সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯
walton1

সংবাদ সংক্ষেপ

নতুনধারা
  ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০
মেরুদন্ডে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা ঘাড়, পিঠ বা কোমরের ব্যথায় ভোগেননি, এমন মানুষের সংখ্যা কম। কোনো আঘাত পাওয়া ছাড়াই মেরুদন্ডের এসব অংশে ব্যথা হতে পারে। মেরুদন্ডে ব্যথার সঠিক কারণ নির্ণয় করা তাই জরুরি। তা না হলে একদিকে যেমন রোগীর কষ্ট বাড়তে থাকে, একইভাবে বাড়ে চিকিৎসার ব্যয়। তাই শুরু থেকেই সতর্কতা ও চিকিৎসা জরুরি। মাথার খুলি থেকে প্রথম ৭টি হাড় বা কশেরুকা নিয়ে ঘাড়, পরবর্তী ১২টি হাড় নিয়ে পিঠ এবং এর নিচে ৫টি হাড় নিয়ে কোমর গঠিত। নানা কারণে মেরুদন্ডে ব্যথার সৃষ্টি হয়। ব্যথার উৎপত্তিস্থল ও লক্ষণ প্রকাশের স্থান আলাদা হওয়ায় প্রায়ই সঠিক রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা ব্যাহত হয়। মেরুদন্ডের হাড়গুলোর ভেতর দিয়ে বেরিয়ে আসা নার্ভে বা স্পাইনালকর্ডে কিংবা দুই হাড়ের মধ্যবর্তী ডিস্কের কিছু অংশ বের হয়ে গিয়ে চাপের সৃষ্টি করলে ওই স্নায়ুমূলে ও নার্ভের বিচরণ অঙ্গে ব্যথা হয়। এ জাতীয় ব্যথাকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিস্ক প্রোল্যাপস (পিএলআইডি), হার্নিয়েটেড ডিস্ক বা স্পাইনাল স্টেনোসিস বলা হয়। ডিস্কের স্থানচু্যতি বা সরে যাওয়া মাত্রার ওপর নির্ভর করে ডিস্ক প্রোল্যাপস রোগের জটিলতা। লক্ষণ মেরুদন্ডের ওপরের অংশ আক্রান্ত হলে দাঁড়ানো বা বসা অবস্থায় ঘাড়ে ব্যথা অনুভূত হওয়া, ঘাড় থেকে উৎপন্ন ব্যথা হাতে ছড়িয়ে পড়া, প্রাথমিক পর্যায়ে কাঁধ ও হাতে ব্যথা, হাতের বিভিন্ন অংশে ঝিনঝিন করা, বোধশক্তি কমে আসা, পর্যায়ক্রমে অসাড়তা, ধীরে ধীরে হাত দুর্বল হয়ে হাতের কার্যক্ষমতা লোপ পাওয়ার মতো সমস্যা হয়। পিঠের অংশে লক্ষণের মধ্যে রয়েছে বসা ও দাঁড়ানো অবস্থায় পিঠে ব্যথা এবং পিঠ থেকে বুকের চারপাশে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া। আর কোমরের দিকের মেরুদন্ডে ব্যথার লক্ষণগুলো হলো দাঁড়ানো বা বসা অবস্থায় কোমরব্যথা অনুভূত হওয়া, কোমর থেকে উৎপন্ন ব্যথা পায়ে ছড়িয়ে পড়া, নিতম্ব ও পায়ের মাংসপেশিতে ব্যথা, পায়ের বিভিন্ন অংশে ঝিনঝিন-শিনশিন করা, পায়ের বোধশক্তি কমে আসা, পর্যায়ক্রমে পায়ের অসাড়তা, ধীরে ধীরে পা দুর্বল হয়ে কার্যক্ষমতা হারানো এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে পঙ্গুত্ব বরণ। চিকিৎসা মেরুদন্ডের এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায় রোগী সাধারণত ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে উপশমের চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যথানাশক ওষুধ নিয়মিত ও দীর্ঘদিন খেলে কিডনিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তা ছাড়া এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তাই ঘাড়, পিঠ ও কোমরব্যথায় অবহেলা না করে দ্রম্নত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। * প্রয়োজন হলে অপারেশন বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ব্যথা নিরাময়ের ব্যবস্থা করতে হবে। * ফিজিওথেরাপি ও ব্যায়ামও প্রশমন দিতে পারে। * আজকাল লেজার চিকিৎসার মাধ্যমে মেরুদন্ডের ব্যথা নিরাময়ের ব্যবস্থা করা হয়। হঠাৎ পা ফুলে গেছে? হাঁটতে গিয়ে বা জুতা পরতে গিয়ে খেয়াল করলেন, কেমন যেন ভারী ভারী লাগছে পা। পা'টা যেন ফোলা ফোলা লাগে। জুতা বা মোজা আগের চেয়ে আঁটসাঁট লাগছে। এ রকম পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হওয়ারই কথা। শরীরের কোথাও জলীয় কিছু জমে গিয়ে এমন ফুলে ওঠাকে বলে ইডিমা। শরীরের অনেক অংশেই এমন পানি জমতে পারে, তবে অভিকর্ষের কারণে শরীরের নিচের দিকে পানি নামতে থাকে বেশি। প্রথমেই লক্ষ্য করার বিষয় হলো- দুই পা ফোলা, নাকি এক পা। দুই পা একসঙ্গে ফুলে যাওয়ার কারণ কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। যেমন উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ অ্যামলোডিপাইন অথবা অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেনজাতীয় ব্যথানাশক অথবা স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ, জন্মনিরোধক বড়ির কারণে পা ফুলতে পারে। দরকার হলে ওষুধ পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের তৃতীয় ট্রাইমস্টার মানে শেষ তিন মাসে ইডিমা বা পা ফোলা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। যদি আপনার পায়ের শিরায় একমুখী ভাল্বগুলো দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে রক্ত জমে পায়ের শিরাগুলোয় ফোলাভাব সৃষ্টি করে। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলে সাধারণত এটা দৃশ্যমান হয় বেশি। স্থূল মানুষের এটা বেশি হয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই পা ফোলা বা ইডিমা গুরুতর অন্তর্নিহিত রোগের লক্ষণ। যেমন হার্ট অকার্যকর, কিডনি অকার্যকর, লিভার অকার্যকর, থাইরয়েড হরমোনের অভাব, অপুষ্টি। এদের প্রতিটিরই নিজস্ব অনুষঙ্গ থাকবে। যেমন শ্বাসকষ্ট, মুখ ফোলা, পেট ফোলা, জন্ডিস, প্রস্রাব কম হওয়া বা না হওয়া, গলার স্বরে পরিবর্তন ইত্যাদি। এক পা ফোলার কারণ শরীরের নিম্নভাগ থেকে রক্ত ফেরত নেওয়ার কাজ করে যে শিরা, কোনো কারণে যদি এসব শিরার মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধে যায়, তাকে 'ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস' (ডিভিটি) বলে। ধমনির মাধ্যমে রক্ত পায়ে আসছে কিন্তু ফেরত যেতে পারছে না, তাই পা ফুলে যায়। উলেস্নখ্য, জমাট রক্ত হৃৎপিন্ড কিংবা ফুসফুসে গিয়ে মারাত্মক সমস্যা তৈরি করতে পারে। হঠাৎ ব্যথার সঙ্গে এক পা ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়া ডিভিটির মূল লক্ষণ। এর ঝুঁকি বাড়ে যদি কোনো রোগী দীর্ঘদিন বিছানাবন্দি থাকে, ক্যানসারে ভোগে, পায়ে কোনো আঘাত পায়, উড়োজাহাজ, ট্রেন বা বাসে লম্বা পথ ভ্রমণ করে। য় সুস্বাস্থ্য ডেস্ক
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে