নেদারল্যন্ডের টিউলিপ ফুঁটেছে শ্রীপুরের মাটিতে

নেদারল্যন্ডের টিউলিপ ফুঁটেছে শ্রীপুরের মাটিতে

দৃষ্টি জুড়ানো টিউলিপ ফুল ছিল মানুষের মনে, ছিল বিভিন্ন দৃষ্টি নন্দন পোস্টারের পাতায়, ছিল বিভিন্ন হিন্দি ছবিতে। মনের মাধুরী মেশানো এই টিউলিপের ভালবাসা পেতে বাংলাদেশের মানুষ ভারতের কাস্মীর, নেদারল্যান্ড ভ্রমনে যেতো। বর্তমানে নেদারল্যান্ডস টিউলিপ ফুল উৎপাদনকারী প্রধান দেশ। টিউলিপকে নিয়েই সেখানে গড়ে উঠেছে শিল্প। তাই দেশটি প্রতি বছর পালন করে টিউলিপ উৎসব। ষড়ঋতুর বাংলাদেশে টিউলিপ ছিল স্বপ্ন। আর এই স্বপ্ন বাস্তবে পূরণ করেছে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পূর্ব খন্ড গ্রামের দেলোয়ার হোসেন। টানা দ্বিতীয় বারের মতো তিনি দেশে টিউলিপ ফুল ফুটিয়েছেন, গতবছরও তিনি টিউলিপ ফুল ফুলিয়ে দেশে সাড়া ফেলে দেন। দৃষ্টিনন্দন এই টিউলিপ বাগান দেখতে মানুষের ভিড় বাড়ছে। এবারের শীতেও ফের টিউলিপ ফুঁটতে শুরু করেছে দেলোয়ারের বাগানে। তার বাগানজুড়ে এখন টিউলিপময় ভালোবাসার গল্প।

ফুল চাষি দেলোয়ার হোসেন তার ফুল বাগানের নাম দিয়েছেন “মৌমিতা ফ্লাওয়ারস্”। এর আগে জার্বেরা, চায়না গোলাপ ও বিদেশি বিভিন্ন ফুল চাষে সফল হয়েছেন তিনি। সফল ফুল চাষি হিসেবে ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক পান দেলোয়ার। দেশে প্রথমবারের মতো ভাইরাসমুক্ত সবজির চারা উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেন তিনি।

ফুল চাষি দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের দেশে ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চাহিদা মিটাতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ফুল আমদানি করা হয়। ফুল চাষে জড়িয়ে আছে কৃষি অর্থনীতির একটি অংশ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ফুল চাষে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠলেও আমরা পিছিয়ে। অর্থনীতি ও চাহিদার কথা চিন্তা করে বিভিন্ন বিদেশি ফুল দিয়ে আমার স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়। নানা প্রতিবন্ধকতার পরও থেমে থাকিনি। এরই মধ্যে পেয়ে যাই একটির পর একটি সফলতা। জার্বেরা, চায়না গোলাপের পর টিউলিপ ফুল ফুটিয়ে গক বছর পেয়েছিলাম নতুন সফলতা।

তিনি বলেন, পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির টিউলিপ থাকলেও গত বছরের মতো এবারও নেদারল্যান্ডস থেকে এক প্রজাতির চার রঙের বিশ হাজার টিউলিপ বাল্ব এনে বাগানে ৩টি বাগানে রোপণ করি গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। গাজীপুরে সফল হওয়ার পর দেশের অন্যান্য স্থানে সম্ভাবতা ঝাচাইয়ের জন্য চুয়াডাঙ্গায় ৩হাজার ও ঠাকুরগাঁওয়ে সাড়ে ৩হাজার বাল্ব রোপন করা হয়। বাকী সাড়ে ৩ হাজার বাল্ব তার গাজীপুরের শ্রীপুরের মৌমিতা ফ্লাওয়ার বাগানে রোপন করা হয়। এ কয়েকদিন পরিচর্যা শেষে চলতি সপ্তাহর প্রথম থেকেই থেকেই গাজীপুরে টিউলিপ ফুল ফোটা শুরু হয়। যদিও অন্য দুটি স্থানে এখনও ফুল ফুঁটেনি। আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে ২০-২২ দিনেই ফুটে টিউলিপ ফুল।

তিনি আরো বলেন, টিউলিপ ফুল ফুটতে সাধারণত ১১ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় বিধায় শীত এলাকাগুলোর সম্ভাব্যতা ঝাচাইয়ের জন্য চুয়াডাঙ্গা ও ঠাকুরগাঁওয় তিনি পরীক্ষামূূলক বাগান করেছেন। গত বছর টিউলিপ ফুল ফুটিয়ে সফল হওয়ার পর এবারের মৌসুমে তার ব্যাপকভাবে টিউলিপ ফুল বাগান করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সেটা আর হয়ে উঠেনি। তবে তার আশা একসময়ে টিউলিপময় ভালবাসার ছোঁয়া তিনি সারাদেশেই ছড়িয়ে দিতে চান।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের ফুল গবেষক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফারজানা নাসরিন খান বলেন, টিউলিপ সাধারণত শীতপ্রধান অঞ্চলের ফুল। আমাদের দেশে শীত মৌসুমে অনেকেই বাসাবাড়ির টবে বা শখের বশে টিউলিপ ফুলের চাষ করেন। তবে ফুল পাওয়া খুবই অস্বাভাবিক। তবে দেলোয়ারের বাগানে টিউলিপ ফুল ফোটায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। দেশে বাণিজ্যিকভাবে এখনও এই ফুল চাষ শুরু হয়নি। তবে শীত মৌসুমে আবহাওয়া ফুলের অনুকূলে থাকলে টিউলিপ ফুলের চাষ করা যায়। বিশেষ করে উত্তরের জেলাগুলোতে এই ফুল চাষ উপযোগী। দেশের কৃষকদের মনে নতুন করে টিউলিপ ফুল চাষের স্বপ্ন বুনে দিয়েছেন ফুল চাষি দেলোয়ার।

গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাহবুব আলম বলেন, বর্তমানে উচ্চমূল্যে টিউলিপ ফুল আমদানি করে আমাদের দেশের চাহিদা মেটাতে হয়। সফল ফুল চাষি দেলোয়ারের বাগানে গত বছরের মতো এবারও টিউলিপ ফুল ফোটায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। টিউলিপ ফুল চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষি অর্থনীতিতে দারুণ ছোঁয়া লাগবে।

যাযাদি/এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে