বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

৫ সিটি নির্বাচনকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ

সোহেল হায়দার চৌধুরী
  ০৬ মে ২০২৩, ১০:১২
৫ সিটি নির্বাচনকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ

দেশের ৫ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ইস্যুতে হার্ডলাইনে অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এসব নির্বাচনে দল মনোনীত কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নেতা-কর্মীদের ক্ষমা করা হবে না। বিশেষ করে মেয়র প্রার্থীদের সামান্যতম বিরোধিতা করা হলেও ক্ষমা পাবেন না কেউ।

এছাড়া দল সংশ্লিষ্ট কোনো কাউন্সিলর প্রার্থী যদি মেয়র প্রার্থী বা নৌকার ভোট না চেয়ে শুধুমাত্র নিজের ভোট চান, তবে তাকেও বিপদে পড়তে হবে। ভবিষ্যতে দলীয় পদ-পদবি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। সর্বোপরি এসব নির্বাচনে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় কোনো নেতার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ যোগাযোগ থাকলে-তারাও রেহাই পাবেন না।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ৫ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সেই লক্ষ্যে পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে দলটি। প্রতিটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রক্রিয়া দলের পক্ষ থেকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নেতাদের গতিবিধি নজরদারি ও পর্যালোচনা চলছে। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এরপর বিশেষভাবে নজর রাখা হচ্ছে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর। গাজীপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মকাণ্ড এবং বরিশালে নতুন প্রার্থী ঘোষণার রেশ ধরে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে নিবিড় পর্যালোচনা চলছে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী মহলে। গাজীপুরে ২৫ মে, আর বরিশাল ও খুলনায় ১২ জুন এবং রাজশাহী ও সিলেটে ২১ জুন সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সূত্র ধরে রাজনৈতিক মহলে এখন গাজীপুর সিটি করপোরেশনে বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তার কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা যেমন বিরক্ত, তেমনি কর্মীরা বিব্রত। আর প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তার ও তার মায়ের মনোনয়নপত্র জমা এবং পরবর্তী কর্মকাণ্ড ভালোভাবে নেননি আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা। তারা মনে করছেন, দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থা নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে যেমন বিতর্কিত করছেন, তেমনি বিরোধী দলের হাতে আন্দোলনের নতুন অস্ত্র তুলে দিচ্ছেন। যা জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের জন্য বিতর্ক তৈরি করবে। ফলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর তার বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী বহিষ্কারের মতো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হতে পারে।

এর সত্যতা পাওয়া গেছে, আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের কথায়। বৃহস্পতিবার রাতে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীর আলম দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার পরও শেখ হাসিনা তাকে একবার সাধারণ ক্ষমা করেছেন। ক্ষমা চেয়ে তিনি তার আবেদনে উল্লেখ করেছিলেন, বাকি জীবনে আওয়ামী লীগের শৃঙ্খলা পরিপন্থি কোনো কাজ করবেন না। সেটির ব্যত্যয় ঘটিয়ে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। ফের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন, এ অপরাধে জাহাঙ্গীর আলমকে শাস্তি পেতেই হবে।’

ওই দিন গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়নের আমতলী ছুটি রিসোর্টে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ কর্মিসভায় অংশ নিয়ে মির্জা আজম আরও জানান, জাহাঙ্গীরের বিষয়ে গত মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও গাজীপুরের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সেখানে সবাই একমত হয়েছেন যে, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে অথবা তিনি জানাবেন, কখন কী করবেন।

মির্জা আজম এ সময় আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লা খানের পক্ষে কারা কাজ করছেন না, সেটিও নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। যেসব কাউন্সিলর শুধু নিজেদের ভোট চাইবেন, নৌকার ভোট চাইবেন না, তারা ওয়ার্ড, থানা, মহানগর কোথাও কোনো পদ পাবে না।’ এ কর্মিসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লা খান ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নতুন প্রার্থী ঘোষণার পর সেখানে বর্তমান মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ বিরোধীরা মহানগরীতে যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, সেটিও ভালোভাবে নেয়নি আওয়ামী লীগের শীর্ষমহল। দলটির নেতারা মনে করছেন, সেখানে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ ছাড়াও যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো দলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না। এরই মধ্যে ঘটে যাওয়া ওইসব বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে কেন্দ্র থেকে সংশ্লিষ্ট নেতাদের ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নবঘোষিত মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত) ও বর্তমান মেয়রের অনুসারীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সংযত আচরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়