, মাদক পাচার, বিদেশি ত্রাণ, রপ্তানি, ট্যাক্স, রিয়েল এস্টেট- এ ছয়টি ক্ষেত্র থেকে অর্থ আসে। সবচেয়ে বেশি আয় হয় খননকাজ আর মাদক পাচার ( হেরোইনের প্রধান উপাদান পপি ফুল সবচেয়ে বেশি আবাদ হয় আফগানিস্তানে) থেকে। আর এ অর্থেই ফুলে ফেঁপে উঠেছে তালেবানের কোষাগার। তাতেই বদলেছে জীবনযাত্রা। পুরনো অস্ত্রের বদলে এখন তাদের হাতে ঝকঝকে পশ্চিমা অস্ত্র। পরনে ঐতিহ্যবাহী পোশাকই তবে নতুন। পুরো আফগানিস্তান তাদের দখলে। মনে রাখতে হবে, ২০০১ সালে পতনের পর থেকেই পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থনপুষ্ট কাবুল সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে তালেবান। সম্প্রতি আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আবার সামরিক উত্থান ঘটে তালেবানের। যুক্তরাষ্ট্রের বিদায় এবং আফগান সরকারকে হটিয়ে কাবুল দখলের মাধ্যমে তালেবানের ২০ বছরের এ লড়াই এখন সমাপ্ত হওয়ার পথে। তালেবান কাবুলে প্রবেশের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক বিবৃতিতে বলেন, আফগান সামরিক বাহিনী যদি নিজের দেশকে ধরে রাখতে না পারে, তাহলে আরও এক বা পাঁচ বছর দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির কোনো পার্থক্য নেই। তার কথার মধ্যে স্ববিরোধিতা রয়েছে। এদিকে, আফগানিস্তান নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি জরুরি বৈঠক ডাকতে কাজ শুরু করেছে রাশিয়া। এটা সত্য, কোনো দেশে জঙ্গিবাদের ক্ষেত্রে অবশ্যই রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা থাকে। বাংলাদেশ বর্তমানে জঙ্গিবাদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তাই তালেবানরা ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে বলে আমার মনে হয় না। ২০ বছর আগে বাংলাদেশে যে ধরনের স্স্নোগান দেওয়া হতো, আমরা হব তালেবান বাংলা হবে আফগান। এখন আর সেভাবে দেওয়ার সুযোগ নেই। জঙ্গিকেন্দ্রিক পরিস্থিতি অনেক পাল্টে গেছে। তবে বাংলাদেশকে নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান তালেবান আগের তালেবান না। আর বর্তমান আফগানিস্তান আগের আফগানিস্তান না। আগে তালেবানদের মধ্যে অনেক গোঁড়ামি ছিল। এখন তা তেমন নেই। গত ২০ বছরে তালেবানদের অনেক শিক্ষা হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে বলেছে, কোনো বিদেশি নাগরিকের ওপর হামলা করবে না এবং সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখবে। আগেও বলেছি, তাদের কতটা বিশ্বাস করা যায়। তাদের আগের শাসনামল কি বিশ্ববাসী ভুলে গেছে। \হমনে রাখতে হবে উগ্র মৌলবাদীরা নিজেরা তো অন্ধকারে থাকেই, চারপাশও অন্ধকার করে রাখে। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক রাষ্ট্রই তালেবানদের সঙ্গে গোপন আঁতাত করতে পারে। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর ধরে আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ চলছে। অর্ধশতাব্দীব্যাপী চলমান গৃহযুদ্ধে দেশ ও জনগণের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তালেবানের মতো উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর পুনরুত্থান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য হুমকি। পরমতসহিষ্ণু, উদার, গণতান্ত্রিক ও মানবিক আফগানিস্তান প্রতিষ্ঠা করতে এই উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে রুখে দাঁড়াতে হবে। সালাম সালেহ উদদীন : কবি কথাসাহিত্যিক সাংবাদিক প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে