​রাবি ভিসির দেওয়া নিয়োগ তদন্তে কমিটি

​রাবি ভিসির দেওয়া নিয়োগ তদন্তে কমিটি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভিসি এম আবদুস সোবহানের শেষ কর্মদিবসে দেওয়া অবৈধ ও বিধিবহির্ভূত নিয়োগের ঘটনায় তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

কমিটি আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে রাবি ভিসি এম আবদুস সোবহানের শেষ কর্মদিবসে দেওয়া অবৈধ ও বিধিবহির্ভূত নিয়োগ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীরকে আহ্বায়ক করে বৃহস্পতিবার এই কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

কমিটির দুই সদস্য হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মো. আবু তাহের এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মো. জাকির হোসেন আখন্দ। কমিটির সদস্য সচিব ইউজিসির পরিচালক (পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়) মোহাম্মদ জামিনুর রহমান।

কয়েকদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ বাণিজ্য এবং নানা অনিয়ম নিয়ে ছাত্রলীগ ও শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভিসি এম আব্দুস সোবহানের শেষ কর্ম দিবসে নিয়োগ কয়েকজনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেন। গত ৫ মে অস্থায়ী ভিত্তিতে (এডহক) বিশাল জনবল নিয়োগ দিয়েছেন ভিসি বলে জানা গেছে।

এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ১২টায় রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ভিসির বিদায় বেলায় টাকার বিনিময়ে ১২৫ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে নিয়োগ দিয়েছেন বলে প্রচার শুরু হলে মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরে তাদের ওপর হামলা চালায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। পরে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া প্রায় আধা-ঘণ্টা চলতে থাকে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে পালিয়ে যায়। এতে ৫ জন আহত হয়েছে। তারা হলেন- সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুন, সেকশন অফিসার মাসুদ, রাবি ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও ক্রীড়া বিভাগের সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামান চঞ্চল। বাকি দুজনের পরিচয় জানা যায়নি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার আব্দুস সালামকে অব্যাহতি দিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নিয়োগের মাধ্যমে অস্থায়ী ভিত্তিতে ১২৫ জনকে নিয়োগ দিয়ে বিদায় নিয়েছেন ভিসি এম আব্দুস সোবহান বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদকের কাছে একটি প্রজ্ঞাপন হাতে এসেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এ্যাক্ট ১৯৭৩ এর ১২(৫) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অস্থায়ী ভিত্তিতে ছয় মাসের জন্য নিয়োগ দেওয়া হল।

হামলার শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা কামরুজ্জামান চঞ্চল বলেন, ‘নিয়োগ নিয়ে মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেকশন অফিসারদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করে। সেখানে আমি নিবৃত করার চেষ্টা করি। ওই সময় মহানগর ছাত্রলীগের কর্মীরা আমার ওপর হামলা করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতাকর্মী ও অফিসাররা একযোগে তাদের ধাওয়া করে ক্যাম্পাস থেকে তাড়িয়ে দেয়।’

সাবেক রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা থাকা অবৈধ নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো বিষয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই। নিয়োগ হয়েছে কিনা সেটাও আমার জানা নেই।’

এদিকে পুলিশ প্রটোকলে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় ক্যাম্পাস ছেড়েছেন ভিসি এম আব্দুস সোবহান। পথিমধ্যে সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেটুকু দায়িত্ব পেয়েছিলাম যথাযথভাবে পালন করেছি।

এডহক নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে কোন কথা বলেননি। শুধু বলেছেন, নিয়োগ হয়ে থাকলে পরে জানতে পারবেন। দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন ভিসি।

সামগ্রিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৭ মে রাবির ভিসি হিসেবে দ্বিতীয়বার চার বছরের জন্য নিয়োগ পান ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান।

যাযাদি/এসআই

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে