মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১

গৌরীপুরে ক্যান্সার প্রতিরোধক ব্ল্যাক রাইস উৎপাদন

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
  ০৭ মে ২০২৩, ১৭:৩৪
গৌরীপুরে ক্যান্সার প্রতিরোধক ব্ল্যাক রাইস উৎপাদন

স্থানীয় ও উচ্চফলনশীল ( উফশী) জাতের ধানের ফলনের চেয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি পেলো ভিয়েতনামী ক্যান্সার প্রতিরোধক ব্ল্যাক রাইস! কালো রঙের এ ধান উৎপাদন হলো ময়মনসিংহের গৌরীপুরে। কালো রঙের এ ধান চাষে নেই কোন পোকামাড়ক ধরার আশংকা ও কোন প্রকার রোগবালাই।

এতে ব্যবহার করতে হয় না কীটনাশক। এ ধান উৎপাদন করেছেন উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের কড়মরিয়া গ্রামের কৃষক শেখ সাদী।তিনি কড়মরিয়া গ্রামের হোমিও ডাক্তার আতাউর রহমানের ছেলে। কৃষক শেখ সাদী জানান, ক্যান্সার প্রতিরোধক কালো রঙের চাল দেখে এ ধান চাষে আমার আগ্রহ বাড়ে।

কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ১ কেজি ধান বীজ ৪০০ টাকায় কিনেছিলাম। কুরিয়ার সার্ভিসের বিল দিয়েছি ১৬০ টাকা। এছাড়া ২০ শতক জমিতে ধানের চারা রোপণ, পরিচর্যা ও ধান কাটায় খরচ হয়েছে ৩ হাজার ২৩৬ টাকা। শুক্রবার ধান কাটা শেষে উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি অফিসার জাহাঙ্গীর আলম ধানের ওজন দেন। ধান উৎপাদন হয়েছে ২০ শতক জমিতে ২৫ মণ।

তিনি জানান, ধানের উৎপাদনে সত্যিই আমি অবাক। কেননা স্থানীয় ও উচ্চফলনশীল ধানের চেয়েও ভিয়েতনামী ব্ল্যাক রাইসের উৎপাদন বেশি হয়েছে। কৃষক লাল মিয়া জানান, শেখ সাদীর পাশের জমিতে তিনি ব্রিধান ২৮, ২৯ ও ৮১ আবাদ করেছেন। প্রতি ১০ শতাংশে ৭-৮ মণ ধান হয়েছে।

কৃষক আবুল ফজল, আবুল বাশার ও ইদ্রিছ আলী জানান, শেখ সাদী জমিতে কীটনাশক দেয় না। শাক-সবজিতেও সে প্রাকৃতিক ও কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে। আমরা আমাদের ফসল রক্ষায়ও শেখ সাদীর পরামর্শ নিয়ে থাকি। সফল কৃষক শেখ সাদী জানান, এ ধরনের ধান চাষে তেমন কোনো রোগবালাই না থাকায় ভালো ফলন হয়েছে। খরচও কম। ধানের দামও অনেক। সারা দেশে ধানের বীজ সরবরাহ করার প্রস্তুতিও নিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, শখের বসে প্রথমবার পরীক্ষামূলক আবাদ করেছি। সফল হয়েছি। এলাকার কৃষকরাও এখন এই ধান চাষে আগ্রহী প্রকাশ করছেন। উপজেলায় প্রথমবারের মতো এ ধান চাষ করায় কিছুটা ভয় ছিল, আজকে ভয়কে জয় করেছি। উপজেলা কৃষি অফিসার লুৎফুন্নাহার জানান, ভিয়েতনামী ব্ল্যাক রাইস এন্টি অক্সিজেন সমৃদ্ধ।

এ উপজেলার শ্যামগঞ্জেও একজন কৃষক ২ শতক জমিতে আবাদ করেছেন। আর মাওহা ইউনিয়নের এক কৃষক আবাদ করেছেন ২০ শতক জমিতে। কৃষি বিভাগ শুরু থেকেই তাদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছিলো। কৃষি বিভাগ জানায়, এ ধান থেকে পাওয়া চালে প্রচলিত অন্য চালের চেয়ে অন্তত তিনগুণ বেশি পুষ্টি থাকায় ধীরে ধীরে এর চাহিদা বাড়ছে। এই চালের ভাত আঠালো ও সুগন্ধি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ও ধান গবেষক ড. মেহেদি মাসুদ বলছেন, এই ধানগাছের পাতা ও কান্ডের রং সবুজ হলেও ধান ও চালের রং কালো। তাই এ ধানের জাতটি কালো চালের ধান নামে পরিচিত। কালো চালে অ্যান্থসায়ানিন বেশি থাকে। যা ক্যান্সার প্রতিরোধী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট।

যাযাদি/ এম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে