বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

গাংনীতে চায়না জাতের কমলা চাষে নীরব বিপ্লব

মজনুর রহমান আকাশ, গাংনী
  ০৮ নভেম্বর ২০২২, ১৫:১৩
ছবি: সংগৃহীত

সবুজ গাছের ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ ও হলুদ রঙের ফল।  চায়না কমলা মানুষের কাছে বিশেষ পরিচিত হলেও এটি দেশীয় ফল নয়। কাঁচা অবস্থায় সবুজ আর পাঁকলে গাঢ় হলুদ রঙের। ঝিরিঝিরি বাতাসে দোল খাচ্ছে। সেই সাথে দোল খাচ্ছে চাষিদের স্বপ্ন। মেহেরপুরের মাটি চায়না কমলা চাষের উপযুক্ত হওয়ায় সম্প্রতি কিছু চাষি এটির চাষ শুরু করেন। অন্যান্য ফসলের তুলনায় এটি বেশ লাভজনক হওয়ায় ইতোমধ্যে অনেকেই ঝুকে পড়েছে কমলা চাষে। শিক্ষিত বেকার শিক্ষার্থী এমনকি বয়োবৃদ্ধরাও শুরু করেছেন চায়না কমলার চাষ। কৃষি বিভাগও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন কমলা চাষে।

মেহেরপুরের মাটি ও আবহাওয়া কমলা চাষের উপযোগি হওয়ায় বছর চারেক আগ থেকেই অনেকেই আগ্রহী হয়ে এর চাষ শুরু করে। স্বল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় শিক্ষার্থী শিক্ষিত বেকার ছেলেরা চাকরীর প্রত্যাশা না করে শুরু করেছেন কমলা চাষ। বিশেষ করে চায়না-৩ জাতের কমলার চাষ হচ্ছে বেশী। জেলায় ১১০ হেক্টর চায়না কমলা লেবুর বাগান রয়েছে। আর ৮৫ হেক্টর থেকে চাষিরা তাদের কাঙ্খিত ফল পেতে শুরু করেছে। পুষ্টিগুণে ভরপুর ও রোগীদের পথ্য হিসেবে পরিচিত চায়না কমলা চাষ বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে । এটি চাষে লাভজনক হওয়ায় অনেক ঝুকে পড়েছে কমলা চাষে। 

গাংনী সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী চঞ্চল জানান, বাড়ি থেকে পড়া লেখার খরচ নিতে হয়। অনেক সময় টাকা পয়সা যোগাড় করতে বেশ কষ্ট হতো। এজন্য কিছু একটা করার চিন্তা থেকে কমলা চাষে আগ্রহী হন তিনি। ইউটিউবে এক সফল উদ্যক্তার কমলা চাষ দেখে তার সাথে পরামর্শ করে কমলা চাষের সিদ্ধান্ত নেন । বছর তিনেক আগে বাড়ি থেকে ১০ হাজার টাকা যোগাড় করে কমলার চারা সংগ্রহ করে এক বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেন। গেল তিন বছরে ৩০ হাজার টাকা খরচ করেন। একশ’টি গাছের মধ্যে ৯০টি গাছে কমলা ধরেছে। প্রতিটি গাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ কেজি কমলা পাবেন বলে তিনি আশাবাদী। পড়ালেখার পাশাপাশি এর চাষ অব্যাহত রাখবেন বলেও জানান চঞ্চল। 

গাংনীর অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক ও বিশিষ্ট সংগঠক সিরাজুল ইসলাম স্যার জানান, অবসর সময় কাটানোর জন্যই তিনি দুই বিঘা জমিতে কমলার চাষ শুরু করেন। বছর চারেক আগে ২০০ টি চারা এনে রোপন করেন। গেল চার বছরে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। এবছর ১০ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। সিরাজুল ইসলাম আরো জানান, কমলা চাষে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থী ছাড়াও বেকার যুবকরা পরামর্শ নিচ্ছেন কমলা চাষে। বাসায় বসে না থেকে এবং পরিবারের বোঝা না হয়ে কমলা চাষে আগ্রহী হতে পরামর্শ দেন এই শিক্ষক।

গাড়াডোব কুঠি পাড়ার কলেজ ছাত্র আব্দুস সালাম জানান, তার সহপাঠি চঞ্চল ইতোমধ্যে এক বিঘা জমিতে কমলা চাষ করেছেন। ফলনও আশানুরুপ। তার দেখা দেখি নিজের পড়াশোনার খরচ সাংকুলানের জন্য তিনিও কমলা চাষ করবেন। কমলা চাষে আগ্রহী সাহারবাটি গ্রামের কৃষক সামারুল ইসলাম জানান, অন্যান্য ফসল আবাদে বেশী খরচ। কিন্তু কমলা চাষে খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি। তাই এটির চাষ করবেন তিনি।  

গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার লাভলী খাতুন জানান, অনেকেই আগ্রহী হয়ে চায়না জাতের কমলা চাষ করছেন। ইতোমধ্যে এ উপজেলায় ৭ হেক্টর জমিতে কৃষকরা বাগান করেছেন। স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা থাকায় অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কমলা চাষে। কমলা চাষের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলেও জানান এই কৃষি অফিসার।

যাযাদি/ সোহেল
 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে