প্রতিশ্রুতি পাল্টা প্রতিশ্রুতি

জমেছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন

জমেছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন

হাতে মাত্র একটি দিন বাকি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার পার হলেই পরশু শুক্রবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্রশিল্পী সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন। এক সময় এই নির্বাচন নিয়ে চলচ্চিত্র পরিবারে তেমন কোনো উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হতো না। গণমাধ্যমেও এত শোরগোল পড়েনি। কেবলমাত্র নির্বাচনের পরের দিন টুকরো খবর হিসেবে প্রকাশিত হতো শিল্পী সমিতির নির্বাচনে বিজয়ীদের নাম। কিন্তু সময় বদলে গেছে, এখন নির্বাচনের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই সরগরম থাকে গোটা চিত্রপুরী এবং গণমাধ্যমও। এখন চলছে শেষ সময়ের প্রচারণা। বহুল আলোচিত এই নির্বাচন এরই মধ্যে জমজমাট পরিবেশে রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত শিল্পীদের আনা গোনায় মুখর বিএফডিসি চত্বর। চলছে মিটিং, মিছিলসহ নানা আয়োজন। পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে এফডিসি ও এর আশপাশের এলাকা। পাশাপাশি থেমে নেই দুই প্যানেলের বিবৃতি-পাল্টা বিবৃতি ও বিভিন্ন প্রতিশ্রম্নতিও। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে শক্তিশালী দুটি প্যানেল। একটি মিশা সওদাগর-জায়েদ খান প্যানেল অন্য প্যানেলটি 'ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণের। দুই প্যানেলেই তারকা প্রার্থীদের ছড়াছড়ি। গত দুই মেয়াদে মিশা-জায়েদ দায়িত্ব পালনে আলোচিত-সমালোচিত হলেও হ্যাটট্রিকের আশায় এবারো আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন তারা। অন্যদিকে বিজয়ের আশায় সমিতির হাল ধরার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কাঞ্চন-নিপুণ। সবাই সবার মতো করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা প্রক্রিয়ায় প্রচারণায় ব্যস্ত তারকারা। তারমধ্যে সভাপতি প্রার্থী ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, অনুদান বা সাময়িক অর্থ সাহায্য নয়; শিল্পীরা যেন নিয়মিত কাজ করে খেতে পারে সেই ব্যবস্থা করবেন তিনি ও তার প্যানেল জয়ী হলে। সিনেমার মান ও সংখ্যা দুটোই বাড়ানোর চেষ্টা করবেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ প্রদর্শক সমিতির এক আয়োজনে কাঞ্চন আরও বলেন, 'আপনারা জানেন আমি একটা কথা দিলে ভেবেচিন্তে দেই। সেই কথাটা রাখার চেষ্টা করি। যেটা আমি বলি সেটা করে ছাড়ি। আপনাদেরও কথা দিলাম সিনেমার জন্য কিছু ভালো কাজ করার চেষ্টা করব। সকল সমিতির সঙ্গে দ্বন্দ্ব-কোন্দল দূর করে মিলেমিশে কাজ করতে চেষ্টা করব।' সমিতি থেকে বাতিল হওয়া যোগ্যশিল্পীদের ফিরিয়ে আনা হবে বলে ওয়াদা করেছেন আরেক সভাপতি প্রার্থী মিশা সওদাগর। সম্প্রতি নির্বাচনী ইশতেহারে মিশা বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে আইনের জটিলতা দূর হোক। আমি ওয়াদা করছি, যারা যোগ্য তাদের ফিরিয়ে আনব, কিন্তু যারা যোগ্য লোক না, তাদের কাউকে নেয়া হবে না, এটা বলে রাখলাম। তা না হলে আমি রিজাইন করব।' এ সময় ভূমিহীন শিল্পীদের বাসস্থানের ব্যবস্থা ছাড়াও শিল্পী সমিতির কোষাগারে ১২ লাখ টাকাকে ৫০ লাখ করার কথা জানান এই খল অভিনেতা। তিনি বলেন, 'অনেকে আপনাদের আম-কলা দেখাবে, আমরা বিচি কলা সঠিকভাবে দিতে পেরেছি। আমরা ভাত দিতে পারলে ভাত দেব, পোলাওয়ের কথা বলব না।' সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী জায়েদ খান বলেন, 'আমাদের কিছু ভূমিহীন শিল্পী আছেন যারা পুরোজীবন সিনেমার কাটিয়ে দিয়েছেন। তবে, ভালো পারিশ্রমিক পাননি। এবার শিল্পীসমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হলে তাদের জন্য বাসস্থানের বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেব। এটা নিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে কথা বলব।' যদিও গতবারের নির্বাচনে এই বিষয়টি ছিল তাদের ইশতিহারে। তবে মহামারির কারণে সম্ভব হয়নি বলে জানান।' একই পদে জায়েদ খানের বিপরীতে লড়ছেন চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তার। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী এই অভিনেত্রী বলেন, 'যদি আমার প্যানেল নির্বাচিত হয়, তাহলে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এফডিসিতে আনব। উনি ছাড়া এফডিসিকে বাঁচানো আর সম্ভব নয়। উনি যদি একবার আসেন, তাহলে পুরো এফডিসির চেহারা পাল্টে যাবে।' এছাড়া নিপুণ বলেন, 'শিল্পীদের পাশে থেকে তাদের কল্যাণে নিজেকে আত্মনিয়োগ করতে চাই। শিল্পীদের মধ্যে বিরাজমান ভেদাভেদ দূর করার সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে আমার।' মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে সহসভাপতি পদে রুবেল ও মনোয়ার হোসেন ডিপজল। বিভিন্ন পদে আরও আছেন অভিনেতা সুব্রত (সহ-সাধারণ সম্পাদক), আলেকজান্ডার বো (সাংগঠনিক সম্পাদক), জয় চৌধুরী (আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক), জ্যাকি আলমগীর (দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক), জাকির হোসেন (সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক), ফরহাদ (কোষাধ্যক্ষ)। কার্যনির্বাহী সদস্য পদে আছেন রোজিনা, অঞ্জনা, সুচরিতা, অরুণা বিশ্বাস, মৌসুমী, আসিফ ইকবাল, বাপ্পারাজ, আলীরাজ, নাদের খান ও হাসান জাহাঙ্গীর। ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণ আক্তার পরিষদ থেকে সহ-সভাপতি পদে লড়ছেন চিত্রনায়ক রিয়াজ এবং অভিনেতা ডিএ তায়েব। সাইমন সাদিক (সহ-সাধারণ সম্পাদক), শাহানুর (সাংগঠনিক সম্পাদক), নিরব হোসেন (আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক), আরমান (দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক), ইমন (সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক), আজাদ খান (কোষাধ্যক্ষ), কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের মধ্যে- ফেরদৌস, অমিত হাসান, শাকিল খান, নানা শাহ, আফজাল শরীফ, সাংকো পাঞ্জা, জেসমিন, কেয়া, পরী মণি, গাঙ্গুয়া, সীমান্ত। এবার নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন পীরজাদা হারুন। দু'জন সদস্য হলেন- বি এইচ নিশান ও বজলুর রাশীদ চৌধুরী। আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে সোহানুর রহমান সোহানকে। মোহাম্মদ হোসেন জেমী ও মোহাম্মদ হোসেনকে আপিল বোর্ডের সদস্য করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

ক্যাম্পাস
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
হাট্টি মা টিম টিম
কৃষি ও সম্ভাবনা
রঙ বেরঙ

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে