রাঙ্গাবালী ও রামগতিতে জোয়ারের পানি বেড়ে পস্নাবিত কয়েক গ্রাম

রাঙ্গাবালী ও রামগতিতে জোয়ারের পানি বেড়ে পস্নাবিত কয়েক গ্রাম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও পূর্ণিমার জোয়ারে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী এবং লক্ষ্ণীপুরের রামগতিতে বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। এতে পস্নাবিত হয়েছে লঞ্চঘাটসহ কয়েকটি গ্রামের লোকালয় ও নিম্নাঞ্চল। চরম দুর্ভোগে রয়েছেন সেখানকার মানুষ। প্রতিনিধিদের পাঠানো বিস্তারিত খবর-

আমাদের রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর ভাঙা বাঁধ দিয়ে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও পূর্ণিমার জোয়ারের পানি ঢুকে পস্নাবিত হয়েছে পাঁচটি গ্রাম। অনেক আগ থেকেই ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধ দিয়ে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে জোয়ারের পানি ঢুকে উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের মধ্য চালিতাবুনিয়া, গরুভাঙা, চিনাবুনিয়া, চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা চরমন্ডল লঞ্চঘাট ও ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের লঞ্চঘাট এলাকা পস্নাবিত হয়েছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়া মানুষের দিন কেটেছে চরম বিপাকে।

মৎস্য বিভাগের তথ্য বলছে, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে ১০০টি পুকুর এবং ২৬টি ঘেরের মাছ। অন্যদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, ৬৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। বীজতলা করা হয়েছে এক হজার ২৫৫ হেক্টরে। ওইসব আমন ক্ষেত টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে এখন পানিতে নিমজ্জিত।

চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একে সামসুদ্দিন আবু মিয়া বলেন, চরমোন্তাজ ইউনিয়নে প্রায় ৪৫ হাজার লোকের বসবাস। ইউনিয়নটির সাগরের একেবারে কাছে হলেও অনেক স্থানে নেই কোনো বেড়িবাঁধ। যার ফলে জোয়ারের সময় পানি প্রবেশ করতে শুরু করে।

এদিকে আমাদের রামগতি (লক্ষ্ণীপুর) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, লক্ষ্ণীপুরের রামগতিতে মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পস্নাবিত হয়ে পড়েছে। হঠাৎ ঝড়োহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে মেঘনার জোয়ারে পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট বেড়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলার তীরবর্তী এলাকা এবং চরাঞ্চলের চর আবদুল্যা, চরগজারিয়া তেলিরচর ও বয়ারচরসহ নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ সময় জোয়ারের স্রোতে সহস্রাধিক কাঁচাঘরে পানি উঠে। এসব এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়ক, হাটবাজারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় ও শ্রেণি কক্ষে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে। এতে পাঠদানসহ শিক্ষার্থীদের চলাচলের ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শরীফ চৌধুরী।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে মেঘনায় জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৪ ফুট বেড়ে যায়। বেড়িবাঁধ না থাকায় তীরবর্তী বালুরচর, সুজনগ্রাম, জনতা বাজার, মুন্সীরহাট, সেবাগ্রাম, চরআলগী, বড়খেরী, চরগাজী, চরগজারিয়া, চর মুজাম্মেল ও তেলিরচর এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়।

উপজেলার বড়খেরী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাসান মাকসুদ মিজান জানান, জোয়ারে তীরবর্তী ১, ২, ৩, ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাসকারী সহস্রাধিক পরিবার বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। ঘরে পানি প্রবেশ করায় রান্নার চুলা ডুবে থাকায় লোকজন চরম খাদ্য সংকটে পড়েছেন।

চরআলগী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটন চৌধুরী জানান, তার ইউনিয়নের কয়েকশ' কাঁচা বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এলাকার অনেক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

ইউএনও এসএম শান্তুনু চৌধুরী বলেন, গত দুইদিন মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে