বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১

‌‘রাজশাহীতে সাঈদ প্রার্থী হলেও বিএনপির নেতা-কর্মীরা ভোট দিতে যাবে না'

রাজশাহী অফিস
  ০৬ মে ২০২৩, ১০:০৭
‌‘রাজশাহীতে সাঈদ প্রার্থী হলেও বিএনপির নেতা-কর্মীরা ভোট দিতে যাবে না'

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে মত ব্যক্ত করেছে দলটি। তবে এই নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন বিএনপি নেতা সাঈদ হাসান। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফার ভাই।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন সাঈদ হাসান। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা আছে। আমি সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছি। নির্বাচন করলে দলীয় বাধা আসবে। আবার নির্বাচনে জনগণের রায়ের প্রতিফলন হবে কিনা, সেটিও একটা ব্যাপার। সবকিছু মিলিয়ে আমি ভাবছি। পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।’

সাঈদ হাসান রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। রাজশাহী কলেজের ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) ছিলেন তিনি। পরে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি হন। সবশেষ ২০১১ সালে মহানগর বিএনপির (মিজানুর রহমান মিনু সভাপতি ও শফিকুল হক মিলন সাধারণ সম্পাদক) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তবে পরবর্তী কমিটিতে জায়গা না পেয়ে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান ধনাঢ্য ব্যবসায়ী এই বিএনপি নেতা।

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম তোলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ও সাঈদ হাসান। বিএনপি দু’জনকেই মনোনয়ন দেয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দু’জনেই মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। পরে মিনুর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা হলে সাঈদ নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

সাঈদের ভাই নাদিম এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তিনি রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে দু’বার বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি।

নাদিমের ভাই সাঈদ রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে লড়বেন, নগরে এমন আলোচনা কয়েক দিন ধরেই চলছিল। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের একাংশ কৌশলে সাঈদকে প্রার্থী করছে বলেও আলোচনা রয়েছে। সাঈদ হাসান ছাড়াও মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট এবং মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন ছিল।

২০১৮ সালের সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। বুলবুলের সঙ্গে সেবার দলীয় মনোনয়ন ফরম তুলেছিলেন সুইট। তাই তাকে ঘিরেও এবার আলোচনা ছিল। যদিও প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের বিষয়টি পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন সুইট ও মিলন।

সাঈদের প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈসা বলেন, ‘সাঈদ তো বিএনপির কমিটিতে নেই। আর বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছে। সাঈদ প্রার্থী হলেও আমাদের কিছু আসে যায় না। আমরা তো ভোটই দিতে যাব না।’

এ নিয়ে রাজশাহীতে এখন পর্যন্ত মেয়র পদে প্রার্থী হতে চারজন ঘোষণা দিয়েছেন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, জাতীয় পার্টি মনোনীত নগরের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম স্বপন, ইসলামী আন্দোলনের মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুরশিদ আলম ফারুকী ও বিএনপি নেতা সাঈদ হাসান। এদের মধ্যে তিনজন দলীয় মনোনয়নে এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চান।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে