বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
walton

দখল ও দূষণের শিকার নদী কার্যকর উদ্যোগ নিন

নতুনধারা
  ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ০০:০০

নদীদূষণ বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের নদী বাঁচাতেই হবে। বাংলাদেশ বাঁচাতে হলে নদী বাঁচাতে হবে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণরোধ ও নাব্য রক্ষার লক্ষ্যে প্রণীত মাস্টারপস্ন্যানের আলোকে সম্পাদিত সমীক্ষা প্রতিবেদন অবলোকন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প গ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্তবিষয়ক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নদী আমাদের বাংলাদেশের জন্য তেমন, ঠিক আমাদের দেহে যেমন রক্ত চলাচলের জন্য শিরা উপ-শিরা আছে। আমাদের বাংলাদেশের টিকে থাকাটাও নির্ভর করে এ নদীর ওপরে। বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখার জন্য (প্রয়োজন) সেই প্রবহমান নদী। শিরা উপ-শিরার মধ্য দিয়ে রক্তধারা আমাদের শরীরকে বাঁচায়, বাংলাদেশকেও কিন্তু বাঁচায় এ পানি ও নদী। কথাটা আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে। এক সময় বাংলাদেশের নৌপথই ছিল পণ্য পরিবহণের একমাত্র বাহন, একমাত্র জায়গা। নৌপথগুলো কমতে কমতে অনেক জায়গায় এখন নদীপথ নেই, এমন একটা জায়গায় চলে এসেছে।

নদীর আপন গতিতে চলা বাধাগ্রস্ত করছে মানুষ। সভ্যতার নামে যে নদীর চলাকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে সে নদীকে কেন্দ্র করেই কিন্তু মানব সভ্যতা বিকশিত হয়েছে। নদীকে থামানো মানে প্রকৃতিকে থামানো। প্রকৃতিকে থমকে দিয়ে মানবসভ্যতা গতি পাবে এ ধারণা যে মানুষ এখন উপলব্ধি করতে পারছে। সে জন্য সারা পৃথিবীতে চলছে নদী বাঁচাও আন্দোলন।

কিন্তু আমাদের দেশে নদী যেন কারো কারো পৈতৃক সম্পত্তি। যার ক্ষমতা আছে সে-ই নদীর ওপর অত্যাচার চালানোর অধিকার ফলাচ্ছে। নদী দখল হচ্ছে, নদীদূষণ হচ্ছে দেখার যেন কেউ নেই। প্রতিবাদ আসছে কিছু সংগঠন থেকে। কিন্তু যারা প্রতিকার করবে তারা চোখ বন্ধ করে বসে আছে। যে বুড়িগঙ্গা এক সময় ঢাকার গর্ব ছিল তা শিল্পবর্জ্যে এত কলুষিত হয়েছে যে, তার পানিকে কালির সঙ্গে তুলনা করা যায়।

অনেকাংশে নদীর পানি আর বহমান নয়। বর্জ্যের ভারে পানি স্থবির হয়ে আছে। পানিতে অক্সিজেন নেই। নদীর প্রাণীগুলো মরে যাচ্ছে। এ কাহিনী পুরনো। তবুও আন্দোলনকারী এবং মিডিয়া এ বিষয়টি নিয়ে বলে যাচ্ছে যদি কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙে।

দখলের পাশাপাশি ভয়াবহ দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দেশের নদনদী। ৫৬ নদনদীর পানি পরীক্ষায় সবকটিতেই মিলেছে অতিমাত্রায় দূষণ। এর মধ্যে জলজপ্রাণী বেঁচে থাকার মতো পর্যাপ্ত অক্সিজেন নেই ২৬টিতে। নদী দূষণের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে জীববৈচিত্র্যে ও জনজীবনে। হারিয়ে যাচ্ছে অনেক মাছ ও জলজপ্রাণী। দূষণের বিষ খাদ্যচক্রের মাধ্যমে প্রবেশ করছে মানবশরীরে। যা জন্ম দিচ্ছে কিডনি বিকল, ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের। যাচ্ছে প্রাণ। বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়। দেশের বিভিন্ন স্থান, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে নানারকম প্রভাব খাটিয়ে নদী ও খালের তীরবর্তী স্থান দখলে নিয়ে অনেকে বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এমনকি নদীর তীরবর্তী স্থান দখলে নিয়ে অনেকে বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন রকম স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এমনকি নদীর তীরবর্তী স্থানে অবৈধভাবে হাটবাজারও বসানো হয়েছে। দূষণ এবং অবৈধ দখলের হাত থেকে নদীকে বাঁচাতেই হবে। এর অন্য কোনো বিকল্প নেই।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে