logo
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০ ১১ কার্তিক ১৪২৭

  সাখাওয়াত হোসেন   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০  

উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত উপেক্ষিত

অবৈধ স্থাপনার একটিও সরেনি দীর্ঘ ১৫ মাসে

কোনো কোনো ভবন মালিক সেখানে গুদাম তৈরি করে অতিদাহ্য রাসায়নিক পদার্থ মজুত করছেন। এতে ওইসব ভবনে অগ্নিকান্ডসহ যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি থাকছে। রাজউকের নজরদারির অভাবে এ ধরনের অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে বলে অভিযোগ রয়েছে

ঢাকা মহানগরীর ব্যস্ততম প্রধান প্রধান সড়ক সংলগ্ন বহুতল ভবনের নিচে গড়ে ওঠা চিহ্নিত ২৮৫টি অবৈধ স্থাপনা এক মাসের মধ্যে ভেঙে ফেলতে উচ্চ আদালত কঠোর নির্দেশ দিয়েছিল ১৫ মাস আগে; কিন্তু রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর একটিও উচ্ছেদ করতে পারেনি। এমনকি এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দীর্ঘ সময়েও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বিভিন্ন এলাকার সুউচ্চ ভবনের বেজমেন্টে নতুন করে আরও অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে। এতে একদিকে যেমন ওইসব ভবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনি কার পার্কিং সংকটে আশপাশের সড়কে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলেন, রাজউকের নকশা অনুযায়ী প্রতিটি বহুতল ভবনের বেজমেন্টে বিদু্যতের সাব-স্টেশন এবং জেনারেটর ও গার্ডরুম তৈরির পর বাকি অংশটুকু গাড়ি রাখার জন্য ফাঁকা রাখার নিয়ম রয়েছে। অথচ নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক সংলগ্ন অধিকাংশ অ্যাপার্টমেন্টের বেজমেন্টে অবৈধভাবে দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট, শো-রুম, ছোটখাটো কারখানা, এমনকি ক্লিনিক তৈরি করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো ভবন মালিক সেখানে গুদাম তৈরি করে অতিদাহ্য রাসায়নিক পদার্থ মজুত করছেন। এতে ওইসব ভবনে অগ্নিকান্ডসহ যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি থাকছে। রাজউকের নজরদারির অভাবে এ ধরনের অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

তবে রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দাবি, বেজমেন্ট দখল করে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা অধিকাংশ ভবন মালিক রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়। এছাড়া রাজউকের জনবল সংকট রয়েছে প্রচুর। এরপরও বিভিন্ন সময়ে রাজউক এ ধরনের কিছু ভবনের অবৈধ অংশ অপসারণ করে

পার্কিং স্পেস ফিরিয়ে আনলেও মালিকপক্ষ আবারও তা মেরামত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়। বেজমেন্ট দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলাদের তালিকায় কিছু সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানও রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা মহানগর ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক সংলগ্ন বিপুলসংখ্যক বহুতল ভবনের বেজমেন্টে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলায় সেখানকার বাণিজ্যিক ও আবাসিক বাসিন্দা এবং তাদের কাছে আসা বহিরাগতদের গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকছে। এতে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে যে ২৮৫টি ভবনের অবৈধ স্থাপনার কারণে নগরীতে সবচেয়ে বেশি যানজট সৃষ্টি হচ্ছে সেগুলোর তালিকা করে তা উচ্ছেদের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের মাঝামাঝি রাজউক স্বল্প পরিসরে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করলেও নানা প্রতিবন্ধকতায় তা বন্ধ হয়ে যায়।

তবে গত বছরের ৩ জুলাই উচ্চ আদালত থেকে এসব অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলতে ভবন মালিকদের এক মাসের সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা সে নির্দেশ না মানলে ছয় মাসের মধ্যে রাজউককে তা উচ্ছেদের নির্দেশ দেয় আদালত। অথচ আদালতের নির্দেশনার পর দীর্ঘ ১৫ মাস পেরিয়ে গেলেও ভবন মালিকদের কেউই তা মানেননি। এমনকি রাজউকও এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেজমেন্টে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা ২৮৫ ভবনের তালিকায় রাজধানীর মিরপুর-১১, পূরবী হল সংলগ্ন শরত ম্যানশন, মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের ১০ নম্বর সড়কের ১ নম্বর পস্নটে গড়ে ওঠা 'কারী ফ্যামলী' শপিং মল, আলমাস টাওয়ার, মুক্তবাংলা শপিং কমপেস্নক্স, রবিউল পস্নাজা, বাগদাদ শপিং কমপেস্নক্স, প্রিন্স বাজার এবং প্রিন্স হোটেল, বাটা বাজার, প্রিন্স ফাস্টফুড, মুক্তি পস্নাজা, মুক্তিযোদ্ধা হক পস্নাজা, ইসলাম পস্নাজা ও সুইডেন পস্নাজা, উপমা পস্নাজা ও পাটোয়ারি টাওয়ারের নাম রয়েছে।

মতিঝিল জোনের আদমজী কোর্ট এনএক্স, উত্তরা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জনতা ব্যাংক প্রধান কার্যালয়, পূবালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়, অগ্রণী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়, এশিয়া টাওয়ার, ঢাকা ব্যাংক প্রধান কার্যালয়, সিটি ব্যাংক, রুপালী ব্যাংক, এস্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, আমিনকোর্ট, করিম চেম্বার, টয়োটা বিল্ডিং।

ওয়ারী জোনে সালাউদ্দিন ভবন, নবারুন ভবন, রাসেল সেন্টার, শুভেচ্ছা পস্নাজা, মামুন পস্নাজা, দেলোয়ার কমপেস্নক্স ও মোতালেব ম্যানশন।

সবুজবাগ জোনের যেসব ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- বেঙ্গল নিটেক্স, মমতাজ মেমোরিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আপডেট ডেন্টাল কলেজ, হোটেল যামিনী, ম্যাপস ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কমলাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও নাহার টাওয়ার।

তেজগাঁও এলাকার মধ্যে রয়েছে- ফার্মগেটের মালেক টাওয়ার, কনকর্ড সেন্টার, সামিট ভবন, জালালাবাদ ভবন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন, ট্রেড সেন্টার, খান সন্স সেন্টার, লা-ভিঞ্চি হোটেল, পলস্নী ভবন, আলী ভবন, বাবুল টাওয়ার, তিতাস গ্যাস ভবন, বিটিএমসি ভবন, যমুনা টাওয়ার, সুমনা গনি ট্রেড সেন্টার, রয়েল টাওয়ার ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর।

শেরেবাংলা নগর জোনের বেগম রোকেয়া সরণির প্রবাল কমিউনিটি সেন্টার, শেওড়াপাড়ার মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ঢাকা ডিপেস্নামা মেডিকেল, হাতিল ফার্নিচার, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক, সামী ট্রেডার্স, চাইল্ড অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, গ্রামীণ ফোন, জনতা বহুমুখী সমবায় সমিতি, বৈশাখী মার্কেট, কো-অপারেটিভ মার্কেট, ক্যাপিটাল টাওয়ার, ল্যাবএইড লিমিটেড, শাহআলী শপিং কমপেস্নক্স, মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেট এবং ফেয়ার পস্নাজা রাজউক অনুমোদিত পার্কিং লট অবৈধভাবে ভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে।

গুলশান জোনের সিদ্দিক টাওয়ার, স্কয়ার সেন্টার; বাড্ডা জোনের ফুজি টাওয়ার, হোসেন সুপার মার্কেট, প্রাণ আরএফএল টাওয়ার, সমশের গ্রম্নপ, কাজী শপিং সেন্টার এবং উত্তরা জোনের চ্যাম ফায়ার রেস্টুরেন্ট, বস্ন্যাক রোজ হোটেল ও কুশল সেন্টারের গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ধানমন্ডি জোনের ফাতেমা আর্কিড, ধানমন্ডি পস্নাজা, আলতা পস্নাজা, জুবাইদা সুপার মার্কেট, লেকভিউ সুপার মার্কেট, ব্রাদার্স ম্যানশন, মাওলা বিল্ডিং, এসএস স্টিল চাইনিজ, জিয়াজিন চাইনিজ, এশিয়া প্যাসিফিক ইঞ্জিনিয়ার, প্রাইম ব্যাংক, কাকলী উচ্চ বিদ্যালয়, আলমাস শপিং মল, উৎসব রেস্তরাঁ, কোতোয়ালি জোনের সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেট, আমিন সুপার মার্কেট, বায়তুল সমির ইন্টারন্যাশনাল হোটেল, জাহাঙ্গীর টাওয়ার, গ্রেট ওয়ান সুপার মার্কেট, সুলতানা সুপার মার্কেট এবং শাহবাগ জোনের গুলিস্তানের রমনা ভবনের নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা নেই।

নিউমার্কেট জোনের জহির এসি মার্কেট, ডা. তুহিন মলিস্নক মার্কেট, মিনিতা পস্নাজা, আমেন ম্যানশন, মনসুর ভবন, হোটেল ডি আমাজান, সানরাইজ ভবন, গফুর ম্যানশন, জাহানারা ভবন, বাটা বাজার, বাটা ক্রসিং, খাইরুননেছা ম্যানশন, বদরুদ্দোজা মার্কেট, হকার্স মার্কেট, নূরজাহান সুপার মার্কেট, চিশতিয়া মার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, রাফিন পস্নাজা, বাবু শাহ মার্কেট, চন্দ্রিমা মার্কেট, গোল্ডেন গেট শপিং সেন্টার এবং গেস্নাব শপিং সেন্টারের রাজউক অনুমোদিত নকশায় পার্কিং স্পেস থাকলেও বাস্তবে তা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সবুজবাগের নন্দীপাড়া মেইন রোডের ১১৪৪ হোল্ডিংয়ের ভবনের বেজমেন্ট খাবারের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ভাড়া দেওয়া হয়েছে। রমনা থানার নিউ বেইলি রোডের ৪১/এ, ১৩২ ও ১৪৩/২ সিদ্ধেশ্বরী হোল্ডিংয়ের ভবন, ৩নং নিউ সার্কুলার রোডের ইঞ্জিনিয়ার মোতালেব মোনা টাওয়ার, ৯১নং হোল্ডিংয়ের আহম্মেদ মেজবাহ উদ্দিন পস্নাজা ও ৮ নিউ বেইলি রোডের নাছরিন ভিলার গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে