বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা

কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে
বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা

করোনার মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। একদিনে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ১৫৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যা চলতি বছর দেশে একদিনে সর্বোচ্চ। এর আগে ২৭ জুলাই মঙ্গলবার ১৪৩ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬৮ জনে। চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত হাসপাতালে সর্বমোট রোগী ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৯৮ জন। একই সময়ে তাদের মধ্য থেকে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়প্রাপ্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫২৬ জন রোগী।

এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, ২০১৯ সালে সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১৭৯। ২০২০ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ হাজার ৩৯২ জন, মৃতু্যবরণ করেছিলেন ৩ জন। গত বছর থেকে করোনার প্রকোপে বিপন্ন হয়েছে জনজীবন। বর্তমানে সংক্রমণ ও মৃতু্য আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। এমন অবস্থায় যদি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে, তা হলে এর চেয়ে উদ্বেগের ঘটনা আর কী আছে। করোনা রোগীরাও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে, এমন সংবাদও পত্রিকার পাতায় উঠে আসছে।

উলেস্নখ্য, মশক নিধনে দুই সিটি করপোরেশনে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে চলাচ্ছে বিশেষ চিরুনি অভিযান। এডিস মশার লার্ভা নিধনে পরিচালিত হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলেই জরিমানা করা হচ্ছে। তবে কয়েক দিনের বৃষ্টি এডিস মশার বংশবিস্তারে প্রভাব ফেলছে। বৃষ্টিতে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে মশা বংশবিস্তারের সুযোগ পায় এবং লার্ভার ঘনত্ব বেড়ে যায়। লার্ভার ঘনত্বের কারণে কিছু কিছু এলাকা ডেঙ্গু ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। নির্মাণাধীন ভবন, খালি কনটেইনারে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। এসব থেকে নগরবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। বালতি, বোতলে কিংবা কোনো পাত্রে পানি যেন জমতে না পারে এজন্য কর্তৃপক্ষ ও নাগরিকদের খেয়াল রাখতে হবে। এ ব্যাপারে নগরবাসীকে সচেতন করার জন্য প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

এটা সত্য, ৫০ বছর আগেও ডেঙ্গুর বিষয়ে মানুষ তেমন জানতেন না। কিন্তু পরে এটি ধীরগতিতে এগিয়ে মহামারিতে রূপ নেয়। বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মাত্র ৯টি দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়েছিল। কিন্তু এখন বছরে প্রায় ৪০ কোটি মানুষ এ ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছেন। যা সারা বিশ্বের জন্য অশনিসংকেত।

২০১৯ সালে ডেঙ্গুর আগ্রাসন বাড়ার কারণে জনমনে ব্যাপকভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০২০ সালে এর মাত্রা কম ছিল। এবার দেশ করোনা সামাল দিতেই হিমশিম খাচ্ছে। সারা দেশে চলছে কঠোর লকডাউন। করোনার ভয়াবহ প্রকোপের ফলে সঠিকভাবে মশক নিধনের বিষয়টি চাপা পড়ে যাচ্ছে। দুই সিটি করপোরেশনের উচিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ওষুধ ছিটানোর কাজটি ব্যাপকভাবে শুরু করা। পরিকল্পিত ও কার্যকর উদ্যোগই কেবল পারে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে। তবে এ ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা ও সতর্কতার বিকল্প নেই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে