logo
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১০ আশ্বিন ১৪২৭

  যাযাদি রিপোর্ট   ৩০ জুলাই ২০২০, ০০:০০  

মুদ্রানীতি ঘোষণা

অর্থের জোগান বাড়ানোর উদ্যোগ

করোনাভাইরাস সংকটে অর্থের জোগান বাড়াতে রেপো ও রিভার্স রেপোর সুদহার আরও এক দফা কমিয়ে 'সম্প্রসারণমুখী' নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আগের বছরেরটাই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, এতেই বেসরকারি খাত এগিয়ে যাবে। তাই নতুন মুদ্রানীতিতে চলতি অর্থবছরের জন্য আগের বছরের ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও গত অর্থবছরে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।

বুধবার সরকারের নির্ধারিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সাধারণত সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। করোনাভাইরাসের কারণে এবার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া শুধু ওয়েবসাইটে মুদ্রানীতির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আগে প্রতি ছয় মাসের আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করলেও গত অর্থবছর থেকে তা এক বছরের জন্য করা হচ্ছে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশে আটকে রাখতে চেয়েছে সরকার।

ব্যাংকগুলো যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার করে, তখন তার সুদহার ঠিক হয় রেপোর মাধ্যমে। মুদ্রানীতিতে রেপোর হার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ করা হয়েছে। আর রিভার্স রেপোর মাধ্যমে বাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখে। এক্ষেত্রে সুদহার ৭৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেপোর (পুনঃক্রয় চুক্তি) সুদ কমলে ব্যাংকগুলো কম খরচে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তহবিল পাবে। তাতে তারা কম সুদে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ঋণ দিতে পারবে। অন্যদিকে রিভার্স রেপোর সুদহার কমানোর অর্থ হলো, ব্যাংকগুলোকে চাপ দেওয়া, যাতে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকা ফেলে রেখে মুনাফা না তুলে ব্যবসা ও উদ্যোগে বিনিয়োগ বাড়ায়।

ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে লিখিত বক্তব্যে ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য হলো চলমান করোনাভাইরাসজনিত মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে আর্থিক খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নির্ধারণ করা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর বলেন, করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন বিনিয়োগ জোরদারকরণে বেসরকারি খাতে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধি পর্যাপ্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২০-২১ এর মুদ্রানীতি ভঙ্গিকে স্পষ্টতই সম্প্রসারণমূলক ও সংকুলানমুখী উলেস্নখ করে গভর্নর জানান, মুদ্রানীতির মূল কাজ হলো মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে স্বাভাবিক অর্থাৎ কোভিড-১৯ পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।

প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাকে দুটির যোগফল থেকে প্রাপ্ত নমিনাল বা বাজারমূল্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এর সঙ্গে অর্থের আয় গতির পরিবর্তন সমন্বয় করে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহের (যা মুদ্রানীতির মধ্যবর্তী লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত) প্রয়োজনীয় প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয় ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

২০২০-২১ অর্থবছরে বৈদেশিক লেনদেন খাতের সম্ভাব্য গতিধারা বিবেচনা করে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহের অন্যতম উপাদান ব্যাংক ব্যবস্থার নিট বৈদেশিক সম্পদের প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের (১০ দশমিক ২ শতাংশ) তুলনায় অনেক কম।

এ অর্থবছরে নিট বৈদেশিক সম্পদের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সম্প্রসারণমূলক ও সংকুলানমুখী মুদ্রানীতি ভঙ্গির কারণে নিট অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ।

এর মধ্যে সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৪ দশমকি ৮ শতাংশ। কিন্তু মহামারির ধাক্কায় এই প্রবৃদ্ধি এ যাবৎকালের সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ পর্যায়ে নেমে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানে গত ১০ বছরের বেসরকারি খাতে ঋণের তথ্য পাওয়া যায়। তাতে দেখা যায়, গত অর্থবছরের মতো এত কম প্রবৃদ্ধি এক দশকে হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের ইতিহাসেই সর্বনিম্ন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি সরকারি খাতের তুলনায় কম দেখালেও টাকার অঙ্কে বেসরকারি খাতের জন্য প্রক্ষেপিত মোট ঋণের পরিমাণ সরকারি খাতের তুলনায় অনেক বেশি হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবার মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করেছে। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য গৃহীত সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অর্থের সরবরাহ নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে সিআরআর ও রেপো সুবিধা হারে পরিবর্তন আনয়ন, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয়ের ওপর গুরুত্বারোপ এবং বিভিন্ন নতুন পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালুর পাশাপাশি ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালুকরণের মতো পদক্ষেপসমূহ কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে