শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
walton1

পুরনো বৃত্তেই প্রবাসী আয়

কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি
নতুনধারা
  ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০
বাংলাদেশ জনসংখ্যাবহুল দেশ। আর এই জনশক্তিকে জনসম্পদে রূপান্তর করা দেশের সার্বিক অগ্রগতির প্রশ্নে জরুরি। এ প্রসঙ্গে বলা দরকার, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের মানুষ সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে প্রবাসী আয়। যখন করোনা পরিস্থিতিতে সারা বিশ্ব দিশেহারা, দেশেও করোনার সংক্রমণ ও সংক্রমণে মৃতু্য বাড়ছিল, সেই পরিস্থিতিতেও প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত ছিল। একের পর এক রেকর্ডও হয়েছে। কিন্তু এ কথাও বলা দরকার, যদি প্রবাসী আয় একই বৃত্তে আটকে থাকে তবে সেটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার বিকল্প নেই। নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরও বাড়ছে না প্রবাসী আয়। বরং ঘুরে ফিরে সেই পুরনো বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে। তথ্য মতে, চলতি মাসের ২৫ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৩৪ কোটি ৭১ লাখ মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৪ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের হাল নাগাদ পরিসংখ্যানে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। এ প্রসঙ্গে বলা দরকার, এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৬০ কোটি ডলারে- যা আগের মাসের চেয়ে কিছুটা বেশি এবং গত বছরের নভেম্বের মাসের চেয়েও বেশি। কিন্তু স্মর্তব্য যে, এটি চলতি বছরের শুরু এবং গত বছরের শেষের মাসগুলোর চেয়ে কম। ফলে আপাতত প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের ধস না নামলেও বড় বৃদ্ধিও দেখা যাচ্ছে না। সঙ্গত কারণেই প্রবাসী আয়ের সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। অর্থনীতির অন্যতম এ সূচকের নেতিবাচক গতি দুশ্চিন্তায় ফেলেছে সরকারকে- এটিও খবরে উঠে এসেছে। আর এমন পরিস্থিতিতে বৈধপথে রেমিট্যান্স আনতে বিভিন্ন শর্ত শিথিল, চার্জ ফি মওকুফসহ বেশ কিছু উদ্যোগও নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু জানা যাচ্ছে, এরপরও প্রবাসী আয়ে মিলছে না আশানুরূপ সাফল্য। প্রসঙ্গত উলেস্নখ করা দরকার- সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রবাসী আয়ে তার ছাপ পড়েছে। এছাড়া যুক্ত হয়েছে দেশে ব্যাংক নিয়ে নানা রকম অপপ্রচার। আমরা মনে করি, সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে করণীয় নির্ধারণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এটা মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশের অর্থনীতি যে কয়টি ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে তার মধ্য রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় উলেস্নখযোগ্য। ফলে এই খাতের অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে উদ্যোগ নিতে হবে। করোনা মহামারিকালে প্রবাসী আয়ে ধস নামার আশঙ্কা ছিল অনেকেরই। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়ে অগ্রগতির ধারা অব্যাহত ছিল। এরও আগে জানা গিয়েছিল, করোনা মহামারির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী আয় অর্জন কমলেও বাংলাদেশে প্রবাসী আয় বেড়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সার্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি। রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে যেমন উদ্যোগ নিতে হবে, তেমনি দেশকে অগ্রগতির ধারায় এগিয়ে নিতে দক্ষ জনশক্তির বিষয়টি আমলে নিয়েও এ ব্যাপারে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। দেশের জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে পরিণত করতে হবে। দক্ষ জনশক্তি যত বেশি বাড়বে, ততই নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি হবে। ফলে প্রবাসী আয়ের বিষয়টিকে সামনে রেখে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার পাশাপাশি নতুন নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করা এবং দক্ষ জনশক্তি নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। আর সেই লক্ষ্যে বাড়াতে হবে প্রশিক্ষণের পরিধিও। এছাড়া যেসব দেশে বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত, তাদের দেখভালের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে প্রবাসী আয় বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত হোক এমনটি কাম্য।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে