মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1

নতুন বছরেও সুখে-শান্তিতে থাকতে চাই

নুসরাত ইমরোজ তিশা- টিভি ও চলচ্চিত্রের অপরিহার্য ও নির্ভরযোগ্য এক অভিনেত্রী। ছোট পর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনয় জীবন শুরু করলেও গান দিয়ে শুরু হয়েছিল তার শোবিজ যাত্রা। বর্তমানে টিভি নাটকের চেয়ে ভিন্ন ধারার গল্পের সিনেমাতেই বেশি দেখা যায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এ অভিনেত্রীকে। তার অভিনীত সিনেমা বিদেশেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে এই তারকার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের দু'টি সিনেমা। বর্তমানে স্বামী সন্তান নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থান করছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন জাহাঙ্গীর বিপস্নব
নতুনধারা
  ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০
চলমান সময়... এইতো চলছে ভালোই। জীবনের অন্যতম সুন্দর সময় এটাকে বলব। আমার একমাত্র কন্যার বেড়ে ওঠা, ওর হাসি মুখ, ওর সবকিছু আমাকে আনন্দ দেয়। বিশ্বকাপ খেলা দেখা আর একমাত্র কন্যাকে নিয়েই বেশিরভাগ সময় কাটছে। এছাড়া ফেসবুকে বসেও কাটিয়ে দিচ্ছি অলস সময়টা। তবে এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য মেয়ে কন্যা ইলহাম নুসরাত ফারুকীর টেককেয়ার করা।পাশাপাশি সংসারটাকে আরও সুন্দর করে গুছিয়ে নেওয়া। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সিনেমা... আপনারা দেখেছেন টিভি নাটকের পাশাপাশি বেশিরভাগ সিনেমাতেই ভিন্ন ধারার গল্প ও চরিত্রে কাজ করেছি। যদিও মাঝখানে দু'টি বাণিজ্যিক ধারার সিনেমায় অভিনয় করেছি। তবে সেগুলো আহামরি ব্যবসাসফল হয়নি। দর্শক আমাকে বিকল্পধারা, মনস্তাত্ত্বিক সিনেমাতে দেখছে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাছাড়া আমার এবং নির্মাতাদেরও আগ্রহ অফট্র্যাকের গল্পের সিনেমায় কাজ করি। সেই ধারাবাহিকতায় ঐতিহাসিক সিনেমার প্রেক্ষাপটে অভিনয় করছি। 'ফাগুন হাওয়ায়' ছিল আমার প্রথম ইতিহাসভিত্তিক সিনেমা। এরপর বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক ও সর্বশেষ 'বীরকন্যা প্রীতিলতা'। বীরকন্যা প্রীতিলতার চরিত্রে... সত্যি বলতে আমি খুব সৌভাগ্যবতী যে এ ধরনের সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করতে পেরেছি। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস 'ভালোবাসা প্রীতিলতা' থেকে 'বীরকন্যা প্রীতিলতা' নামে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন প্রদীপ ঘোষ। অসম্ভব ভালো একটা কাজ হয়েছে; যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এই সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে আমি নিজেও অনেক কিছু জেনেছি প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের জীবন সম্পর্কে। আমি নিজেও মুখিয়ে আছি এর মুক্তির জন্য। এরই মধ্যে সিনেমাটির প্রচারণাতেও অংশ নিয়েছি। কিন্তু বিশ্বকাপের কারণে সিনেমাটির মুক্তি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক চ্যালেঞ্জিং চরিত্র... একজন প্রীতিলতা হয়ে ওঠা অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং ছিল। এমন একজন বিখ্যাত মানুষের চরিত্রে অভিনয় করা এবং সেই মানুষটি হয়ে ওঠা তো চ্যালেঞ্জিং অবশ্যই। প্রীতিলতার ওপর তো কোনো ভিজু্যয়াল কিছু নেই। যা কিছু জেনেছি বই পড়ে। বই পড়ে, লেখকের লেখা পড়ে চরিত্রটি করতে হয়েছে। আমি আমার দিক থেকে সেরাটুকু দেওয়ার চেষ্টা করেছি; লেভেল বেস্ট যেটাকে বলে। সামর্থ্য অনুযায়ী অভিনয় করেছি। পরিচালক তার সেরাটুকু দিয়েছেন। এছাড়া সুন্দর সুন্দর লোকেশন খুঁজে বের করেছেন তিনি। ভালো লোকেশন চুজ করাটাও একটি বিষয়। ওভারঅল পরিচালক ভালো করেছেন। বাকিটুকু মুক্তির পর দর্শকরা বলবেন। বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক প্রসঙ্গে... এটা আমার ক্যারিয়ারের অন্যরকম একটি প্রাপ্তি যে আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরেছি। এই সিনেমায় কাজ করা মানেই ইতিহাসের সঙ্গী হওয়া। এখানে আমি বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী রেণুর (শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব) চরিত্রে অভিনয় করছি। এই চরিত্রে ২০ বছর বয়স থেকে মৃতু্যর আগ পর্যন্ত আমাকে দেখা যাবে। কিছু কিছু অনুভূতি সব সময় প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। আমি মনে করি, বড় সুযোগগুলোর সঙ্গে থাকে বড় রকমের দায়িত্ব। এটা অনেক বড় পস্ন্যাটফর্ম। বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস যার মাধ্যমে রচিত হয়েছে, যার কথা সেই ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি, এখন ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে সেই পরিবারের অংশ হতে পারছি, এটা তো নিঃসন্দেহে অভিনয়শিল্পী হিসেবে ভীষণ ভালো লাগার। নতুন বছর নিয়ে ভাবনা... আমি কখনোই সুদূর ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি ভাবি না। চলমান সময়কেই বেশি গুরুত্ব দেই। তাছাড়া পরিকল্পনামাফিক সব সময় কিছু হয় না। করোনার কথাই বলি, তিন বছর আগে বছর শেষে সবাই কত পরিকল্পনার কথা বললেন, কিন্তু করোনার থাবায় সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে গেল। তাই আপাতত বেশি কিছু পরিকল্পনা নেই। আগামী বছরটি স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখে-শান্তিতে কাটিয়ে দিতে চাই।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে