সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯
walton1

উন্নত বিশ্বে বাংলাদেশী দক্ষ আইটি ইঞ্জিনিয়ারদের কদর বাড়ছে

যাযাদি ডেস্ক
  ০২ নভেম্বর ২০২২, ১৮:৩০
আপডেট  : ০২ নভেম্বর ২০২২, ২০:০১

সম্প্রতি সংযুক্ত আমিরাতের রাজধানী দুবাইতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো প্রযুক্তি দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আসর জিটেক্স টেকনোলজি এক্সপো ২০২২। বিশ্বের শ’খানের দেশের প্রায় ৫ হাজার প্রযুক্তি প্রকৌশলী ও প্রতিষ্ঠান এই এক্সপোতে যোগ দেয়। সম্প্রতি শেষ হওয়া এই টেকনোলজি এক্সপোতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে বিডি টাস্ক নামের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। তাদের তৈরী ব্লক চেইন রিলেটডে সফটওয়্যার ও সার্ভিসগুলো বেশ সাড়া ফেলেছে এক্সপোতে। যায়যায় দিন পাঠকদের জন্য  জিটেক্স টেকনোলজি এক্সপোর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বিডি টাস্কের পরিচালক ও তরুণ প্রকৌশলী তানজিল আহমেদ। 

তিনি বলেন, আমরা যারা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করি তাদের জন্য জিটেক্স টেকনোলজি এক্সপো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রযুক্তি দুনিয়া প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। আইটি সেক্টরে যারা কাজ করি তাদেরকে প্রতিনিয়ত আপডেটেড হতে হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রযুক্তি প্রকৌশলীরা কী ভাবছে, কী নিয়ে কাজ করছে? তাদের কী কী চাহিদা সেটা জানা জরুরি।

এই প্রেক্ষিতেই বলতে পারি জিটেক্স টেকনোলজি এক্সপোতে অংশ নেওয়া আইটি ক্যারিয়ারের জন্য একটা মাইল ফলক হতে পারে। তাছাড়া দুবাই এখন প্রযুক্তি দুনিয়ার উর্বর জায়গা। কারণ বিশ্বের বড় বড় আইটি কোম্পানি ও ধনী ব্যক্তিদের পদচারণা এখন দুবাইতে। ট্যাক্স সুবিধা এবং সহজ ভিসা প্রসেসিং এর জন্য সবাই এখন দুবাইমুখী। বিশেষত জিটেক্স এর মতো এক্সিবিশন হাব যা বিশ্বের অন্যতম বড় প্লাটফর্ম। বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকেই প্রকৌশলী ও ইনভেস্টররা সেখানে ঢু মারছেন। কেউ ব্যবসা খোঁজার জন্য, কেউ ব্যবসা করার জন্য সবাই দুবাই ঝুঁকছে। সুতরাং এমন বাস্তবতায় জিটেক্স টেকনোলজি এক্সপো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত বাংলাদেশর মতো উদীয়মান প্রযুক্তিখাতের জন্য এটা আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তানজিল আহমেদ বলেন, এক্সপোতে আমরা যে পাঁচ দিন ছিলাম খুবই ব্যস্ত সময় কেটেছে সেখানে। প্রচুর দর্শনার্থীরা আমাদের স্টল ভিজিট করেছে। আমাদের সার্ভিসগুলোর প্রশংসাও করেছে। আমরা অনেক নতুন ক্লায়েন্টও পেয়েছি ফেয়ার থেকে। তবে জিটেক্স সম্মেলনে তেমন বাংলাদেশী কাউকে পাইনি। আমরা ছাড়া মাত্র একটি বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান যোগ দিয়েছিল। অথচ কান্ট্রি ব্রান্ডিং, নিজের কোম্পানি ও প্রডাক্ট ব্রান্ডিং এর সেরা ক্ষেত্র হতে পারে জিটেক্স টেকনোলজি এক্সপো। জিটেক্সে যেহেতু সারা বিশ্বের প্রযুক্তি সংস্লিষ্টরা অংশ নেয়, সেহেতু সারা বিশ্বের কাছে নিজেকে এবং বাংলাদেশকে তুলে ধরার সুযোগ আছে এখানে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড লেটেস্টে টেকনোলজি ও বিজনেস আইডিয়া পাওয়া যায় এসব ফেয়ার থেকে।

উন্নত বিশ্বে বাংলাদেশী আইটি ইঞ্জিনিয়ার ও পেশাজীবীদের কদর বাড়ছে জানিয়ে তানজিল আহমেদ বলেন, অন্যান্য সেক্টরের মতো আইটি সেক্টরেও কিন্তু বাংলাদেশে লেবার কস্ট কম। অর্থাৎ ইউরোপ বা আমেরিকার তুলনায় এখানে অনেক কম খরচে আইটি সেক্টরের কর্মী পাওয়া যায়। যে কারনে গুগল-অ্যামাজনের মতো আইটি সেক্টরের জায়ান্ট কোম্পানিগুলোও তাদের কস্টিং সেইভ করার জন্য সাউথ এশিয়ার দেশ থেকে লোকবল সংগ্রহে আগ্রহী থাকে। এখানে আমরাও সুযোগ নিতে পারি। 

জিটেক্স আমাদের জন্য সম্ভাবনাময় কারন ফাস্ট ওয়ার্ল্ডের আইটি প্রতিষ্ঠান বা স্টার্টআপগুলো অনেক সময় এসব ফেয়ারে এসে হিউম্যান রিসোর্স সংগ্রহ করে। কম খরচে আইটি ইঞ্জিনিয়ার হায়ার করে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশী আইটি প্রফেশনালদের বিরাট সুযোগ রয়েছে। 

আমরা যদি আন্তর্জাতিক মানের এসব ফেয়ারে অংশ নিতে পারি তাহলে আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে বাংলাদেশের ইমেজটাও উজ্জল হয়। বাংলাদেশও যে আইটি খাতে পিছিয়ে নেই। সেই বার্তাটাও তাদের কাছে যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে বড় বড় ইনভেস্টমেন্ট আসতে পারে। 

জিটেক্সে বাংলাদেশীদের অংশগ্রহণ অনেক কম জানিয়ে তানজিল আহমেদ আরো বলেন,  আমরা যখন সেখানে যাই তখন দেখলাম ভারতীয় ডেভলপার বা আইটি ইঞ্জিনিয়ারদের আধিপত্য। বিশ্বের অনেক দেশের ব্যবসায়ীরা যখন আইটি খাতে জনবল খোঁজ করে তখন সেখানে তারা ভারতকেই চেনে। তারা বুঝতেও পারেনা যে পাশের বাংলাদেশের তরুণরাও এই খাতে পিছিয়ে নেই। আমরা কেমন কাজ করি সেটা বর্হিবিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারছিনা। কারণ ইন্টারন্যাশনাল এসব ইভেন্টে আমাদের অংশ গ্রহন নাই। 

ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক তৈরীতে জিটেক্স বড় ভূমিকা রাখতে পারে মন্তব্য করে তানজিল বলেন, যে কোন কাজ বা জব পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা থাকে পারসোনাল রিলেশনশীপ ডেভলপমেন্ট। যেহেতু এইসব ফেয়ারে বিভিন্ন দেশের বড় বড় কোম্পানির উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা বা ব্যবসায়ীরা আসেন,সেহেতু তাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের বড় সুযোগ আছে এখানে। কারো সাথে কফি খেলে বা বিজনেস কার্ড লেনদেন হলে সেখান থেকে ব্যবসা আসার সুযোগ তৈরী হয়। কয়েকটা ফরেন কোম্পানির সাথে কাজ করতে পারলে আপনাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবেনা। অনায়াসে দেশে বসেই বড় একটা টিম চালাতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা আইটি ডেভলপাররা অনেকেই পিএইচপি, ডটনেট বা নোট জেএস বা পাইথনসহ বিভিন্ন বিজনেস স্যলিউশন নিয়ে কাজ করি। আমাদের দেশে অনেকেই আছে এখনো ডেক্সটপ এপ্লিকেশন নিয়েই পড়ে আছি। এইযে এক ধরনের বিজনেসে বসে থেকে ৫ বছর বা ১০ বছর পড়ে থাকি ওইটাকে আপডেট করা হয়না এইটা ভুল সিদ্ধান্ত। বিজনেসে ডাইনামিক হতে হয় এবং লেটেস্ট টেকনোলজিকে এডপ্ট করে নিতে হয়। সেক্ষেত্রে এই ধরনের এক্সপোতে গেলে লেটেস্ট টেকনোলজি সম্পর্কে ধারণা হয়। বিভিন্ন স্টল ঘুরলে বিভিন্ন টাইপের কনসেপ্ট বা আইডিয়া জেনারেট হবে। হয়তো আমাদের এক টাইপের সল্যুশনগুলোকে তারা ভিন্নভাবে রিপ্রেজেন্ট করে বেশি বেনিফিট পাচ্ছে। এক্সপো থেকে এরকম নতুন নতুন ধারনা পাওয়া যায়। হয়তোবা এখান থেকে এমন আইডিয়া পেলেন যা আপনার জীবন বদলে দিতে পারে।

এছাড়া আমাদের দেশে অনেকেই নতুন নতুন স্টার্টাপ শুরু করে। ফান্ডের অভাবে বেশিদিন চালাতে পারেনা। দুবাইতে কিন্তু অনেক ব্যবসায়ীরা আসে। তাদের প্রচুর ফান্ড রয়েছে। ইনভেস্টররা পটেনশিয়াল সোর্স খোঁজে। এখানে স্টার্টাপদের জন্য বড় সুযোগ তাদের আইডিয়াকে বিগ ইনভেস্টরদের কাছে তুলে ধরার। জিটেক্স এক্সপোতে ইন্টারেস্টিং বিষয় হচ্ছে তারা আপনার স্টার্টআপকে ইনভেস্টরদের কাছে পৌঁছে দিবে। ম্যাচ মেকিং মিটিং করিয়ে দেয়। ইনভেস্টরদের সাথে কমিউনিকেশনের ব্যবস্থা করে দেয়। সেখানে ঠিকঠাকমতো স্পীচ দিতে পারলে আশা করি ইনভেস্টমেন্টও পাওয়া যাবে।

এক্সপোতে অংশ গ্রহণের পদ্ধিতি নিয়ে তানজিল বলেন, মেলায় অনেক ধরনের স্টল সিস্টেম আছে। যার যার সক্ষমতা অনুযায়ী স্টল নিতে পারবেন। এসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তাদের ওয়েব সাইটে দিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে সহযোগিতার দরকার হলে বেসিস এগুলোর সহযোগিতা করে থাকে। এছাড়া কেউ প্রয়োজন মনে করলে বিডি টাস্কের সাথেও যোগাযোগ করতে পারে। আমাদের অভিজ্ঞতার আলোকে যে কোন সহযোগিতা করবো। আর সম্মেলনের জন্য ভিসিট ভিসায় যেতে হয়। ভিসা প্রসেস খুবই সহজ। ১০-১৫ হাজার টাকায় ভিসা হয়ে যায়। সব মিলিয়ে বলতে পারি, দুবাইয়ের জিটেক্স সম্মেলন বাংলাদেশের আইটি সেক্টরের জন্য বিরাট সম্ভাবনা। 

যাযাদি/মনিরুল

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে