logo
বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  বিনোদন রিপোটর্   ০২ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

মাঝপথেই থেমে যাচ্ছে সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র

মাঝপথেই থেমে যাচ্ছে সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র
হাডসনের বন্দুক চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্য
সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র নিয়ে অভিযোগ-আপত্তির শেষ নেই। প্রায় প্রতিবছরই সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র নিয়ে দলীয়করণসহ ওঠে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ। শুধু তাই নয়, অনুদান পাওয়ার পর সেসব চলচ্চিত্র নিমার্ণ হচ্ছে কিনা- তারও কোনো মনিটরিং হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। কারণ দীঘর্ কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে, অনুদান পাওয়ার পর অনেক চলচ্চিত্রই নিমার্ণ হয় না। কোনো কোনো নিমার্ণ শুরু করলেও মাঝপথেই থেমে যাচ্ছে। প্রতিবছরই ৫-৬টি করে চলচ্চিত্র নিমাের্ণর জন্য অনুদান দেয় সরকার। কিন্তু চলচ্চিত্র মুক্তি পায় মাত্র দুই কিংবা তিনটি। আর বাকি চলচ্চিত্রগুলোর কোনো হদিস মেলে না। কয়েকবছর ধরে অনুদানের চলচ্চিত্র মুক্তি না পাওয়ার ঘটনা বেশি ঘটতে দেখা যাচ্ছে। ২০১৬-১৭ অথর্বছরে ৬টি চলচ্চিত্র নিমাের্ণর জন্য অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। ২৯ মে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

কিন্তু খেঁাজ নিয়ে জানা গেছে, তার মধ্যে যেকটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে তার বেশিরভাগই কোনো সিনেমা হলে নয়, প্রদশির্ত হয়েছে শিল্পকলা কিংবা শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরিতে। ৫ হাজার টাকা প্রজেক্টর ভাড়া নিয়ে মাত্র ১৫-২০ জন দশর্ককে দেখানো হচ্ছে। আর বাকি চলচ্চিত্রগুলোর নাম লেখা হচ্ছে গায়েবি খাতায়। এসব বিষয় রাষ্ট্রপক্ষের কেউ খতিয়ে দেখছে না বলেও অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। বিশেষ একটি সূত্র জানিয়েছে, কিছু দুষ্টচক্র আছে যা কিনা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে আর টাকা-পয়সা দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত ও হুমকির মুখে ফেলে নিজেদের স্বাথর্ হাসিল করছে।

হাডসনের বন্দুক নামের একটি অনুদানের চলচ্চিত্র ৪ বছর ধরে শুটিং বন্ধ হয়ে আছে। গতবছর সরকারি অনুদানের জন্য নিবাির্চত ৬টি চলচ্চিত্রের অনুমোদন হলেও এ পযর্ন্ত শুটিং শুরু হয়নি কয়েকটি চলচ্চিত্রের। এগুলো হচ্ছে রয়েছে ছটকু আহমেদের লেখা সোহানুর রহমান সোহানের পরিচালনায় শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘প্রিয় জন্মভ‚মি’, মুহাম্মদ ফেরদৌস আলমের পরিচালনায় প্রামাণ্যচিত্র ‘একজন মরিয়ম’, তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত ‘রূপসা নদীর বঁাকে’, শবনম ফেরদৌসের পরিচালনায় ‘আজব সুন্দর’ এবং কমল সরকার পরিচালিত ‘দায় মুক্তি’।

তথ্যমন্ত্রণালয়ের এক বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ‘অনুদানের প্রতিটি চলচ্চিত্রে একজন পরিচালক ও প্রযোজককে সময় নিধার্রণ করে দেয়া হয়। সেখানে চলচ্চিত্রটির সময়সীমা তিন মাস থেকে ছয় মাস এমনকি কেউ কেউ এক বছরও সময় ধরে কাজ করেন। কিন্তু আবার অনেকেই নিধাির্রত সময়ে নিমার্ণ শেষ করতে ব্যথর্ হন। এ নিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে বারবার তাদের নোটিশও পাঠানো হয়। প্রতিবার কোনো না কোনো কারণ দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন তারা। যেগুলো এখনো নিমার্ণ হয়নি, ইতোমধ্যে আমরা চলচ্চিত্রগুলোর পরিচালক, প্রযোজক বরাবর চিঠি পাঠিয়েছি। পরবতীর্কালে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

উল্লেখ্য, প্রজ্ঞাপনে ছবির বাজেট উল্ল্যেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘প্রিয় জন্মভূমি’ এবং ‘দায় মুক্তি’ ছবি দুটির জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ‘আজব সুন্দর’, ‘নোনাজলের কাব্য’, ‘রূপসা নদীর বঁাকে’ ছবিগুলোর বাজেট দেয়া হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। এবং প্রামাণ্যচিত্র ‘একজন মরিয়ম’র জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩০ লাখ টাকা।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে