শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১

শপথের পরই বিরোধী জোটের তোপের মুখে নরেন্দ্র মোদি 

যাযাদি ডেস্ক
  ২৪ জুন ২০২৪, ১৪:৩৩
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা আজ সোমবার দেশটির অষ্টাদশ লোকসভার প্রথম অধিবেশনে শপথ নিয়েছেন। প্রথম অধিবেশন বসেছে স্থানীয় সময় বেলা ১১টায়। লোকসভা অধিবেশনের প্রথম দিনই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র তোপের মুখে পড়েন মোদি। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

ক্ষমতাসীন জোটের সংসদ সদস্যরা যখন শপথ নিচ্ছিলেন, তখনই সংসদের বাইরে বিক্ষোভ শুরু করে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র এমপিরা।

সোমবার অষ্টাদশ লোকসভার প্রথম অধিবেশনের দিনই সংবিধান বাঁচানোর দাবি তুলে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে বিক্ষোভ দেখান বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যরা। এসময় হাতে সংবিধান নিয়ে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খড়্গে, তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির ডিম্পল যাদব, এনসিপির (এসসিপি) সুপ্রিয়া সুলেরা।

এদিকে, শপথ নিয়ে সংসদে প্রথম ভাষণেই মোদি বলেন, তৃতীয়বার নির্বাচিত হয়ে তিনগুণ বেড়ে গিয়েছে দায়িত্ব। সবার মত নিয়ে সরকার পরিচালনা করবেন বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তার আগে দিল্লি থেকে ভাষণ দেন মোদি। জানালেন, নতুন বিশ্বাসের সঙ্গে নতুন উদ্যমে অধিবেশনের কাজ শুরু হবে। সহমতের ভিত্তিতেই কাজ করবে তার সরকার।

এবারের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তাদের নেতৃত্বাধীন জোট ২৯২টি আসন পেলেও বিজেপি একক ভাবে পেয়েছে মাত্র ২৪০টি আসন। এছাড়া কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ পেয়েছে ২৩৩টি আসন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নতুন সরকারে কিছুটা ‘নরমপন্থী’ হতে বাধ্য হয়েছে পদ্মশিবির।

বিজেপিকে সরকার গড়তে হয়েছে শরিক দলগুলোর সাহায্যে। সেই নমনীয়তার আঁচ পাওয়া গেলো প্রধানমন্ত্রীর লোকসভা শুরুর আগের ভাষণেও। জোট সরকারকে পারস্পরিক সহমতের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে বলে স্পষ্টই বার্তা দিলেন তিনি।

লোকসভায় সোমবার সংসদ সদস্য হিসাবে শপথগ্রহণ করেছেন মোদি। তার মন্ত্রিসভার সদস্যেরাও শপথ নিয়েছেন একে একে। শপথগ্রহণ তত্ত্বাবধান করেছেন প্রোটেম স্পিকার ভর্তৃহরি মহতাব। সকালেই রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে প্রোটেম স্পিকার হিসাবে শপথ নিয়েছেন তিনি। লোকসভায় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত। ২ বা ৩ জুলাই লোকসভার বিতর্কে অংশ নিতে পারেন মোদি।

অধিবেশন শুরুর আগের ভাষণে ইন্দিরা গান্ধীর আমলের কংগ্রেস সরকারকেও আক্রমণ করেন মোদি। তিনি বলেন, ৫০ বছর আগে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিলো। সেটা দেশের অন্ধকার অধ্যায়। গণতন্ত্রের উপর কালো দাগ। আর কখনো সেই আঁধার নেমে আসবে না এই দেশে।

বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিরোধীরা এখন পর্যন্ত আমাকে নিরাশ করেছে। তবে আশা করছি, সংসদে তারা সুষ্ঠুভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। মানুষ স্লোগান নয়, কাজ চায়।

যাযাদি/ এসএম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে