বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1
জিরো কোভিড-নীতি

চীনে বিক্ষোভ ঝিমিয়ে পড়ছে

চীনে গত তিন বছর ধরে একের পর এক লকডাউন এবং গণহারে কোভিড পরীক্ষার জেরে মানুষের ধৈর্য সহ্যের চরম সীমায় পৌঁছেছে। সাংহাই এবং রাজধানী বেইজিংয়ের মতো বড় বড় শহরে গত ক'দিনের বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ যোগ দেন।
যাযাদি ডেস্ক
  ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০
চীনে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ইতোমধ্যে স্তিমিত হয়ে আসছে। শহরগুলোতে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ জনগণকে সতর্ক করে দিচ্ছে, তারা যেন ঘর থেকে বের না হয়। গত শনি-রোববার কোভিড বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভগুলোতে যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদের অনেকে বলছেন যে তারা পুলিশের কাছ থেকে ফোন পেয়েছেন। রাজধানী বেইজিংয়ের বেশ কয়েকজন বলেছেন, পুলিশ তাদের ফোন করে তারা কোথায় আছেন সে ব্যাপারে তথ্য চাইছে। কীভাবে পুলিশ তাদের পরিচয় জানতে পারল তা স্পষ্ট নয়। চীনের বেইজিং সাংহাই ও উহানের মতো বেশ কিছু শহরে হওয়া ওই বিক্ষোভে হাজার হাজার লোকের সমাগম হয়েছিল। এসব বিক্ষোভে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে পদত্যাগ করার দাবি জানিয়ে সেস্নাগান দেওয়া হয়- যা চীনে অত্যন্ত বিরল ঘটনা। মঙ্গলবার সকালে বেইজিং এবং সাংহাই শহরের এমন কিছু জায়গায় পুলিশকে টহল দিতে দেখা যায় যেখানে টেলিগ্রাম-অ্যাপভিত্তিক কিছু গ্রম্নপ লোকজনকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। সোমবার রাতে দক্ষিণাঞ্চলীয় হাংজু শহরে একটি ছোট আকারের বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ এসে থামিয়ে দেয় এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। খবরে বলা হয়, পুলিশ অনেক লোকের ফোন পরীক্ষা করে দেখছে যে সেখানে ভিপিএন আছে কিনা, টেলিগ্রাম বা টুইটারের মতো অ্যাপ আছে কিনা- যা চীনে নিষিদ্ধ। গত দুই দিনে বেশ কিছু লোককে আটকও করা হয়- যার মধ্যে এমন লোকও আছেন যারা রাস্তায় ছবি তোলার জন্য থেমেছিলেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে একজন মহিলা বলেছেন ু বেইজিংয়ে একটি বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পর তিনি ও তার পাঁচ বন্ধু পুলিশের ফোন পেয়েছেন। তাদের একজন ফোন না ধরায় পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেয় যে, তিনি তাদের ভাষায় 'অবৈধ সমাবেশে' গিয়েছিলেন কিনা। আরেকজন রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাদের কয়েকজনকে একটি থানায় গিয়ে 'রোববার রাতে তারা কি কি করেছেন' তার একটি লিখিত বিবৃতি জমা দিতে বলা হয়েছে। বেইজিংয়ের একজন বিক্ষোভকারী বলেছেন তারা মরিয়া হয়ে তাদের 'ইন্টারনেট চ্যাট হিস্ট্রি' মুছে ফেলছেন। চীনা সরকারের একজন মুখপাত্র এই বিক্ষোভের জন্য এমন কিছু শক্তিকে দায়ী করেন যাদের অসাধু উদ্দেশ্য ছিল। তবে তিনি বিস্তারিত আর কিছু বলেননি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, আইনের শাসনের ব্যাপারে দেশটির অবস্থান একক এবং নাগরিকদের সব অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত, তবে সেগুলো অবশ্যই আইনের কাঠামোর মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে। গত সপ্তাহান্তে চীনের বেশ ক'টি শহরে বিক্ষোভের ওপর চীনা নেতৃত্বের দিকে থেকে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠোর বিবৃতি। গত বৃহস্পতিবার পশ্চিম চীনের উরুমচিতে একটি বহুতল ভবনে আগুন লেগে ১০ জনের মৃতু্যর পর এ বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। অনেক চীনাই মনে করেন, কোভিড বিধিনিষেধ না থাকলে এ মৃতু্য এড়ানো যেত। তবে কর্তৃপক্ষ এ কথা অস্বীকার করছে। একজন কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে এ বিক্ষোভের কারণে 'জিরো কোভিড' নীতিতে পরিবর্তন আনা হবে কিনা। জবাবে তিনি বলেন, চীন এসব বিধিনিষেধে পরিমার্জন-পরিবর্তন অব্যাহত রাখবে। চীনা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দেশের টিকাদান কর্মসূচিকে ত্বরান্বিত করার ঘোষণা করেছেন এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের টিকাদানের ওপর জোর দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে তাদের এলাকায় কোভিড-১৯ এর উপস্থিতি শনাক্ত হওয়া মাত্রই কঠোর লকডাউন আরোপ করার সুপারিশ করেছে। চীনে গত তিন বছর ধরে একের পর এক লকডাউন এবং গণহারে কোভিড পরীক্ষার জেরে মানুষের ধৈর্য সহ্যের চরম সীমায় পৌঁছেছে। সাংহাই এবং রাজধানী বেইজিংয়ের মতো বড় বড় শহরে গত ক'দিনের বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ যোগ দেন। ক্লান্ত এবং বিপর্যস্ত চীনারা এখন খোলাখুলি প্রশ্ন করছে, আর কতদিন তাদের শি জিন পিংয়ের এই জিরো-কোভিড নীতি সহ্য করতে হবে? প্রেসিডেন্ট শি এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টিকে বড় এক রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখোমুখি করেছে এই বিক্ষোভ। তাদের এখন একইসঙ্গে এই জনরোষ এবং কোভিড ভাইরাস নিয়ে সরকারের মধ্যে বিদ্যমান তীব্র আতঙ্ক সামলানোর একটা পথ খুঁজতে হবে। বিবিসি বাংলা
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে