বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১

পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগর গড়ার প্রতিশ্রম্নতি প্রার্থীদের

কুমিলস্না সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচন
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিলস্না
  ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০০:০০

প্রায় ১৩ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কুমিলস্না সিটি করপোরেশন। ইতোমধ্যে এ সিটির ৩টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। এসব নির্বাচনের আগে 'গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন' সিটিসহ পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগর গড়ার প্রতিশ্রম্নতি দিয়েছেন অনেকে। কিন্তু দীর্ঘসময় নগর উন্নয়ন, যানজট-জলাবদ্ধতা নিরসন, সৌন্দর্য বর্ধনসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নামে রাষ্ট্রের টাকা ব্যয় হলেও নগরবাসীর দুর্ভোগ পিছু ছাড়েনি। পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন তো দূরের কথা রাস্তাঘাট, খাল, ড্রেন দখল করে অপরিকল্পিত ও অনুমোদনহীন আকাশ ছোঁয়া বিল্ডিং নির্মাণ, যানজট ও জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে আগের মতোই। এ ছাড়া যত্রতত্র পার্কিং, অবৈধ স্ট্যান্ড ও সরু রাস্তা নগরবাসীকে ভোগাচ্ছে নিত্যদিন। নেই ময়লা-আবর্জনা ফেলার আধুনিক পর্যাপ্ত ডাস্টবিনসহ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

এবার সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে নগরের সচেতন ভোটাররা প্রার্থীদের কাছ থেকে এসব সমস্যা সমাধানের দাবি জানান। স্থানীয় ভোটারদের দাবি, এসব সমস্যা সমাধানে বারবার প্রতিশ্রম্নতি দিলেও বাস্তবায়ন করেননি কেউ। আগামী ৯ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য মেয়র পদের উপনির্বাচনে যিনি বিজয়ী হবেন, তিনি যেন কথা ও কাজের মিল রাখেন। সেটা মাথায় রেখে তারা এবার যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেবেন। এদিকে মঙ্গলবার প্রচার-প্রচারণার ৫ম দিনে চার মেয়র প্রার্থী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, উঠান বৈঠক করেছেন। তারা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। নির্বাচনকে ঘিরে এসব প্রার্থী ও তাদের নেতারা ভোটারদের কাছে টানতে দিচ্ছেন নানা ধরনের প্রতিশ্রম্নতি।

প্রার্থীদের প্রচারণা ও গণসংযোগ

মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাস প্রতীকের প্রার্থী- নগর আওয়ামী লীগ সমর্থিত ডা. তাহসিন বাহার সূচনা মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুমিলস্না সিটি কর্পোরেশনের ৪ ও ৫নং ওয়ার্ডের কাপ্তানবাজার, মোগলটুলি এলাকায় গণসংযোগ করেন। বিকালে তিনি কাপ্তান বাজার বেপারি পুকুর পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কুমিলস্না হাইস্কুল মাঠে পৃথক উঠান বৈঠক করেন। তিনি বলেন, 'যেখানে যাচ্ছি গণসংযোগে আমি ভালো সাড়া পাচ্ছি। বিশেষ করে নারী শ্রেণি থেকেও আমি ভালো সাড়া পাচ্ছি। কুমিলস্নাতে নগরমাতা নয়, নগরকন্যা হয়ে যেন আপনাদের পাশে দাঁড়াতে পারি।' ৯ মার্চ সকালে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে বাস মার্কা প্রতীকে ভোট দিয়ে উন্নয়ন বাসের যাত্রী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে বিভিন্ন পেশার বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষসহ সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটে। এতে মহানগর আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এদিকে, টেবিল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু নগরীর রেইসকোর্স, ইস্টার্ন এয়াকুব পস্নাজা এলাকায় গণসংযোগ করেন। বিকালে বিষ্ণুপুর, থিরাপুকুরপাড়, কালিয়াজুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় রোডে প্রার্থী ও তার সহধর্মিণী আফরোজা জেসমিন টিকলি উঠান বৈঠক করেন।

অন্যদিকে, ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার নগরীর লক্ষ্ণীনগর, চৌয়ারা বাজার ও বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেন। তিনি বলেন, 'আমি নগরের সেবক হয়ে জনগণের সেবা করতে চাই। একটা দায়িত্ব পেলে এবং জনগণ যদি আমাকে নির্বাচিত করে তাহলে ব্যাপক আকারে মানুষের জন্য কাজ করতে পারব।'

এ ছাড়া হাতি প্রতীকের প্রার্থী নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম নগরীর মাটিয়ারা, পাঠানকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেন। এসময় তিনি বলেন, ইভিএম পদ্ধতিতে কারচুপি করার সুযোগ নেই। তবে একজন প্রার্থীর লোকজন ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তারা ভোট খোঁজে না, তারা পোস্টার ছিঁড়ে। পোস্টার ছেঁড়ার রাজনীতি বন্ধ করুন, না হয় জবাব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বেকার তরুণদের কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়নে নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে নগরবাসীর সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে