বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

সোনালী আমন ধান হাসি ফুটিয়েছে ফটিকছড়ির কৃষকের মুখে

মোহাম্মদ জিপন উদ্দিন, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
  ১১ নভেম্বর ২০২২, ১৪:২৮

ফটিকছড়িতে শুরু হয়েছে আগাম জাতের রোপা আমন ধান কাটার উৎসব। আমন ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। সোনালি ধান হাসি ফুটিয়েছে তাদের মুখে। বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন কেবল ধান আর ধান। হেমন্তের সকালে সে ধানের ডগায় শোভা পাচ্ছে মুক্তার মতো ঝলমলে শিশির বিন্দু। কোথাও কোথাও এরই মধ্যে সবুজ ধান পেকে সোনালি বর্ণ ধারণ করেছে। কদিন পর সে পাকা ধান ঘরে উঠবে। আবার কোথাও কোথাও আগাম ধান পাকায় কৃষক-কৃষাণীরা মেতে উঠেছেন ধান কাঠার উৎসবে। অথচ চিত্রাংসহ নানান প্রতিকূল আবহাওয়ায় এবার শঙ্কা ছিল কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ার। তবে কৃষক ও কৃষি অফিস বলছে, বরাবরের মতো এবারও ভালো ফলনই হয়েছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে ২১হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১ হাজার ৩৬০ হেক্টর। যা গত বছর ছিল ২১ হাজার ৩৫০ হেক্টর। এর মধ্যে ব্রি ধান-৪৯, পাজাম, দিনাজপুরী পাজাম, ব্রি ধান-৫১, ব্রি ধান-৮৭ সহ অন্যান্য আগাম জাতের ধান আবাদ হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে। কম সময়ে ফলন এবং কম খরচে এই জাতের ধান চাষ করে সফলতা পেয়েছেন অনেক কৃষক।

তবে মৌসুমের শুরুতে অনাবৃষ্টিসহ প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার দরুন গত বছরের তুলনায় এবারও ৪০ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। এরই মধ্যে আবার চিত্রাং এর আঘাতে ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে কিছুটা। সব কাটিয়ে তবু প্রত্যাশার চেয়ে ভাল ফলনের আশাই করছে কৃষক ও কৃষি অফিস।

ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাসানুজ্জামান বলনে, আমন মৌসুমে কম সময়ে অধিক ফলন হয়, এমন জাতের ধানের আবাদ বৃদ্ধির জন্য কাজ করছি। চলতি আমন মৌসুমে ৮০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। ফলনো ভালো হয়েছে। চিত্রাংয়ের তাণ্ডবে জড়ো কিছু ধানের গাছ নুইয়ে পড়েছিল। তবে এবারও আমরা গতবারের চেয়ে বেশি ফলন পাবো। এবার চাউল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৬১হাজার ৭৫১ মেট্রিকটন। এবং ধানের লক্ষ্যমাত্রা ৯৩ হাজার ৫৬২ মেট্রিকটন। 


তিনি আরও বলেন- প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, প্রতি ইঞ্চি জমি চাষ এ প্রতিপাদ্যকে সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ এর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। কৃষক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধিসহ আগাম ধান কেটে সবজি তেল জাতীয়, ডাল জাতীয় ফসল আবাদ করবে। জমিতে ধান চাষের পর আলু, সরিষাসহ রবিশস্য উৎপাদন করতে পারবে। এটি কৃষকদের বোনাস ফসল। কৃষকের উৎপাদন এবং আয় দুটোই বাড়বে।

যাযাদি/ সোহেল

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে