পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স

দ্রম্নত পাল্টে যাচ্ছে হাসপাতালের চিত্র

দ্রম্নত পাল্টে যাচ্ছে হাসপাতালের চিত্র

সারাদেশে সরকারি হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। কিছু দিন আগেও পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সও এর ব্যতিক্রম ছিল না। কিন্তু দ্রম্নত পাল্টে যাচ্ছে পাকুন্দিয়া হাসপাতালের সেই চিত্র। একসময়ের ময়লা আর্বজনা ও দুর্গন্ধে ভরা যে হাসপাতালে ঢোকা ছিল দায়, এখন তা ঝকঝকে, চকচকে ও দুর্গন্ধমুক্ত। আগে যেখানে প্রায়ই চিকিৎসকরা করতেন প্রাইভেট প্র্যাকটিস। এখন সকাল ৮ বাজলেই তাদের ঢুকতে হচ্ছে হাসপাতালে। কেউ যাচ্ছেন রাউন্ডে, কেউবা রোগী দেখছেন আউটডোরে বা নিজস্ব কক্ষে। এক নাগাড়ে থাকতে হচ্ছে দুপুর ২টা পর্যন্ত। ক'দিন আগেও ঔষধ কোম্পানির সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ, ক্লিনিক, প্যাথলজি ওষুধের দোকানের দালালদের গায়ে ধাক্কা না খেয়ে ঢোকা যেত না সরকারি এ হাসপাতালে। এখন প্রায় দালালমুক্ত এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সটি। কিন্তু রাতারাতি সব অনিয়ম-অব্যাস্থাপনা দূর করে দৃশ্যপট পাল্টে যাওয়ার কারণ কি? সবার প্রশ্ন কোন জাদুতে এমনটি হলো?

তথ্যনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৮ ফেব্রম্নয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে এই উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন ডা. নূর-এ-আলম খান। আর এর পরপরই পাল্টে গেছে গোটা হাসপাতালের চিত্র।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর-এ-আলম খান যোগদানের পর তিনি হাসপাতালের চিকিৎসকসহ সব বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিজ নিজ দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতন করেছেন। তার একান্ত চেষ্টায় চালু করেছেন অপারেশন থিয়েটার। স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে নিরাপত্তা ও অপরাধ রোধে স্থাপন করা হয়েছে সর্বমোট ১৪টি সিসি ক্যামেরা। চালু করা হয়েছে সার্বক্ষণিক বিদু্যৎ সরবরাহের জন্য আধুনিক জেনারেটর, নতুন ডেল্টা চেয়ার, এক্স-রে মেশিন। চালু করেছেন একটি করে আধুনিক কেবিন, এসি কেবিন ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত এসি কেবিন। এ ছাড়াও চালু করেন শিশুদের জন্য আইএমসি কর্নার, এনসিডি কর্নার, মায়েদের জন্য এএনসি কর্নার, জরায়ু মুখের ক্যানসার পরীক্ষার জন্য ভায়া কর্নার।

স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের আকুণ্ঠ সহযোগিতায় তিনি সরকারি এ হাসপাতালে শতভাগ স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য জিরো ট্রলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছেন। সে মোতাবেক দায়িত্ব অবহেলাকারীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। যে কারণে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত হয়েছে। চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সময়মতো হাসপাতালে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ দিয়ে হাসপাতাল থেকে দালালমুক্ত করার কার্যক্রম চলছে। যে কারণে গোটা হাসপাতালে চিত্রই এখন পাল্টে গেছে।

এ বিষয়ে ডা. নূর-এ-আলম খান বলেন, ভালো কাজ করতে গেলে বাধা আসবেই। তিনি দায়িত্ব নেওয়া আগে সেই বাধা অতিক্রম করার ক্ষমতা অর্জন করেছেন। তাছাড়া নিজের চাওয়া-পাওয়া ত্যাগ করলে সব সময় ভালো কাজে সমর্থন পাওয়া যায়।

তিনি সর্বস্তরের পাকুন্দিয়াবাসীর সহযোগিতা নিয়ে এ হাসপাতালটিকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়ে প্রাথমিক সফলতা অর্জন করেছেন। তার সঙ্গে আবাসিক মেডিকেল অফিসার, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সর্বস্তরের পাকুন্দিয়াবাসীর আকুণ্ঠ সহযোগিতা করেছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে