রোববার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১

ম্যাগডেবারগ ওয়াটার ব্রিজ

অধ্যাপক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন
  ১৮ এপ্রিল ২০২৩, ১৮:০৩
ম্যাগডেবারগ ওয়াটার ব্রিজ

পৃথিবীতে ছড়িয়ে রয়েছে মানুষের জন্য অপার বিস্ময়। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের নির্মাণও আমাদের কম বিস্মিত করে না। তেমনই একটি সেতু ‘ম্যাগডেবারগ ওয়াটার ব্রিজ’।

আমরা জানি, সেতু তৈরি হয় মানুষ অথবা যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে। কিন্তু ম্যাগডেবারগ ওয়াটার ব্রিজের বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন। এই ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল নৌ-যান চলাচলের জন্য। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, যে নদীর ওপর এই ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল তার ওপর আড়াআড়ি বয়ে গেছে আরেকটি নদী!

জার্মানির রাজধানী বার্লিন হতে ১০০ মাইল পশ্চিমে ম্যাগডেবারগ শহরের অবস্থান। এই শহরের কোল ঘেঁষে বয়ে চলেছে স্বচ্ছ জলধারার মিডেলএন্ড নদী। এই নদীর ওপর সেতুটি তৈরির মূল উদ্দেশ্য বার্লিনের সঙ্গে রিনল্যান্ডের যোগাযোগ সহজ করা। এবং সে উদ্দেশ্যেই সেতুটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয় ১৮৭০ সালে। তবে পরিকল্পনা হলেও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে তখন সেতুটি নির্মাণ করা যায়নি। এরপর ১৯৩০ সালের দিকে আবার সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে বন্ধ হয়ে যায় কাজ। এরপর ১৯৯৭ সালে তৃতীয় বারের মতো সেতুর কাজ পুনরায় শুরু হয়। এবং সব বাধা পেরিয়ে কাজ শেষ হয় ২০০৩ সালে।

সেতুটির দৈর্ঘ্য ৯১৮ মিটার, উচ্চতা ৬৯০ মিটার। এটি মোটেই কোনো সাধারণ সেতু নয়। এর উপর দিয়ে পানি প্রবাহের জন্য একটি কৃত্রিম খাল রয়েছে। খালের দৈর্ঘ্য ৩৪ মিটার এবং গভীরতা ও ৪.২৫ মিটার। এর নির্মাণযজ্ঞও বিশাল। বলা হয়ে থাকে, সেতু তৈরিতে প্রায় ২৪ হাজার মেট্রিক টন স্টিল এবং ৬৮ হাজার ঘনমিটার কংক্রিট ব্যবহার করা হয়েছিল। খরচ পড়েছে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ইউরো।

সেতুটি মূলত এলবি এবং মিডেলএন্ড নামক দুটি নদীকে সংযুক্ত করেছে। এটি রিনল্যান্ড ও বার্লিনের মধ্যে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করার অন্যতম মাধ্যম। অর্থাৎ এই সেতু দিয়ে ভারী কোনো যানবাহন নয়, চলাচল করে বাণিজ্যিক জাহাজ, স্টিমার, লঞ্চ ইত্যাদি।

‘ওয়াটার ব্রিজ’ মূলত যেসব নৌ-পথে বিভিন্ন মালামাল পরিবহন করা হয় সেগুলোকে বলে। সেদিক দিয়ে ম্যাগডেবারগ ওয়াটার ব্রিজ কিছুটা ভিন্ন। কারণ এর নিচ দিয়ে বয়ে গেছে আরেকটি নদী। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু শুধু বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে না, ভূমিকা রাখছে পর্যটন খাতেও। দেশী-বিদেশী পর্যটক এই সেতু দেখতে ভিড় জমান এবং বিষয়টি উপভোগ করে।

লেখক: নিরাপত্তা বিশ্লেষক, কলামিস্ট, পরিচালক, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ, প্রকল্প পরিচালক বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,জামালপুর, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মাগুরা জেলা শাখার শিক্ষা ও মানব সম্পদ সম্পাদক এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদ মাগুরা জেলা শাখার সদস্য সচিব।অধ্যাপক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন

যাযাদি/এসএস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
X
Nagad

উপরে