সোমবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯

বরিশালে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস

বরিশাল অফিস
  ০৪ নভেম্বর ২০২২, ১৬:২৫

তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে বরিশালের বাজারে চাল, সবজি, মাছ, মাংশ থেকে শুরু করে মুদি মনোহারী প্রতিটি পণ্যের অস্বাভাবিক মুল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। শীতের আগেই শীতকালীন সবজি বাজারে উঠলেও দাম আকাশছোয়া। অন্যদিকে গরু, খাশি ও মুরগীর মাংশর দামও নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাহিরে। একসময় গরীবের সাধ্যের মধ্যে থাকা ডিমের হালি এখন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫০ টাকা দরে।  

বরিশাল হাতেম আলী কলেজ, পোর্ট রোড ও নতুন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীত আসার আগেই বাজারগুলোতে উঠতে শুরু করেছে শীতের সবজি। তবে অস্বস্তির দামে বিক্রি হচ্ছে সেই সবজি। শুক্রবার (০৪ নভেম্বর) বরিশাল নগরীর বাজারগুলো থেকে জানা যায়, খুচরা বাজারে গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। যার পাইকারি মুল্য ১৪০ টাকা। আর বাধাকপিও ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। যা পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। ছিম বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। তবে দাম কমেছে কাচামরিচের। এক সময়ের ২’শ টাকার কাচামরিচ দাম কমে হয়েছে ৬০ টাকা। খুচরা বাজারে পেপে বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা, ঢেড়স ৬০ টাকা ও বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। তবে পাইকারি বাজারে এসব পন্যের দাম কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা কম বলে জানা গেছে। চৌমাথা বাজারের সবজি বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন জানান, বরিশালে পাইকারি সবজির বাজার সিটি মার্কেটে নগরীর ব্যাবসায়ীদের চাহিদানুযায়ী সবজি সরবরাহ হচ্ছেনা। তাই দাম অনেকটাই চড়া। 

এদিকে দেশের আলোচিত পন্যর মধ্যে আলু বরিশালের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা কেজি দরে। তবে পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৩ টাকায়। দাম বেড়েছে রসুনেরও। ৫০ টাকার দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। আর চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি দরে। এক মাসের ব্যবধানে ৩৫ টাকার দেশী পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। তবে অপরিবর্তীত রয়েছে মুসুরীর ডালের দাম। দেশী মুসুরি ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায় আর ভারতীয় ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। তবে প্রায় দ্বিগুন হয়েছে আদার দাম। দেশী আদা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। আর চায়না আদা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়।

অন্যদিকে দিন দিন বাড়ছে চালের বাজার। অন্যান্য সময়ের চেয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় এই পন্যটি। মিল থেকে বেশী দামে কিনতে হচ্ছে দাবী করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে পরিবহন খরচ বাড়ায় চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি মিল মলিকরাও আগের চেয়ে দাম বাড়িয়েছে বলে দাবী করেন স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা। বাজারে চাহিদা সম্পন্ন মিনিকেট চাল খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে। কোন কোন দোকানে এসব চালের দাম কেজি প্রতি আরো ২ থেকে ৩ টাকা বেশী বলে জানা গেছে। 

এ ব্যাপারে বরিশাল নগরীর চৌমাথার চালের পাইকারি ব্যবসায়ী মন্টু খান বলেন, আগের চেয়ে উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে চালের দাম বেড়েছে। আর এ দাম শিগ্রই কমার সম্ভাবনাও নেই বলে জানান এই ব্যবসায়ী। এদিকে মোটা চালও মিলছেনা ৬০ টাকার নিচে।

তাছাড়া গরু, খাসি ও মুরগীর দাম অপরিবর্তীত হলেও যেকোন সময়ের চেয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে এসব মাংশ। গরুর মাংশ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা আর খাসির মাংশ ৯০০ টাকায়। সোনালী জাতের মুরগী বিক্রি হচ্ছে ৩১০ টাকা কেজি দরে। যে দরে আগে দেশী মুরগী বিক্রি হতো। এখন দেশী মুরগী বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা কেজি দরে। ব্রয়লার জাতের মুরগী বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। পশু খাদ্যের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে কয়েকমাস পর্যন্তই বিক্রি হচ্ছে এই দামে। আর লেয়ার মুরগীর ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৯ টাকা হালি দরে। বিভাগের অন্যন্য জেলা পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা ও বরগুনাতেও প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে এসব নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য। 

যাযাদি/ সোহেল
 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে