ঘরে এলো আরও ৫০ লাখ টিকা

এ সপ্তাহেই সারাদেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা
ঘরে এলো আরও ৫০ লাখ টিকা
সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ বিমানে আসা করোনাভাইরাসের ৫০ লাখ ডোজ টিকা বেক্সিমকোর ওয়্যারহাউজে রাখার জন্য নেওয়া হয় -আমিনুল ইসলাম শাহীন

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশে এলো আরও ৫০ লাখ ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা। এর আগে ভারতের উপহার দেওয়া ২০ লাখ ডোজ টিকাসহ দেশে মোট ৭০ লাখ ডোজ টিকা মজুত আছে। আগামীকাল পরীক্ষামূলকভাবে এ টিকা দেওয়া শুরু হবে। চলতি সপ্তাহেই দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব টিকা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলছে বাংলাদেশে টিকা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথমে সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের করোনা টিকা দেওয়া হবে। এরপর রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রাথমিকভাবে করোনার টিকা দেওয়া শুরুর আগে সরকারের কাছে ৭০ লাখ টিকা মজুত থাকলেও প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা দেশে আসবে। এ টিকা প্রয়োগ সফল হলে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস থেকে দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী ৩ কোটি ডোজ টিকার মধ্যে সোমবার ৫০ লাখ ডোজ টিকা এসেছে। এরপর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ল্যাবরেটরি ছাড়পত্রের জন্য কিছু স্যাম্পলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। আজ মঙ্গলবারের মধ্যে এসব কাগজপত্র জমা দেওয়া হবে। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরবরাহ করা তালিকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক ভ্যাকসিন দেশের সব জেলায় পৌঁছে দেওয়া হবে।

এদিকে, এসব টিকা নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই করে সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে বেক্সিমকো। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন জানান, ভারত থেকে ভ্যাকসিন ঢাকায় এসেছে। বেক্সিমকোর ওয়্যারহাউসে (গুদামে) প্রতিটি ভ্যাকসিন চেক করে দেখা হবে। কোথাও কোনো ত্রম্নটি থাকলে বা ড্যামেজ, শর্টেজসহ কোনো রকমের সমস্যা থাকলে, সেগুলো বেক্সিমকো ফার্মা নিয়ে যাবে। সেগুলোর দায় বেক্সিমকোর। সরকারকে নিখুঁত ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, 'সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে দেশের সব জেলায় ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রতিটি ভ্যাকসিনের স্যাম্পল আমরা ঔষধ প্রশাসনের ল্যাবরেটরিতে পাঠাব টেস্ট করার জন্য। তারা ছাড়পত্র দিলে প্রতিটি জেলায় ভ্যাকসিন পৌঁছে

দেবো। ধারণা করছি, ৪৮ ঘণ্টা পর থেকে অথবা চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে আমরা এ ভ্যাকসিনগুলো দেশের সব জেলায় পৌঁছে দিতে পারব।'

পাপন বলেন, 'এ ভ্যাকসিন পরিবহণের জন্য আমরা বিশেষ ফ্রিজার কাভার্ডভ্যান কিনেছি, যা আমাদের আগে ছিল না। আজ নয়টি কাভার্ডভ্যানে ভ্যাকসিন বহন করা হচ্ছে। আগামী মার্চ মাসে আরও ভ্যান আসবে।'

এর আগে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিনবাহী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটটি সোমবার সকাল ১০টা ৫৬ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। সেখান থেকে বিশেষ ফ্রিজার ভ্যানের মাধ্যমে পুলিশ পাহারায় গাজীপুরের টঙ্গীতে বেক্সিমকোর নিজস্ব ওয়ারহাউজে নিয়ে যাওয়া হয়।

আমাদের গাজীপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, টঙ্গীর বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় ১৫ মিলিয়ন (ভ্যাকসিন) ভায়াল ধারণ ক্ষমতাবিশিষ্ট দুইটি ওয়্যারহাউস রয়েছে। ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেট তাপমাত্রায় এ ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করতে হয়। বিশেষায়িত এ ওয়্যারহাউসে নির্ধারিত তাপমাত্রাসহ বিশেষ পরিবেশে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। শুধু ওয়্যারহাউসেই নয়, পরিবহণের সময় ভ্যানেও একই পরিবেশ ও তাপমাত্রা বজায় রাখা হচ্ছে। এখানে ভ্যাকসিনের মাননিয়ন্ত্রণে রাখতে আমাদের সব ব্যবস্থা রয়েছে।

বেক্সিমকোর চিফ অপারেটিং অফিসার রাব্বুর রেজা জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষায়িত ভ্যানে করে টিকাগুলো গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী চেরাগ আলী এলাকায় অবস্থিত বেক্সিমকোর ওয়্যারহাউসে আনা হয়েছে। দুপুর ১টায় টিকা বহনকারী ৯টি বিশেষায়িত ভ্যান থেকে টিকার বক্সগুলো ওয়ারহাউসে রাখা হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে