রোববার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১

চুয়াডাঙ্গা খাদ্য গুদামে আসা গমের ৬ ট্রাকের মধ্যে ২৮টি বালির বস্তা

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা
  ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১১:৫৯
আপডেট  : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:০২

চুয়াডাঙ্গা খাদ্য গুদামে আসা গমভর্তি ট্রাকের মধ্যে মিলেছে বালির বস্তা আর পাথর। রোববার দুপুরে ট্রাক থেকে গম আনলোডের সময় বালির বস্তার সন্ধান পাওয়া যায়। মুলত বালির বস্তা আর পাথর দিয়ে ওজন বেশি দেখিয়ে বরাদ্দকৃত গমের পরিমান কম দেয়ার কারসাজি করেছিল । অবশেষে ধরা পড়ে গেছে তাদের এই কারসাজি।

এ ঘটনা অনুসন্ধানে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে।

খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা গেছে, ভোরে খুলনা থেকে গমভর্তি ৬টি ট্রাক এসে পৌঁছায় চুয়াডাঙ্গা জেলা খাদ্য গুদামে। দুপুরে ট্রাকভর্তি সেসব গম আনলোডিং শুরু হয়। গম নামানোর সময় প্রথমে একটি ট্রাকে পাওয়া যায় ৬টি বালির বস্তা। পরে প্রতিটি ট্রাক খুঁজে বের করা হয় ২৮ টি বালির বস্তা ও ৪টি বড় বড় পাথরের টুকরো।

চুয়াডাঙ্গা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, সরকারি বিভিন্ন খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ৩শ টন গম চুয়াডাঙ্গায় বরাদ্দ হয়েছে। এই চালানে প্রায় ১শ টন গম ভোররাতে এসে পৌঁছায়। এরপর ট্রাকেভর্তি গমের পরিমাণ নির্ণয় করে নামানো শুরু হয়। একপর্যায়ে ট্রাকের ভেতর থেকে পাওয়া যায় বালির বস্তা। ধারনা করা হচ্ছে, ট্রাক থেকে গম চুরি করে ওজন ঠিক রাখতে বালি আর পাথর দিয়ে তা সমন্বয় করার চেষ্টা ছিল।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক একেএম শহীদুল ইসলাম বলেন, খুলনার ৪নং ঘাট থেকে গম লোড হয়েছিল। সেখান থেকে বালির বস্তা ট্রাকে তোলার কোন সুযোগ নেই। রাস্তার মধ্য থেকে এমন কোন কারসাজি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারনা তার।

তিনি আরো জানান, গতকাল রোববার একটি ট্রাক আনলোড করে ওজন দিয়ে ৭’শ কেজি গম কম পাওয়া গেছে । সাথে সাথে বিষয়টি বিভাগীয় পর্যায়ে জানানো হয়েছে। যেহেতু ঠিকাদাররা বিভাগীয় পর্যায়ের সুতারাং বিভাগীয় ভাবেই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাকি ৫টি ট্রাক সোমবার ওজন দেয়া হবে। একেক জন ঠিকাদারের ২ টি করে ৬ টি ট্রাকে গমের চালান চুয়াডাঙ্গা এসেছে।

তারপরও ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে আলমডাঙ্গা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রয়ক কর্মকর্তা আব্দুল হামিদকে প্রধান করে গঠন করা হয়েছে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটিকে আগামী এক কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছে ওই ৬ ট্রাকের চালক-সহকারী। তাদের দাবি, রাস্তার মধ্যে কোথাও মালামাল নামানো-ওঠানোর ঘটনা ঘটেনি। খুলনা থেকে সরাসরি চুয়াডাঙ্গায় এসেছে তারা। গমের সরবরাহকারী ঠিকাদার হলো- খুলনার জোনাকী পরিবহন, সরদার এন্টারপ্রাইজ ও সানরাইজ জুট ট্রেডার্স।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে