logo
শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

তীব্র নিন্দা ফিলিস্তিনের

ইসরাইলি বসতির বৈধতা দিল যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে তেল আবিব এমন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের বিপরীত :মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র

ইসরাইলি বসতির বৈধতা দিল যুক্তরাষ্ট্র
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসলাইলিদের বসতি
ইসরাইলের দখল করা ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর নিয়ে অবস্থান পাল্টে সেখানে তেল আবিবের বসতি স্থাপনকে বৈধতা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন বলেছে, বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে 'অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়'। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও পশ্চিম তীরের বসতি নিয়ে ওয়াশিংটনের এ অবস্থান পরিষ্কার করেন। দখলকৃত ওই এলাকাটি নিয়ে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের দরকষাকষির সুযোগ ছিল বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। সংবাদসূত্র : আল-জাজিরা, বিবিসি

সাংবাদিকদের পম্পেও বলেন, 'সব পক্ষের আইনি যুক্তি সাবধানতার সঙ্গে পর্যালোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে, পশ্চিম তীরে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ইসরাইল যে বসতি স্থাপন করছে, আদতে তা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।' তিনি বলেন, 'বেসামরিক নাগরিকদের বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলাটা কাজে দেয়নি; এটি শান্তির দিকে অগ্রগতিতে ভূমিকাও রাখেনি।'

পম্পেও বলেন, ১৯৭৮ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি স্থাপন 'আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়' বলে যে আইনি মত দিয়েছিল, তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আর মানতে বাধ্য নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এ অবস্থানকে স্বাভাবিকভাবেই স্বাগত জানিয়েছে ইসরাইল। তবে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিন।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদিনাহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত 'সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক আইনের বিপরীত'। ওই মুখপাত্র আরও বলেন, 'আন্তর্জাতিক আইনের সিদ্ধান্ত বাতিল করার যোগ্য বা কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র নয়। ইসরাইলি বসতি স্থাপনের আইনি বৈধতা দেওয়ার কোনো অধিকারও তাদের নেই।'

১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরাইল আরব দেশগুলোর যে এলাকাগুলো দখলে নিয়েছিল, সেখানে তারা একের পর এক আবাসিক এলাকা তৈরি করছে; এগুলোকেই 'বসতি' হিসেবে অভিহিত করা হয়। বসতি স্থাপন নিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে ফিলিস্তিন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিরোধও দীর্ঘদিনের। ২০১৬ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সর্বশেষ সিদ্ধান্তেও বলা হয়েছিল, চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘন করায় ইসরাইলের এই বসতি নির্মাণ অবৈধ।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্ত 'বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও শান্তির' ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ফিলিস্তিনের প্রধান মধ্যস্থতাকারী সায়েব এরাকাতও। নতুন এ মার্কিন অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনকে 'জঙ্গলের আইনে' প্রতিস্থাপনের হুমকিতে ফেলেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অবশ্য বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান বদল 'ঐতিহাসিক ভুলকে ঠিক করেছে'। তিনি অন্যান্য দেশকেও যুক্তরাষ্ট্রের পথ অনুসরণের আহ্বান জানান। পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীর দখলের পর থেকে এ পর্যন্ত অধিকৃত এলাকাগুলোতে ১৪০টির মতো বসতি স্থাপন করেছে তেল আবিব; এই বসতিগুলোতে ছয় লাখের মতো ইহুদি বসবাস করে আসছে। আন্তর্জাতিক আইনে তেল আবিবের এ বসতিগুলোকে 'অবৈধ' হিসেবে দেখা হলেও ইসরাইল শুরু থেকেই তা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল।

যে ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখে আসছে ফিলিস্তিনিরা, এসব বসতিকে তার পথে অন্যতম বড় বাধা উলেস্নখ করে দীর্ঘদিন ধরেই এসব বসতি অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছে তারা। ১৯৭৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের প্রশাসন 'দখলকৃত অঞ্চলে ইসরাইলের বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ' এমন অবস্থান নেয়। তিন বছর পর, ১৯৮১ সালে এসে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান ওই অবস্থানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, বসতি স্থাপনকে 'মজ্জাগতভাবে অবৈধ' বলে মনে করেন না তিনি।

এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের বসতি স্থাপনকে 'অবৈধ' না বলে 'অনুচিত' বলে আসছে; এ বসতির বিরোধিতায় জাতিসংঘের যেকোনো প্রস্তাবে ইসরাইলের পক্ষ হয়ে 'ভেটো' দিয়ে আসছে তারা। ২০১৬ সালে অবৈধ ইসরাইলি বসতি নির্মাণ বন্ধে জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবে 'ভেটো' না দিয়ে ওবামা প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের এই চর্চায় ছেদ ঘটায়।

তবে ট্রাম্প এসে পূর্বসূরির ইসরাইল বিষয়ক নীতি একেবারেই উল্টে দেন। তিনি জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি মার্কিন দূতাবাসও সেখানে সরিয়ে নেন। দখলকৃত এলাকায় তেল আবিবের বসতি স্থাপন নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের সুর আগের প্রশসানের তুলনায় অনেক নরম। এর মাধ্যমে দখলকৃত অঞ্চলে তেল আবিবের বসতি স্থাপন নিয়ে ট্রাম্প তার পূর্বসূরি বারাক ওবামার পুরোপুরি বিপরীতধর্মী অবস্থান নিলেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে