বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1

মেহেরপুরে তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত ॥ হাসপাতালে বাড়ছে শীতজনিত শিশু রোগী 

গোলাম মোস্তফা, মেহেরপুর প্রতিনিধি
  ০৬ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪:০৪

সোমবার দিনগত রাত থেকে মেহেরপুরে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। কয়েকদিন জেলার কোথাও সূর্যের দেখা মেলেনি, ফলে কমছেনা শীতের তীব্রতা। তার উপরে উত্তরের হিমেল হাওয়া শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুন। তাপমাত্রা ৯ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। তীব্র শীতে সব চাইতে বেশি বিপাকে পড়েছে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ। সাধারণ মানুষ একান্ত কাজ ছাড়া সহসাই কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। । প্রতিদিনের আয়ে ভাটা পড়েছে তাদের। অনেকেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারন করার চেষ্টা করছেন। চাষীরা জানান, শীতের কারনে মাঠের কাজ করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এখন শীতকালিন সবজির সময়। এসময় মাঠে সবজি উঠানো বাজারে নেওয়া পরিচর্যা করার নানান কাজ থাকে। শীতের তীবতার কারনে এসব কাজ বিঘ্ন হচ্ছে। 

এদিকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপতালে শীতজনিত শিশু রোগীর সংখা বাড়ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন শতাধীক শিশু ডাইরিয়া, নিমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট  সহ শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শুধু শিশুরাই নয় বড়রাও আক্রান্ত হচ্ছে এ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টজনিত নানান রোগে। অনেকে হাপাতালে শয্য না পেয়ে মেঝেতে শুয়ে কনকনে ঠান্ডার মধ্য চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন শীত বেড়ে যাওয়ায় ঠান্ডা জনিত রোগীর সংখা বাড়ছে।

ফুটপাতের শীতের কাপড় বিক্রেতা আহসান হাবিব বলেন,এবছর শীত তেমন একটা পড়েনি। যার কারনে ব্যাবসা জমছিল না। হঠাৎ সোমাবর রাত থেকে তীব্র শীত পড়ায় সকাল থেকে ব্যাবসা জমজমাট। প্রচন্ড ভীড় হচ্ছে আমাদের ফুটপাতের কাপড় কেনার দোকানে। এখানে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষজন ভিড় করছে। 

এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এ অঞ্চলে মাঝারি ধরনের শৈত্য প্রবাহ চলছে। আগামীতে তীব্র শৈত্য প্রবাহও দেখা দিতে পারে। এ অবস্থা আরো কয়েকদিন চলতে পারে । আজ শুক্রবার সকালে মেহেরপুর এলাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৭ ডিগ্রী সেলিসিয়াস।

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবোধায়ক  ডাঃ জমির মোঃ হাসিবুস সাত্তার যায়যায়দিনকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতী থেকে পরিত্রাণ পেতে শিশুদের গরম ঘরে গরম কাপড়ে জড়িয়ে রাখতে হবে। খাওয়ার আগে ও পরে ভালভাবে হাত ধুয়ে খাবার খাওয়াতে হবে। আগুনের ধোয়া থেকে শিশুদের দুরে রাখতে হবে। এছাড়াও সমস্যা দেখা দিলেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের স্বরনাপন্ন হবার পরামর্শ দেন তিনি। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শঙ্কর কুমার মুজুমদার যায়যায়দিনকে বলেন,শীতের সবজি সহ গম সরিষা ঠান্ডায় ভাল হয়। তবে অতিরিক্ত কুয়াশাতে ক্ষতি হতে পারে। শৈত্বপ্রবাহ কমে গেলে ফসলের জন্য কি ব্যাবস্থা নেওয়া যেতে পারে সে বিষয়ে কৃষকদের পারমর্শ দেওয়া হচ্ছে। 

মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ জাওয়াহেরুল আনাম সিদ্দিকী যায়যায়দিনকে বলেন, প্রচন্ড ঠান্ডার কারনে এখন শীতজনিত রুগির সংখ্যা বাড়লেও রুগিদের পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যাবস্থা হাসপাতালেই আছে। শিশু সহ যে কোন বয়সের অসুস্থ্য ব্যাক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানোর পাশাপশি শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেবার পরামর্শ দেন তিনি। 

যাযাদি/ সোহেল
 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে