সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
walton

বাসস্ট্যান্ডের অভাবে ভোগান্তি বেড়েছে কুয়াকাটায়, যানজটে দুর্ভোগে পর্যটকরা

এসএম আলমাস, কুয়াকাটা(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি
  ০৮ মার্চ ২০২৩, ১২:১৬
ছবি-যাযাদি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা এখন বাংলাদেশের অন্যতম একটি জনপ্রিয় পর্যটন নগরী। সাগরকন্যাখ্যাত এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি দেখতে পুরো বছর জুড়েই কুয়াকাটা আসছে হাজার হাজার পর্যটক।আগে তেমন বেশি পর্যটক না আসলেও বর্তমানে বছরের পুরো সময়টা জুরেই পর্যটকে টইটুম্বুর থাকছে কুয়াকাটা।

আর এই পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য বাস, মিনিবাস সহ বিভিন্ন যানবাহনগুলো মহাসড়ক ও কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট এলাকায় যত্রতত্র পার্কিং করায় সার্বক্ষণিক যানজটে নাকাল থাকে কুয়াকাটা। তবে কুয়াকাটায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে বাস টার্মিনাল নির্মানের কাজ হাতে নেয়ার পরে বছর পার হলেও এখনও কাজ শেষ না হওয়ায় প্রতিদিনই দুর্ভোগ বাড়ছে পর্যটক ও স্থানীয়দের।

যারফলে রাস্তার ওপরে যত্রতত্র পার্কিং করা হচ্ছে বাস, মিনিবাস,পর্যটকবাহী বাস ও দূরপাল্লার পরিবহন সহ নানা ধরনের ছোট-বড় গাড়িগুলো।এমনকি গাড়ি ঘুরানোর ফলে পর্যটক সহ ছোট ছোট যানবাহন গুলো স্বাভাবিক ভাবে চলতে পারছে না। এতে পর্যটক সহ সাধারন মানুষের চলাফেরায়ও বিগ্নতা ঘটছে,যে কোন সময় ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে পর্যটক ও স্থানীয়রা।

জানা যায়, ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ১৩ কোটি ছয় লাখ টাকা ব্যয়ে বাস টার্মিনাল নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কুয়াকাটা পৌর এলাকা সংলগ্ন মহাসড়কের পাশেই তুলাতলীতে ছয় একর জমিতে বাস টার্মিনালটি নির্মিত হচ্ছে। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে ২০২২ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা সম্পূর্ণ করতে পারেনি পৌর কর্তৃপক্ষ।

কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটক রায়হান কবির অভি বলেন, আমরা কুয়াকাটায় পৌঁছানোর আগেই আমাদের বাস থামিয়ে দিলো। পরিবারের ছোটবড় এবং ব্যাগপত্র নিয়ে হোটেল পর্যন্ত পৌঁছাতে খুব কষ্ট হয়েছে। কিন্তু যদি বাস টার্মিনাল থাকতো তাহলে হয়তো পরিবার নিয়ে রাস্তায় নামতে হতো না।এভাবে চলতে থাকলে কুয়াকাটা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে পর্যটকরা।

বাস চালক ফারুক হোসেন বলেন, আমি বহুবছর ধরে এই রাস্তায় গাড়ি চালাই কিন্তু বর্তমানে কুয়াকাটায় পর্যটকের চাপ বাড়ায় বাস পার্কিং করতে হিমশিম খাচ্ছি। প্রতিদিন যে সংখ্যাক গাড়ি আসছে কুয়াকাটায়- সে পরিমান পার্কিং সুবিধা নেই এখানে। তাই যত দ্রুত সম্ভব বাস টার্মিনাল দরকার।

ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা(টোয়াক) এর প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, কুয়াকাটায় নির্দিষ্ট কোন বাস টার্মিনাল না থাকায় পর্যটক সহ আমরা স্থানীয়রা চরম ভোগান্তীতে রয়েছি। তবে আমরা জানি ইতিমধ্যে বাস টার্মিনালের কাজ শুরু হয়েছে কিন্তু ধীর গতিতে কাজ চলায় কবে নাগাদ শেষ হবে তা বুঝতে পারছি না ।

কুয়াকাটা পৌর সভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, বাস টার্মিনালের জন্য আমরা জমি অধিগ্রহন করেছি এবং গাইডওয়াল থেকে শুরু করে বালু ভরাট এর কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন ভবন এবং কার্পেটিং এর কাজ চলছে, স্থানীয় ও পর্যটকদের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখেই আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই টার্মিনালের কাজ শেষ করতে। তবে আপাতত জনদুর্ভোগ কমাতে অস্থায়ী ভাবে রাস্তার পাশে একটি খালি ফসলের মাঠে পার্কিং করাচ্ছি বাসগুলো।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে