logo
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৬

  টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) সংবাদদাতা   ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

খালেদার প্যারোলের জন্য 'যুক্তিযুক্ত' কারণ দেখাতে হবে: কাদের

সরকারের নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইলে তাকে যুক্তিযুক্ত কারণ দেখিয়ে সরকারকে সন্তুষ্ট করতে হবে, এমনটাই জানালেন সড়ক পরিবহণমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

দুর্নীতির মামলায় দন্ড নিয়ে দুই বছর ধরে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন প্যারোলের আবেদন জানাতে পারেন বলে গুঞ্জনের মধ্যে তিনি একথা জানানোর পাশাপাশি বলেছেন, এখনো সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন পায়নি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদার প্যারোল নিয়ে কথা বলেন কাদের।

তিনি বলেন, 'তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার জন্য পরিবার থেকে বিভিন্নভাবে আবেদন এসেছে। তারা টিভির পর্দায় আবেদন করেন। আমি আজ সকালেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে খবর নিয়েছি, লিখিত কোনো আবেদন আসেনি।

'লিখিত আবেদন এলেও এ আবেদন কারণসহ যুক্তিসংগত হতে হবে। যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও প্যারোল বিবেচনা করতে পারে না, সরকারও বিবেচনা করতে পারে না।'

ওবায়দুল কাদের বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সমালোচনা করে বলেন, বেগম জিয়াকে জেলের মধ্যে মেরে ফেলবে- এ রাজনীতি বঙ্গবন্ধু করেন নাই। তার কন্যা শেখ হাসিনাও করেন না। তাকে কষ্ট দিয়ে মারার ইচ্ছা শেখ হাসিনার নেই। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। খালেদা জিয়াকে জেলে নিয়েছে আদালত। তার বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতির মামলা দিয়েছে। আদালত এ মামলার বিচার করছে। তার দুর্নীতির মামলায় মুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। সরকার এটি বিবেচনা করতে পারে না। বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা নেই। রাজনৈতিক মামলা থাকলে, সরকার তাকে প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করতে পারত।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ২১ বছর জয় বাংলা, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধু নিষিদ্ধ ছিল। দেশ পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরিয়ে এনেছেন। তিনি সারাদেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। এ উন্নয়নে সারাবিশ্বে তিনি তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ এখন এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ স্থানে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের মূলধারায় বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। আর কোনো অন্ধকারের অপশক্তিকে ক্ষমতার মঞ্চে আসতে দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, সততা ও মেধার প্রতীক হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর পরিবার। শিক্ষাদীক্ষায় এ পরিবার এগিয়ে। কীভাবে সৎ জীবনযাপন করতে হয় তার উদাহরণ বঙ্গবন্ধুর পরিবার। এ পরিবারের সদস্যদের টাকাপয়সার প্রতি কোনো লোভ নেই। শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়ায় রাস্তা, ব্রিজ, বিদু্যৎ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু করেছেন। অন্ধকার টুঙ্গিপাড়াকে আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন। টুঙ্গিপাড়া এখন নব-আলোকে উদ্ভাসিত। টুঙ্গিপাড়ার প্রতিটি ঘরে একজনকে চাকরি দেয়া হবে। টুঙ্গিপাড়াকে আরও আধুনিকভাবে সাজানো হবে। মানুষের নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। এজন্য আপনাদের ধৈর্য ধরতে হবে। আপনারা প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া, আশীর্বাদ করবেন।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রথম পর্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাসিম, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুলস্নাহ, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজম ও এস.এম কামাল হোসেন।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাভাপতি মো, ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের প্রথম পর্বের আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী, আনিসুর রহমান, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম.ডি বাবুল রানা, গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ওসামা আমিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল বশার খায়ের, উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক শেখ আহম্মেদ হোসেন মীর্জা, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশিদ তারেকসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।

এ সময় খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. সুজিত অধিকারী, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এম. বদরুল আলম বদর, আওয়ামী লীগ নেতা শুকুর আহম্মেদ, শেখ তোজাম্মেল হক টুটুল, এমদাদুল হক বিশ্বাস, জেলা যুবলীগের সভাপতি জিএম শিহাবউদ্দিন আজমসহ কেন্দ্রীয়, গোপালগঞ্জ জেলা, টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে শেখ আবুল বশার খায়ের ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. বাবুল শেখের নাম ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এরপর টুঙ্গিপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ফোরকান বিশ্বাসের নাম ঘোষণা করেন তিনি।

এর আগে গত ২০১৫ সালের নভেম্বরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বর্ণিল সাজে সেজে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে সম্মেলনস্থলে এসে হাজির হন। সম্মেলন শুরুর আগেই সম্মেলনস্থলে ২০ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। নির্মাণ করা হয় তোরণ। উৎসবমুখর পরিবেশে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে