পিঠা পুলিতে রমিনার জীবন সংগ্রাম

পিঠা পুলিতে রমিনার জীবন সংগ্রাম

মাটির চুলায় ঘোষির আগুনের তাপে বানানো পিঠা বিক্রি করার ধুম পৌর চৌরাস্তায়। কাছে গিয়ে দেখা গেলো পিঠা খেতে হলে সিরিয়াল ধরতে হবে । সিরিয়াল ধরে বসে থেকে সংসার জীবনের যুদ্ধে হেরে যাওয়া যুদ্ধাহত রমিনার (৪৭ ) মুখে শোনা গেলো নানা কথা।

২৮ বছরের সংসার জীবন তার। বাবা আশা করে বিয়ে দিয়েছিল রায়গঞ্জ পৌরসভার মৃত মজিবুর রহমানের মেঝ ছেলে হেলালের সাথে। বিয়ের পর ক'টা দিন ভাল কাটলেও স্বামীর বদ নেশার কারণে সংসারের নেমে আসে অভাব। সংসার টিকিয়ে রাখতে তখন থেকেই এ বাড়ি সে বাড়ি কাজ করে খাওয়া শুরু তার। এর মাঝেই দুই সন্তানের জননী হওয়া।

চাঁদমুখি মেয়ে আর কালেমানিক ছেলেকে মানুষ হিসাবে সমাজে দাড় করানোর প্রানান্ত চেষ্টা। সে চেস্টাতেও ব্যর্থ হন তিনি। ছেলেটিকে মানুষ করতে না পারার যন্ত্রনা তাকে ভীষণ পীড়া দেয়। তবে চাদমুখি মেয়েটাকে পাওয়ার লুম চালক ছেলের সাথে যৌতুক বিহীন বিয়ে দিতে পেরে খুব খুশি রমিনা। দেশ জয় করার মত মুখে হাসি নিয়ে সে কথা আগত খরিদ্দারদের গর্বের সহিত বলেনও।

এবার স্বামী হেলালকে নিয়ে তার সুখের স্বপ্ন ভেংগে ক্যামনে চুরমার হচ্ছে তা বলতেই মুখটা মলিন হয়ে উঠলো। চোখে দুঃস্বপ্ন নিয়েই বলে উঠলো এবার ২৪ হাজার টাকা কামাই করে জুয়া খেলে হেরেছে। এভাবেই সে আয় করে আর জুয়ার আসরে গিয়ে হেরে আসে। সংসার চালাতে কোন অর্থই সে হাতে দিতে পারে না। মাঝখানে নিজ গ্রাম রেখে অন্যত্র স্বামীকে নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিল সে। কিন্তু সেখানেও দুষ্ট প্রকৃতির মানুষদের সাথে মিশে সব নিঃস্ব করে আবার ভাঙ্গা কুঠরীতে ফিরে আসতে হয়েছে তাকে।

'আমার পোড়া ক্ষত কপাল শুকাবে না ভাই' দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে উঠলো রমিনা।

কথা বলার মাঝেই নিভে যাওয়া চুলার আগুন জালাতে মুখের ফু ফায় কালো ধোয়ায় আচ্ছন্ন হয় তার এলাকা। সে ধোয়ায় খরিদ্দারদের চোখে মুখে গেলেও সে চোখ মুছে আবারও স্বাদের পিঠা নেবার জন্য পাল্লা দেয়। সন্ধ্যায় বিক্রি হওয়া পিঠার টাকা দিয়েই চলছে রমিমার সংসার।

জীবনের এই সময়ে পিঠা পুলিতেই এখন সুখ তালাশ করছে রমিনা। দু'চোখে দেখে বেঁচে থাকার স্বপ্ন। অনেক বছর ধরেই রায়গঞ্জ পৌর শহরের চৌ-রাস্তার পাশে ৪ টি চুলায় নানা ধরনের গরম পিঠা বিক্রি করে সংসার চালান তিনি। বেঁচে থাকার জন্য ২৮ বছর ধরে জীবন সংগ্রামে হার না মানা রমিনা এখন অনেকটাই স্থির। তবুও সারাদিন পিঠা পুলির রসদ সংগ্রহ করে সন্ধ্যার আগে বিক্রির জন্য বাজারে যাওয়া। সব পিঠা বিক্রি করে আবার গভীর রাতে বাড়ি ফেরা রমিনার চোখে তখন ঘুমের হাতছানি।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে