logo
বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  বিনোদন রিপোর্ট   ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০  

চলচ্চিত্র নির্মাণ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সিদ্ধান্ত

নিয়ম না মানলে শিল্পীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নিয়ম না মানলে শিল্পীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
চলচ্চিত্র নির্মাণ ও শিল্পীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি শর্ত দিয়ে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে চলচ্চিত্র নির্মাণ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি। নীতিমালায় উলিস্নখিত প্রধান প্রধান শর্তগুলো হচ্ছে- এখন থেকে কোনো শিল্পী নিজের ইচ্ছেমতো শুটিংয়ে আসতে পারবেন না, চুক্তির বাইরে আলাদা কোনো পারিশ্রমিক এমনকি সহকারী ও মেকআপম্যানও নিতে পারবে না। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এই নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। আর নিয়ম না মানলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করে দেন চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু।

সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (বিএফডিসি) কাজী জহির কালার ল্যাবে চলচ্চিত্রের ১৮টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত চলচ্চিত্র নির্মাণ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সব চলচ্চিত্র শিল্পীদের কড়া নীতিমালা বেঁধে দেয় প্রণয়ন কমিটি। এরমধ্যে- সকাল ১০টার মধ্যে শুটিং টাইমে থাকা, শিল্পীদের কল টাইম পরিচালকদের নির্ধারণ করে দেওয়া, সব শিল্পীর ৪ কিস্তিতে পারিশ্রমিক পরিশোধ করা, শুটিং কনভেন্স, ড্রেস নির্মাণের ক্ষেত্রে আলাদা বাজেট না দেওয়া, ছবির প্রমোশনের জন্য প্রধান শিল্পীদের ছবি মুক্তির ৫ দিন বাধ্যতামূলক সিডিউল দেওয়া এবং প্রধান চরিত্রের সঙ্গে ১ জনের বেশি সহকারীর কনভেন্স ও নানা রকমের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু শাকিব খান ও পরীমনিকে ইঙ্গিত করে বলেন, 'জানতে পারলাম কয়েকদিন আগে 'বিশ্বসুন্দরী' চলচ্চিত্র নির্মাণের শুটিংয়ে মেইন হিরোইন যার শুটিং করার কথা ছিল সকাল ১০টায়, সেখানে সে গিয়ে পৌঁছায় বিকেল ৫টায়। অন্যদিকে একজন হিরোর বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে কোনো কোনো দিন শুটিংয়ে তিনি আসেন আবার কোনো কোনো দিন তাকে শুটিংয়ে পাওয়া যায় না। যেখানে তাদের এরকম নানা টালবাহানায় লোকসান গুনতে হচ্ছে একজন পরিচালক আর প্রযোজককে। এতদিন আমাদের এই মাদার সংগঠন ছিল না বলেই এই অঙ্গনে এরকম অরাজকতা সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে সব প্রিন্ট, অনলাইন ও টেলিভিশন মিডিয়াকে চলচ্চিত্রের এই ক্রান্তিলগ্নকালে বড় ধরনের অসঙ্গতি ছাড়া ছোট বিষয়গুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, 'বর্তমান চলচ্চিত্রে অবস্থান ভালো করতে আমাদের সবার এগিয়ে আসতে হবে। আমরা নব-নিবাচিত হয়ে করতে পেরেছি। সব প্রেক্ষাগৃহে বিনা সার্ভার ভাড়ায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনের সুবিধা। অসাধু কিছু প্রেক্ষাগৃহের নানা ধরনের অজকরতা থেকে মুক্ত করার প্রস্তুতিও হাতে নিয়েছি।'

এ প্রসঙ্গে পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার জানান, 'আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন যে, আগের সেন্সর বোর্ড পুনর্গঠন করে আমাদের বলা হয়েছে নতুন কোনো চলচ্চিত্র মুক্তি দিতে হলে অবশ্যই তাকে প্রযোজক ও পরিচালক সমিতির সার্টিফিকেট পেতে হবে। তাতে করে হবে কী- যারা আমাদের আইন মেনে না চলবে তাদের চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেট দেব না। বর্তমানে আমাদের চলচ্চিত্র যেখানে ১ কোটি টাকার মধ্যে শেষ করতে হয়। সেখানে অনেকে একাই ৬০ লাখ টাকা চেয়ে বসেছে। বর্তমান চলচ্চিত্রের ক্লান্তিলগ্নে একজন সুপারস্টারের পারিশ্রমিক ১০ লাখ টাকা করা উচিত। এতে করে চলচ্চিত্রে লাভজনক অবস্থান তৈরি হলে সব প্রযোজকরা বেশি করে অর্থ লগ্নি করতে সক্ষম হবে।

প্রযোজক সমিতির সভাপতি ও পরিচালক সমিতির সভাপতি ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সাধারণ সম্পাদক শাসমুল আলম, ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি পদে কামাল মো. কিবরিয়া লিপু, সহকারী সাধারণ সম্পাদক পদে আলিমুলস্নাহ খোকন, কোষাধ্যক্ষ পদে মেহেদী হাসান সিদ্দিকী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ইলা জাহান প্রমুখ।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে