বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ভূগর্ভস্থ পানির বর্তমান অবস্থা ও করণীয় শীর্ষক কর্মশালা 

নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি
  ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৭:৫৯
ভূগর্ভস্থ পানির বর্তমান অবস্থা ও করণীয় শীর্ষক কর্মশালা 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সহায়তায় ভূগর্ভস্থ পানির বর্তমান অবস্থা ও করণীয় শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার ৪ সেপ্টেম্বর সকল ১০ টায় উপজেলা পরিষদ হল রুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাইমেনা শারমীন এর সভাপতিত্বে দিনব্যাপী কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ ঝালুখান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সবুজ হাসান, ভাইস চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বাবু ও জান্নাতুন নাঈম মুন্নি, ডাক্তার আসাদুজ্জামান বিপ্লব, নাচোল ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, কসবা ইউপি চেয়ারম্যান জাকারি আল মেহরাব, ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন আপু, ডাসকো ফাউন্ডেশন এর সহকারী প্রকল্প সমন্বয়কারী আনোয়ারা বেগম, আঞ্চলিক সমন্বয়কারী সেলিম রেজা ও কমিউনিটি অর্গানাইজার বেলাল উদ্দিন।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বরেন্দ্র অঞ্চল নাচোল উপজেলায় ও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় যে পরিমাণ পানি পাম্পের সাহায্যে উত্তোলন করা হচ্ছে সে পরিমাণ পানি ও ভূ-গর্ভস্থ স্তরে পুনরায় ভরাট বা রিচার্জ হচ্ছে না। এই অবস্থা চলতে থাকলে এক সময় আসবে যখন গভীর নলকূপের সাহায্যেও আর পানি পাওয়া যাবে না।ফলে ভবিষ্যতে পানির অভাব পেয়ে পরিবেশের বিপর্যয় হতে পারে।

জলবায়ু পরিবেশগত টেকসই ব্যবস্থাপনা অর্জনের জন্য ব -দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ সংক্ষিপ্ত সার ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এর গল্প হচ্ছে 'নিরাপদ জলবায়ু পরিবর্তনে অভিঘাত সহিষ্ণু সমৃদ্ধশালী ব-দ্বীপ গড়ে তোলা" এবং অভিলক্ষ্য হচ্ছে দূঢ় সমন্বিত ও সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল কার্যকরী কৌশল অবলম্বন এবং পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ন্যায় সঙ্গত সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত অভিঘাত এবং অন্যান্য ব-দ্বীপ সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবেলা করে দীর্ঘমেয়াদি পানী ও খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ।

সবচেয়ে বেশি পানি ব্যবহৃত হয় কৃষি খাতে, যা মোট ব্যবহারের প্রায় ৭০ শতাংশ। বরেন্দ্র অঞ্চলে এর ব্যতিক্রম নয় এবং বাসা বাড়ি ১০ শতাংশ ও শিল্প কারখানা ২০ শতাংশ সহ প্রায় সবটাই উত্তোলন করা হয় ভূগর্ভস্থ উৎস হতে।

সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় ২০১৫ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নে পানির স্তর পরিমাপের জন্য কুপ বসিয়েছিলেন গবেষণা সংস্থা ডাসকো ফাউন্ডেশন। কুপ বসানোর সময় পানির স্তর ছিল ১০১ ফুট নিচে। ২০১৭ সালে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে এসে প্রায় ১১০ ফুট নিচে পানির স্তর পাওয়া যায়। দেড় যুগ আগেও এসব এলাকায় ৮০ থেকে ৯০ ফুট গভীরে পানি পাওয়া যেত বর্তমানে প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০ ফুট নিচে পানি চলে গেছে।

২০১২ সালের দিকে সরকার কৃষি কাজের জন্য আর ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারপর থেকে বিএমডিএ নতুন করে আর নলকূপ বসাচ্ছেনা। ভূ-উপরিস্থ পানির আধার সৃষ্টি করতে বিএমডিএ বরেন্দ্র অঞ্চলে অনেক খাল ও খাড়ী সংস্কার এবং পুকুর খনন করলেও তা কাজে আসছে না। ফলে কৃষকদের ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তাই ব্যক্তি মালিকানায় গভীর মিনি নলকূপ এবং সৌর বিদ্যুতের সাহায্যে বসানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে। নাচোল উপজেলায় বিএমডিএ পরিচালিত প্রায় ৪৫০টি গভীর নলকূপ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন মিনি গভীর নলকূপ প্রায় তিন হাজারটি রয়েছে।

নাচোল উপজেলা বিএমডি এর সহকারী প্রকৌশলী জানান, ভূগর্ভের পানি উত্তোলন বন্ধ করে কিভাবে উপরিভাগের পানিকে সেচের কাজে ব্যবহার করা যায়। তা নিয়ে এমন কাজ করছেন তারা। ইতোমধ্যে নাচোল উপজেলায় মহানন্দা নদীর পানিতে সেচ দেয়ার কাজে ব্যবহার শুরু হয়েছে। আরও বেশ কয়েকটি প্রকল্প চালু আছে।

এদিকে কর্মশালায় বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিএমডি এর গভীর নলকূপের মাধ্যমে নির্বিচারে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণেই বরেন্দ্র এলাকায় পানির এমন ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে ডাসকো ফাউন্ডেশন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিয়ে বরেন্দ্র এলাকায় কাজ করে আসছে।

নাচোল উপজেলায় বিগত ৩০ বছরের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, এই এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বছরে প্রায়ই এক থেকে দেড় ফুট হারে নিচে নেমে যাচ্ছে এবং বৃষ্টিপাতের ক্রম ধারা সুষম নয়। দেশের গড় বৃষ্টি পাতের তুলনায় এই অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত প্রায় অর্ধেক। এই অবস্থান থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের এমনভাবে পানি উত্তোলন করতে হবে। যেন পানির স্তর বেশি নিচে চলে না যায়।

যাযাদি/ এম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
X
Nagad

উপরে