বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

রাখুন নিরাপদ স্মার্টফোন

যাযাদি ডেস্ক
  ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৪৪

স্মার্টফোন জীবনে গতি আনার পাশাপাশি বেশ জটিল করেছে জীবনব্যবস্থাকে। আপাতদৃষ্টিতে স্মার্টফোন আপনার সহায়ক হলেও বাস্তবে এই ডিভাইসটি আপনার নিরাপত্তাহানির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ ক্ষেত্রে একটু অসাবধান হলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পেশা জীবন, সামাজিক জীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। স্মার্টফোন থেকে সবচেয়ে বেশি যে তথ্য পাচার হয়, তা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য। এ কারণেই স্মার্টফোনকে নিরাপদ রাখতে আমাদের কিছু পরামর্শ।

 

নিয়মিত আপডেট করুন: অনেকে ডেটা খরচ করার ভয়ে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম (ওএস) এবং অ্যাপস আপডেট করতে চান না। কিন্তু এটা হতে পারে ডিভাইস ও আপনার তথ্যের গোপনীয়তার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপের কোডে ভুলত্রুটি ধরা পড়ে, যা সাইবার হামলাকারীরা লুফে নেয়। ডিভাইস নিয়মিত আপডেট করলে এই ভয় থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকতে পারবেন। এছাড়া লেটেস্ট আপডেট অনেক নতুন ফিচারও নিয়ে আসে।

 

ফোন সর্বদা লক করে রাখুন: অলসতার কারণে যারা নিজ ফোন লক না করেন এবং ফোনের মাই ডিভাইস সার্ভিস অ্যাকটিভেট না করেন তারা সবচেয়ে বেশি হতাশ হন যখন ফোনটি চুরি যায়। কেননা চোর কোনো কষ্ট ছাড়াই তখন আপনার ডিভাইসের সব নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়। ফোন বারবার আনলক করার ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতেই কাজটি করে থাকেন অনেকে। যা মোটেও উচিত নয়। বর্তমানে ফিঙার প্রিন্ট ছাড়াও ফেস রিকগনিশনের মাধ্যমে অটো মোবাইল আনলক হয়ে যায়। এ ছাড়াও পূর্বের পিন, প্যাটার্ন এবং পাসওয়ার্ড লক তো থাকছেই। সুতরাং অলসতাকে পাশ কাটিয়ে ফোনটি লক করুন।

 

শুধু অফিসিয়াল সোর্স থেকে অ্যাপ ডাউনলোড: আইফোনের ক্ষেত্রে এই সুযোগ না থাকলেও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ক্ষেত্রে অনেকেই ইউটিউব ভিডিও ডাউনলোড এবং অন্যান্য কারণে আন-অফিসিয়াল সোর্স থেকে অ্যাপ-ডাউনলোড করেন। অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে অফিসিয়াল ও সবচেয়ে বিশ্বস্ত অ্যাপ-ডাউনলোডের স্থান হচ্ছে গুগল প্লে স্টোর। বাইরে থেকে ফাইল এনে ফোনে ইনস্টল করলে নিজের অজান্তেই ভাইরাসের কবলে পড়তে পারেন। অবশ্য গুগল প্লে থেকে কোনো অ্যাপ ডাউনলোডের আগেও সেটির রিভিউ এবং অ্যাপটি কতবার ইনস্টল করা হয়েছে তা দেখে নেওয়া উচিত। বর্তমানে অনেক ফোন অ্যাপে ম্যালওয়্যার রয়েছে, যা আপনার ফোন থেকে ব্যক্তিগত ডেটা চুরি করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

 

এনক্রিপশন ব্যবহার করুন: অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ইন্টারনাল ও এক্সটেন্ডেড স্টোরেজ পাসওয়ার্ড দিয়ে এনক্রিপ্ট করে রাখুন। তাহলে পাসওয়ার্ড ছাড়া অন্য কেউ কোনোভাবেই আপনার ফোনের কোনো ডেটা এক্সেস করতে পারবে না। এনক্রিপ্ট না করলে ফোনের মেমোরি কার্ড অথবা ইন্টারনাল স্টোরেজে থাকা তথ্য সহজেই বের করে আনা সম্ভব। এনক্রিপশন চালু করতে স্মার্টফোনের সেটিংসের সিক্যুরিটি সেকশন দেখুন।

 

পাসওয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট: অনেকেই ফোনের মধ্যে নোটস অ্যাপে বিভিন্ন অনলাইন সেবার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড লিখে রাখেন। এটা মারাত্মক ক্ষতিকর একটা অভ্যাস। এভাবে গোপনীয় ডেটা সংরক্ষণ করলে তা বেহাত হওয়ার বড় ধরনের আশঙ্কা থাকে। বরং কোনো পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপ ব্যবহার করুন (যেমন লাস্টপাস)। অথবা গুগল ক্রোমেও পাসওয়ার্ড সেভ করা যায়, যা গুগলের সার্ভারে সুরক্ষিত রাখতে পারেন।

 

অব্যবহৃত অ্যাপ আন-ইনস্টল করুন: যদি এমন হয়, আপনি একটি অ্যাপ ব্যবহার করছেন না, তাও এটি ফোনে ইনস্টল করা আছে, তাহলে সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি অ্যাপটি রিমুভ করে ফেলেন। কারণ বিভিন্ন অ্যাপ আপনার ডিভাইসের বিভিন্ন পারমিশন চায়। যত কম অ্যাপ ইনস্টল করবেন, ডিভাইস হ্যাক হওয়ার ঝুঁকিও তত কম থাকবে।

 

অপ্রয়োজনীয় কানেকশন বন্ধ রাখুন: যখন দরকার হচ্ছে না তখন ফোনের মোবাইল ডেটা, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ এসব কানেকশন বন্ধ করে রাখুন। এগুলো যেমন আপনার ফোনের ব্যাটারি বাঁচাবে, তেমনি ব্লুটুথ ও ওয়াইফাই হ্যাকের ঝুঁকি থেকেও রক্ষা করবে। অনিরাপদ ওয়াইফাই ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

 

সর্বক্ষেত্রে নিজের ই-মেইল আইডি ব্যবহার করুন

বর্তমানে দেশে এবং বিদেশে অনলাইন ব্যাংকিং বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। পিসির মতো মোবাইল ডিভাইসেও যেকোনো সিকিউরিটি সল্যুশন ইনস্টল করার সময় নিজের ই-মেইল আইডি থেকে রেজিস্ট্রেশন করলে অনেক ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

 

একটি সিকিউরিটি সল্যুশন ইনস্টল করুন: অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপস দেখতে যেমন মনে হয়, সত্যিকার অর্থে সেগুলো সে রকম নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অ্যাপসে সব ফিচারের কথা বলা থাকে, সেগুলো বাস্তবে সেসব কাজ করে না। তাই একটি ভালো মানের সিকিউরিটি সল্যুশন ব্যবহারের মাধ্যমে অপরিচিত ম্যালওয়্যারের আশঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকা যায়।

 

নিশ্চিত করুন যে আপনি ব্লুটুথ ব্যবহার করার সময় সুরক্ষিত

কিছু মানুষ ব্লুটুথের বিপদ বুঝতে পারে না। যদিও এই সুবিধাজনক ডিভাইস-পেয়ারিং প্রোটোকল আপনাকে ফাইল ট্রান্সফার বা ওয়্যারলেস ডিভাইস সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে অনেক ঝামেলা থেকে বাঁচাতে পারে; কিন্তু এটি হ্যাকারদের জন্য আপনার ফোনে প্রবেশের একটি সহজ উপায় হতে পারে, যদি আপনি এটি দায়িত্বের সঙ্গে ব্যবহার না করেন।

 

যাযাদি/ এসএম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে