মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১

ব্রি উদ্ভাবিত বঙ্গবন্ধু ধান ১০০ চাষ করে কৃষকরা বিঘাপ্রতি ফলন পাচ্ছে ৩২ মন

গাজীপুর প্রতিনিধি
  ০১ মে ২০২৩, ২০:০২

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত বঙ্গবন্ধু ধান১০০ চাষ করে বিগত সময়ে উদ্ভাবিত অনেক ধানের চেয়ে দেড়গুন বেশি ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা। এছাড়াও ব্রি ধান৮৯ ও ব্রি ধান৯২-এর ফলনও প্রায় একই রকম পাচ্ছে। সোমবার বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নে রাইস ফার্মিং সিস্টেম বিভাগের উদ্যোগে ব্রি উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান ব্রি ধান৮৯, ৯২ এবং বঙ্গবন্ধু ধান১০০ এর ফসল কর্তন ও মাঠ দিবসে

ব্রি্'র মহাপরিচালক মোঃ শাহজাহান কবীর, ব্রি'রং বিজ্ঞানী ও কৃষকরা ওই সব তথ্য জানান।

তিন জাতের নতুন এসব ধান চাষ করে কৃষকরা অভূতপূর্ব ফলন পেয়েছেন। ৩৩ শতকে ফলন পেয়েছেন ৩৩ মন অর্থাৎ শতকে এক মন ফলন হয়েছে।

মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোঃ শাহজাহান কবীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রশাসন মোঃ আব্দুল লতিফ। রাইস ফার্মিং সিস্টেম বিভাগের প্রধান মোঃ ইব্রাহীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কৃষক সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ব্রি বিজ্ঞানী সমিতির সভাপতি ড. আমিনা খাতুন ও কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা তাসলিম। ব্রির রাইস ফার্মিং সিস্টেম বিভাগের সিনিয়র বিজ্ঞানী ড. খায়রুল কায়েস, এবিএম জামিউল ইসলাম ও বীর জাহাঙ্গীর সিরাজী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্রির পরিচালক প্রশাসন ড. মোঃ আব্দুল লতিফ বলেন, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত নতুন জাতগুলো ফলন আগের জনপ্রিয় জাত ব্রি ধান২৮ ও ২৯ এর তুলনায় অনেক বেশি। এগুলো যদি ভালো পরিচর্যা করা যায় তাহলে অন্তত অনেক ধানের চেয়ে প্রায় দেড়গুন বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব।

প্রধান অতিথি ব্রি মহাপরিচালক ড. মোঃ শাহজাহান কবীর বলেন, নতুন এসব জাতের ধানের ফলন বেশি, কম সময়ে পাকে ও রোগ বালাইও কম হওয়ায় চাষিরা এ ধান চাষে আকৃষ্ট ও খুব লাভবান হচ্ছে। এসব ধান প্রতি বিঘায় ৩০/৩২ মন উৎপন্ন হয়। অন্য জাতের ধানের ফলন যেখানে ২০ মনের মতো হয়। প্রতি বছর আমাদের জনসংখ্যার সাথে ২০-২২লক্ষ লোক যোগ হচ্ছে। ১৭ কোটি জনসংখ্যার এই দেশে খাবারের নিশ্চয়তা দিতে হলে অবশ্যই ব্রি উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধানগুলো চাষ করতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই।

স্থানীয় কৃষক আলতাফ হোসেন জানান, আগে বিদেশ ছিলাম কৃষি কাজ করতাম না। কৃষি কাজ অলাভজনক ভাবতাম কিন্তু ব্রি ধান৮৯ ও ব্রি ধান৯২ এবং বঙ্গবন্ধু ধান১০০ আমার ধারণা বদলে দিয়েছে। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর বিদেশ নয়, আমি দেশেই কৃষি কাজ করবো। নতুন জাতের ধান চাষ করবো। কেননা কৃষি এখন আগের তুলনায় বেশি লাভজনক।

স্থানীয় মুক্তারপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকার কৃষক মোঃ আলম জানান, আমার ৬০ বছর বয়সে এসে জাতের ধানের মত ফলন পাইনি। বাম্পার ফলন পাচ্ছি। বঙ্গবন্ধু ধান ১০০ এবং ব্রিধান- ৯২ জাতের চাল চিকন। এ তিন জাতের ধান চাষে পানি কম লাগে, কীটনাশক লাগেনা বললেই চলে। ফলনও অনেক বেশি হয়।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে