মুগদা মেডিকেল হাসপাতাল

৩৫ ডায়ালাইসিস মেশিনের ১৭টিই অকেজো

৩৫ ডায়ালাইসিস মেশিনের ১৭টিই অকেজো

রাজধানীর সরকারি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৫টি ডায়ালাইসিস মেশিনের মধ্যে ১৭টিই দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে আছে। এতে করে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে আসা অনেক রোগীর নিয়মিত ডায়ালাইসিস সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

মুগদা হাসপাতালে ডায়ালাইসিস নিতে আসা একাধিক রোগীর স্বজন যায়যায়দিনকে বলছেন, কিডনি বিকল অনেক ব্যক্তির পরিবারের পক্ষে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে ডায়ালাইসিসের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই। তাছাড়া করোনাকালে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধির সংক্রমণ ঝুঁকি থাকায় দূরের হাসপাতালে যাওয়াও কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবাসরত কিডনি রোগীদের জন্য সরকারি এই হাসপাতালটিতে তুলনামূলক কম মূল্যে সেবা মেলার সুযোগ ছিল। কিন্তু দিনের পর দিন একাধিক মেশিন অকেজো থাকায় ডায়ালাইসিস করাতে আসা রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে।

হাসপাতাল-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মার্চে মুগদা হাসপাতালের ৯ তলায় অবস্থিত ডায়ালাইসিস ইউনিটের ১৩টি মেশিন অকেজো হয়ে যায়। এপ্রিলে এই সংখ্যা ১৭টিতে দাঁড়ায়। হাসপাতালের উদ্যোগে কিছু মেশিন মেরামতের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করা হলেও কয়েক দিন পর আবার তা নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া করোনাকালে কিডনি রোগীদের জন্য হাসপাতালের পৃথক কক্ষে সাতটি মেশিনে দৈনিক ১৪ জনকে ডায়ালাইসিস দেওয়া হলেও ২টি মেশিন অকেজো হয়ে পড়ায় বর্তমানে ৫টি ব্যবহার হচ্ছে। এই ইউনিটে জনবলেরও সংকট রয়েছে।

\হএ ব্যাপারে হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইনচার্জ শাহিনুর আকতারের কাছে জানতে চাইলে তিনি যায়যায়দিনকে বলেন, কিডনি বিকল রোগীদের জন্য তাদের ৩৫টি ডায়ালাইসিস মেশিন আছে। এর মধ্যে ১৩টি অকেজো রয়েছে। মেশিনগুলো চালু করতে প্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য প্রশাসনিক দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে। মেশিন দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত ন্যাশনাল ইলেকট্রো মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (নিমিউ অ্যান্ড টিসি) থেকে ইঞ্জিনিয়ার এসে দুইবার করে দেখে গেছে। কয়েকটি মেশিন সার্ভিসিং করে দিয়ে গেছে। ডায়ালাইসিস ইউনিটে দুই শিফট হওয়ায় শিডিউল পেশেন্ট বা নিয়মিত ডায়ালাইসিসের রোগী এলে কাউকেই চিকিৎসা ছাড়া ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে করোনা রোগী বাড়লে চাপ বাড়বে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নেফ্রোলজি বিভাগের একজন চিকিৎসক বলেন, কিডনি অকেজো রোগীদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য ডায়ালাইসিস স্পেশালাইজ্‌ড চিকিৎসা হওয়ায় কোনোভাইাবেই ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। মেশিন অকেজো হওয়ায় রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই। ওই চিকিৎসক বলেন, ডায়ালাইসিস ইউনিটের চিকিৎসক-নার্স-টেকনিশিয়ানরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, নিমিউ অ্যান্ড টিসি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ধীর গতির কারণে রোগীদের ভোগন্তি বাড়ছে। ফলে শিডিউলভুক্ত পুরনো রোগী ছাড়া নতুন রোগী এলেও মেশিন সংকটে ফিরে যেতে হচ্ছে। সিরিয়াস রোগীদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ ইউনিট) একটা মেশিন রাখা হয়েছে, সেখানে ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অনেক আগেই জানানো হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. অসীম কুমার নাথ যায়যায়দিনকে বলেন, অকেজো মেশিনগুলো মেরামতের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান নিমিউকে চিঠি দিয়ে জানানোর পর তারা দেখে ঠিক করে দেবে বলছিল। পরে ফান্ড স্বল্পতার কথা বলে মেরামত করা সম্ভব নয় জানিয়ে আমাদের কাছে একটা চিঠি দিয়েছে। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণলায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী সব তথ্য দেওয়া হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় অনুমতি দিলে হাসপাতাল থেকে ফি এন্ট্রি (কমপ্রেহেনসিভ মেইনটেনেন্স কনট্রাক্ট)সহ তিন বছরের জন্য একটি ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হবে। যাতে করে ভবিষ্যতে মেশিনগুলো নষ্ট হলেও হাসপাতাল নয়, মন্ত্রণালয় মেরামত করে দেবে। এই প্রক্রিয়ায় কাজ এগোচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার এই হাসপাতালের ডায়ালাইসিসের একটি প্রকল্প হাতে নিয়ে নিয়েছে। এই প্রজেক্টে ৫০টি মেশিন সমৃদ্ধ একটা আধুনিক মানের ডায়ালাইসিস ইউনিট হবে। যেটা বাস্তবায়ন হতে এক থেকে দুই বছর লাগতে পারে।

উলেস্নখ্য, কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রতি বছর ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হচ্ছে। এর মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ কিডনি রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। বাকি ৮০ শতাংশ রোগী চিকিৎসার অভাবে মারা যায়। শুধু তা-ই নয়, গত ১০ বছরে দেশে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ার প্রভাবে কিডনি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে