সংকটের আবর্তে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষামন্ত্রীকে অভিযুক্ত করে বেরোবি উপাচার্যের বক্তব্য কলিমউলস্নাহর বক্তব্য 'রুচিবিবর্জিত':শিক্ষা মন্ত্রণালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা
সংকটের আবর্তে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ঘিরে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। চলছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর পরস্পরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমুলস্নাহ। একই সময়ে বেরোবিতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্যকে অবাঞ্চিত করেছে স্থানীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ। অন্যদিকে বিকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বেরোবি উপাচার্য ডক্টর কলিমউলস্নাহর বক্তব্য অনভিপ্রেত, অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রুচিবিবর্জিত।

নিজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বেরোবি উপাচার্য রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর আশ্রয়, প্রশ্রয় ও আশকারায় এ পরিস্থিতি হয়েছে। তার পরামর্শে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির বিরুদ্ধে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সকাল ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বসিয়ে রাখার অভিযোগ তুলে বেরোবির ভিসি কলিমুলস্নাহ আরও বলেছেন, তিনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা দেখা করতে গেলে সকাল ১০টার অনুষ্ঠানে তিনি এসেছিলেন বিকাল ৪টায়। উপাচার্যদের পুরোটা দিন তার

\হজন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। সেটা খুবই 'অসৌজন্যমূলক' কাজ হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনই এমনটি ঘটেনি।

এদিকে গতকাল বিকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের স্বাক্ষরিত মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'কলিমউলস্নাহর বক্তব্য রুচিবিবর্জিত। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে দোষারোপ করে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউলস্নাহ যেসব বক্তব্য দিয়েছেন সেটিকে অনভিপ্রেত, অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রুচিবিবর্জিত।'

অন্যদিকে বেরোবিতে এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্যকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান। তিনি বলেন, 'আমরা তার দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছর পর অভিযোগ করেছি। কিন্তু তিনি (ভিসি) সংবাদ সম্মেলনে আগের ভিসিকে দোষ দিচ্ছেন। তাহলে দুই বছরে তিনি কী করলেন? তার সময়েই তো নকশা পরিবর্তনসহ যত দুর্নীতি হয়েছে। তার নিকটাত্মীয়দের দিয়ে ভার্সিটি ভরিয়ে ফেলেছেন। নিজের কাছের লোক দিয়ে যতসব অনিয়ম করেই চলেছেন।'

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে নানা ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে অনুরোধ জানানো হয়। ইউজিসি তাদের নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত সম্পন্ন করে মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠায়। ইউজিসি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তাই এ প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ে মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে নাজমুল আহসান কলিমউলস্নাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ছাড়া অধ্যাপক কলিমউলস্নাহ শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে কিছু ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য রেখেছেন, যা নিতান্তই অনভিপ্রেত।'

গত ২৫ ফেব্রম্নয়ারি ইউজিসি বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমুলস্নাহসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এ সংক্রান্ত সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে গত দু'দিন আগে। এর পরই গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর কলিমুলস্নাহ শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে উপরোক্ত অভিযোগ করে কথা বলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমুলস্নাহ বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে আমার দায়িত্ব গ্রহণের পর নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করে বিশ্ববিদ্যালয়টি যখন গুণগত ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সে মুহূর্তে সত্যকে আড়াল করে এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে মর্মাহত করেছে। যদিও ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা পাইনি। চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার আগেই এ বিষয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করছে এবং এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন্ন হচ্ছে।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে উপাচার্য কলিমুলস্নাহ, দায়িত্বে অবহেলা করাটা চরিত্রের মধ্যে নেই দাবি করে বলেন, 'আপ্রিতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দৈনিক ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা কাজ করি, মাত্র দুই ঘণ্টা ঘুমাই।' তিনি আরও বলেন, 'আমার পরিচিত সবাই জানেন, আমি একজন কাজপাগল মানুষ। দায়িত্বে অবহেলা আমার চরিত্রে নেই। বাংলাদেশের যে প্রান্তেই থাকি না কেন আমি বেরোবির উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী উপাচার্যের পদ আবাসিক নয়, রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব আবাসিক।'

অধ্যাপক ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউলস্নাহ বলেন, এ ধরনের জায়গা (ইউজিসিকে তদন্তের নির্দেশ) থেকে এমন অভিযোগ তোলা রাজনৈতিক অপকৌশল। এ সময় তিনি নিজের এলাকার সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, এসবের পেছনে কুমিলস্না ও চাঁদপুরের রাজনীতি আছে। কারণ তাদের দুজনের (শিক্ষামন্ত্রী ও উপাচার্যের) বাড়ি একই অঞ্চলে।

সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল আহসান কলিমউলস্নাহ বলেন, তিনি আজ ঝেড়ে কেশে বলার জন্যই বসেছেন এবং এজন্য তার পরিণতি কী হবে- সেটা বিবেচনা করেই এসেছেন। ইউজিসির দেওয়া প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে উপাচার্য বলেন, ইউজিসির প্রতিবেদন কেন এমন হয়েছে, তার জন্যও পরিপূর্ণভাবে দায়দায়িত্ব শিক্ষামন্ত্রীর। তার পরামর্শে তদন্ত কমিটি এমন আচরণ করেছে। ইউজিসির মর্যাদা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাজমুল আহসান কলিমউলস্নাহ।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামাল, কয়েকজন প্রকৌশলী এবং কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন।

উপাচার্য কলিমুলস্নাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ, বেরোবির ছাত্রীদের আবাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নামে 'শেখ হাসিনা হল' এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বামীর নামে প্রতিষ্ঠিত ডক্টর ওয়াজেদ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের জন্য ভবন নির্মাণে ৭৮ কোটি ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্পের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক একেএম নূর-উন-নবী।

অভিযোগ ওঠে, ২০১৭ সালের ১৪ জুন ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমুলস্নাহ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর প্রকল্পের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ তদারকির জন্য উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী মঞ্জুর কাদেরকে পরিকল্পনা, উন্নয়নে ও ওয়ার্কস কমিটির সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রকৌশলী মঞ্জুর কাদের উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েটের স্বত্বাধিকারী।

কিছুদিন পর আইন ও চুক্তি লঙ্ঘন করে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আর্কিট্যাক্ট মনোওয়ার হাবিব ও প্রাকৃত নির্মাণ লিমিটেডের কার্যাদেশ বাতিল করে প্রকৌশলী মঞ্জুর কাদেরকে দ্বিতীয় পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে আর্কিট্যাক্ট মনোওয়ার হাবিবকে নানাভাবে ভয়ভীতিও দেখানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এরই মধ্যে শেখ হাসিনা ছাত্রী হলের মূল নকশা পরিবর্তন করে একটি অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ ভবন নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

ড. ওয়াজেদ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ভবনের নির্মাণ ব্যয় ২৬ কোটি ৮৭ লাখ থেকে বাড়িয়ে ধরা হয় ৬১ কোটি টাকা। ৫১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে শেখ হাসিনা ছাত্রী হলের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১০৭ কোটি। অন্যদিকে মূল ডিপিপিতে পরামর্শক ফি না থাকলেও বর্তমানে উপাচার্য সেই খাতে ৪০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এরপর ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের নানা অসঙ্গতি নজরে এলে ইউজিসিকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মঞ্জুরি কমিশন ২০২০ সালের ১৭ ফেব্রম্নয়ারি ইউজিসির সদস্য ডক্টর মুহাম্মদ আলমগীরকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ডক্টর ফেরদৌস জামান এবং অতিরিক্ত পরিচালক ডক্টর দুর্গা রানী সরকার। ইউজিসি এ তদন্ত কমিটি করে পুরো বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত শেষে ২৫ ফেব্রম্নয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়।

উপাচার্যকে ক্যাম্পসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

আমাদের রংপুর প্রতিনিধি আবেদুল হাফিজ জানান, রংপুর বেগরোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউলস্নাহকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে বঙ্গবন্ধু পরিষদ। ঢাকায় বেরোবি উপাচার্যের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বেরোবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বলেন, 'উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউলস্নাহ রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা অমান্য করে ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক অনুপস্থিতি, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া, ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে জনবল নিয়োগ, শিক্ষক ও জনবল নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়ম, নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ভিসি হয়েও অনুপস্থিতি থাকা, নিরাপত্তাহীন ক্যাম্পাস, ইচ্ছেমতো পদোন্নতি, আইন লঙ্ঘন করে একাডেমিক প্রশাসনিক পদ দখল ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় নীতিমালা লঙ্ঘন, উপাচার্যের অননুমোদিত ও অনিয়মতান্ত্রিক ফাউন্ডেশন ট্রেইনিং, ঢাকাস্থ লিয়াজোঁ অফিসে অতিরিক্ত খরচ, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, চরম শিক্ষক সংকটসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত। ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ায় তিনি ঢাকায় বসে মিথ্যাচার করেছেন।'

সংবাদ সম্মেলনে বেরোবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, 'ভিসি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীকে আক্রমণ করে কথা বলেছেন। স্পিকারসহ সরকারের কর্তাদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন। এমনকি ইউজিসির বিষয়েও বাজে মন্তব্য করেছেন। সরকারের উন্নয়নসহ সবকিছুর বিষয়েই তিনি বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য করেছেন। তাই তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। অতিসত্বর এসব মন্তব্যের জন্য ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আমরা বাধ্য হব।'

'উপাচার্যের মদদে যেসব অনিয়ম-দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে এবং উপাচার্য নিজেও যেভাবে আইন অমান্য করে চলছেন, তাতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নসহ পড়াশোনার পরিবেশ স্থবির হয়ে পড়েছে। দুর্নীতিবাজ উপাচার্যের শাস্তিসহ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রত্যাহার করা হোক', যোগ করেন বেরোবি শিক্ষক মশিউর রহমান।

এ সময় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি এইচ এম তরিকুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডক্টর আব্দুল লতিফ ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে