শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

ফেনী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি

তিল ধারণের ঠাঁই নেই, চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে
ফেনী প্রতিনিধি
  ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:৫০

ফেনীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে তিল ধারণের ঠাঁই নেই।

পুরো হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের ভিড়  লেগেই আছে। এতে যেমন বেড়েছে শব্দদূষণ, তেমনি বেড়েছে রোগী ও স্বজনদের বিড়ম্বনা।টানা দুই সপ্তাহ ধরে এ অবস্থা বিরাজ করছে ।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা  আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ডায়রিয়া, জ্বর, ঠাণ্ডা, শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। তারা জানান,এর মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধ রোগী বেশি।

এ অবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তবে হাসপাতালে দর্শনার্থী প্রবেশে পাসকার্ড বাধ্যতামূলক থাকায় রোগীর স্বজনদের চাপ কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সরজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের মেঝেতে রোগী, বারান্দায় রোগী এমনকি প্রবেশপথের সামনেও বেঞ্চ বসিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।

পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ২৬ জন রোগীর স্থলে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭৩ জন, শিশু ওয়ার্ডে গিয়েও দেখা যায় একই অবস্থা। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৪ জনের স্থলে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৪১ রোগী। নির্ধারিত কক্ষের বারান্দায়ও স্থান না পেয়ে বাইরে চেয়ারে বসিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকেই।

মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ২৬টি আসনের বিপরীতে এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭৫ জন রোগী। ইউনিটে রোগীর নির্ধারিত শয্যার ডানে, বামে, মাথার পাশে ও পায়ের পাশে মেঝেতে অতিরিক্ত শয্যা লাগিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অনেক রোগী ইউনিটের মেঝেতেও স্থান না পেয়ে বারান্দা ও প্রবেশপথে শয্যা বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সেবা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় তেমন কোনো ওষুধ দেয়া হচ্ছে না। রোগীর সমস্যায় নার্সস্টেশনে খবর দিলেও তারা আসতে চান না। এছাড়া দিনে মাত্র একবার চিকিৎসক পাওয়া গেলেও বাকি সময় জরুরি বিভাগ ছাড়া পরামর্শ পাওয়া যায় না। এ সময় নার্সদের ওপরই ভরসা রাখতে হচ্ছে।

তবে চিকিৎসকরা জানান, প্রায় সব চিকিৎসককে ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত রোগী দেখে তারপর বহির্বিভাগে রোগী দেখতে হয়। কিন্তু গত কয়েকদিন ওয়ার্ডে ও বহির্বিভাগে রোগী বেড়েছে। নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মাঝে বেশির ভাগই জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। বহির্বিভাগের রোগীদের বেশির ভাগই চোখের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিনিয়র নার্স জানান, ২৬ জন রোগীর স্থলে ৭৫ জন রোগীকে সেবা দিতে নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে। রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে যে পরিমাণ জনবল দরকার তা ইউনিটে নেই। তার পরও আমরা সাধ্যানুযায়ী রোগীর সেবা দিয়ে আসছি। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী রোগীদের ওষুধও দেয়া হচ্ছে। তবে এ বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় কম থাকায় সব রোগীকে ওষুধ দেয়া সম্ভব হয় না।

হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আসিফ ইকবাল জানান,জেলার সর্ববৃহৎ এই হাসপাতালে বছরজুুড়েই শয্যার অতিরিক্ত রোগীর চাপ থাকে। মৌসুমি আবহাওয়াগত কারণে গত কয়েকদিন মেডিসিন, শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে তিন-চার গুণ রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালে জনবল সংকট থাকার কারণে রোগীদের চাহিদামতো সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তার পরও কর্তব্যরত চিকিৎসক-নার্সসহ সবাই আন্তরিকভাবে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৮২ সালে ৫০ শয্যা নিয়ে যাত্রা করে ফেনী সদর হাসপাতাল। পরে রোগীর ভিড় সামলাতে না পেরে ১৯৯৯ সালে ‘আধুনিক সদর হাসপাতাল’ নাম ধারণ করে এটিকে ১০০ শয্যায় সম্প্রসারণ করা হয়। ২০০৫ সাল থেকে ১৫০ শয্যা ও ২০১৩ সাল থেকে এ হাসপাতাল ২৫০ শয্যায় রূপান্তর করা হয়। কিন্তু অদ্যাবধি ১৫০ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল।

এদিকে  ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের  সুপারেন্টেন্ডেন্ট বা  তত্বাবধায়ক ডাঃ আবুল  খায়ের  মিয়াজি  বলেন, রোগীর  অতিরিক্ত  চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।  একদিকে  লোকবলের সংকটে  রয়েছে  হাসপাতাল। তদুপরি আবহাওয়ার কারণে  রোগবালাই বেড়েই চলেছে। তারপরেও  আমরা  সাধ্যমতো প্রচেষ্টা  চালিয়ে যাচ্ছি।


যাযাদি/এসএস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে