সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯
walton1
বিক্ষোভের জের

অবশেষে লকডাউন তুলল চীন

ম যাযাদি ডেস্ক
  ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০
করোনা বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ব্যাপক বিক্ষোভে বাধ্য হয়ে অবশেষে চায়না কর্তৃপক্ষ দেশটির প্রায় সব জেলা ও শহর থেকে লকডাউন তুলে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে ভাইস প্রিমিয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সংক্রমণ বাড়ায় নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে চীন। দেশটির কোভিড পরিস্থিতি শূন্যের কোটায় নামিতে আনতে কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসছে সরকার। সংবাদসূত্র : বিবিসি চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী সান চুনলান সিনহুয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, 'দেশে ওমিক্রন সংক্রমণের ভয়াবহতাও অনেকটা কমে এসেছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে টিকাদান কর্মসূচির গতিও। শুরু থেকেই অন্যদের চেয়ে অনেক পরিকল্পিতভাবে আমরা মহামারি মোকাবিলার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম এবং এখন আমরা এই মোকাবিলার নতুন পৌঁছেছি।' এরই মধ্যে রাজধানী বেইজিং, বৃহত্তম শহর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র সাংহাই, দক্ষিণাঞ্চলীয় বাণিজ্যকেন্দ্র গুয়াংডং, চংকিং, ঝেংঝৌসহ চীনের সব এলাকায় লকডাউন তুলে নেওয়া হয়েছে। গুয়াংডংয়ে অবশ্য বুধবারেই লকডাউন শিথিল করা হয়েছিল। এছাড়া আরও কিছু ব্যাপারে শিথিলতা এনেছে দেশটির সরকার। যেমন- আগে কোনো একটি আবাসিক ভবনে একজন করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হলে পুরো ভবন লকডাউন করা হতো। তবে সরকারি বৃহস্পতিবার 'সিনহুয়া'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন থেকে কোনো ভবনের কোনো বাসিন্দা করোনায় আক্রান্ত হলে কেবল তিনিই 'আইসোলেশনে' থাকবেন, ভবন আর লকডাউন করা হবে না। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে বিশ্বের প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। করোনায় প্রথম মৃতু্যর ঘটনাটিও ঘটেছিল চীনে। তারপর অত্যন্ত দ্রম্নতগতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিস্নউএইচও)। তাতেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় অবশেষে ওই বছরের ১১ মার্চ করোনাকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে ডবিস্নউএইচও। মহামারির শুরু থেকেই করোনার বিস্তার রোধ করতে মাসের পর মাস লকডাউন, কোয়ারেন্টিন ও ভ্রমণবিধি, বাধ্যতামূলক করোনা টেস্টসহ বিভিন্ন কঠোর নীতি গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগের সংক্রমণ-মৃতু্য নিয়ন্ত্রণে রেখেছে সরকার। এ কারণে বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে চীনে করোনায় সংক্রমণ-মৃতু্যর হার এখনও অনেক কম। কিন্তু সরকারের এই কঠোর 'জিরো কোভিড' নীতিতে হাঁপিয়ে উঠেছিল দেশটির সাধারণ মানুষ। মাসের পর মাস লকডাউন ও কোয়ারেন্টিন জারি থাকায় দেশটির অনেক শ্রমজীবী তাদের আয়ের সংস্থান যেমন হারিয়েছে, তেমনি বিদেশি অনেক কোম্পানি চীন থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে। এর মধ্যেই কয়েকদিন আগে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের উরুমকি শহরে একটি বহুতল বাসভবনে আগুন লেগে ১০ জন নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, লকডাউনের কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে বিলম্ব হয়েছে। যদি বিলম্ব না হতো, তাহলে এই নিহতের ঘটনা ঘটত না। তারপর থেকেই চীনজুড়ে শুরু হয় লকডাউন-বিরোধী বিক্ষোভ। সরকারের 'জিরো কোভিড' নীতি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে দেওয়া একের পর এক সেস্নাগানে রীতিমতো কেঁপে ওঠে বিভিন্ন শহর। অনেক জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে লকডাউন বিরোধী জনতার হাতাহাতি-সংঘর্ষও হয়। চীনে এ ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ খুবই বিরল। সেই বিক্ষোভের পরই মূলত 'জিরো কোভিড' নীতি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিল দেশটির সরকার।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে