মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১

জন্মভূমিতে ফিরতে চান রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসন সফল হোক

  ১০ জুন ২০২৩, ০০:০০
জন্মভূমিতে ফিরতে চান রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসন সফল হোক

রোহিঙ্গা সংকটের যৌক্তিক সমাধানের ব্যাপারে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে কেবল আশার বাণী শোনানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি- এমন বিষয় বারবার আলোচনায় এসেছে। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করা হবে- এ ধরনের আশ্বাস বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবে আলোর মুখ দেখেনি। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, দ্রম্নত জন্মভূমি মিয়ানমারে ফেরার দাবিতে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে সমাবেশ করেছে রোহিঙ্গারা। এ সময় তারা প্রত্যাবাসনবিরোধী ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন। তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রিত অন্তত ১৩টি আশ্রয় শিবিরে রোহিঙ্গারা একযোগে মানববন্ধন করেন ও সমাবেশে অংশ নেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আমলে নেওয়া দরকার, প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনা ও দুই দেশের প্রতিনিধিদের সফর ও নানাবিধ পদক্ষেপের মধ্যে রোহিঙ্গারা এই সমাবেশ করল।

আমরা বলতে চাই, যখন রোহিঙ্গা নেতারা অভিযোগ করে বলছে, দুই দেশের আলোচনার মধ্যে একটি মহল প্রত্যাবাসন বন্ধের ষড়যন্ত্র করছে- তখন সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার বিষয়টি আমলে নেওয়া এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে উদ্যোগ গ্রহণ করা। এ ছাড়া সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, তারা দ্রম্নতই নিজেদের দেশে ফিরতে চান, নিজের বসতভিটায় যেতে চান। অন্যদিকে প্রত্যাবাসনের জন্য দুই দেশের মধ্যে যে আলোচনা চলছে তা সফল করার আহ্বানও জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা। আমরা মনে করি, সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতার যে বিষয়গুলো বলেছেন তা যেমন খতিয়ে দেখতে হবে, তেমনিভাবে প্রত্যাবসান সংক্রান্ত সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

স্মর্তব্য যে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ৮ লাখ ৮৮ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর তালিকা মিয়ানমারের কাছে পাঠিয়েছিল। এরপর মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ৬৮ হাজার রোহিঙ্গার একটি ফিরতি তালিকা পাঠানো হয়। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ওই তালিকা থেকে পরিবারভিত্তিক প্রত্যাবাসনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১১৪০ জনকে বাছাই করা হয় পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে। এর মধ্যে ৭১১ জন রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমার সম্মতি দিলেও বাকি ৪২৯ জনের ব্যাপারে তারা আপত্তি জানিয়েছিল। যখন প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সর্বশেষ উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর প্রত্যাবাসন ইসু্যটি অনেকটা ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল- তখন অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে অগ্রগতি হবে না। তবে চলতি বছরের এপ্রিলে চীনের মধ্যস্থতায় আকস্মিকভাবে ফের তৃতীয় দফায় উদ্যোগ শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে চীনের কুনমিংয়ে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকও হয়। এ ছাড়া এপ্রিলে মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজার এসে আগের বাকি তালিকায় থাকা ৪২৯ জনের রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকার নিয়ে ফিরে যায়। এরপর রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধি দলও রাখাইনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে দেশে ফিরে আসে। মূলত তারপরই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ফের গতি পায়।

আমরা মনে করি, যখন প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনা ও দুই দেশের প্রতিনিধিদের সফর ও নানাবিধ পদক্ষেপের মধ্যে রোহিঙ্গারা সমাবেশ করল এবং রোহিঙ্গা নেতারা বলছে, দুই দেশের আলোচনার মধ্যে একটি মহল প্রত্যাবাসন বন্ধের ষড়যন্ত্র করছে- তখন এটি বিবেচনায় রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে যথাযথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, প্রায় ১৭ কোটির অধিক বাংলাদেশি নাগরিকের জনবহুল বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের চাপ আর কতদিন সইতে হবে- এই প্রশ্ন অযৌক্তিক নয়। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, তাদের আজীবন রাখতে হবে। এটা এখন বাংলাদেশের জন্য বিরাট বোঝা। বাংলাদেশ চায় সুষ্ঠু সুন্দর ব্যবস্থাপনায় নাগরিক মর্যাদায় তাদের পূর্ণ অধিকার দিয়ে ফেরত নেওয়া হোক। ফলে বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ানো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সফল করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকুক এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখুক এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে