করোনায় আরও ৫ জনের মৃতু্য শনাক্ত ৪০৭

করোনায় আরও ৫ জনের মৃতু্য শনাক্ত ৪০৭

এক দিনের ব্যবধানে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃতু্যর সংখ্যা কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে পাঁচজনের মৃতু্য হয়েছে। আগের দিন ভাইরাসটিতে ১১ জনের মৃতু্যর তথ্য দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে দেশে এই মহামারিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮ হাজার ৪০০ জনে দাঁড়াল। তবে এই সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাসে নতুন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে

আরও ৪০৭ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩১ জন হলো।

প্রতিদিনের মতো শনিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত করোনাভাইরাস বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারাদেশে করোনাভাইরাসের সর্বশেষ সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ১১৭টি আরটি-পিসিআর ল্যাব, ২৯টি জিন-এক্সপার্ট ল্যাব ও ৬৮টির্ যাপিড অ্যান্টিজেন ল্যাবে অর্থাৎ ২১৪টি ল্যাবরেটরিতে ১২ হাজার ১৮৯টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১২ হাজার ৩৪৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়াল ৪০ লাখ ৩০ হাজার ৬১৬টি। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩১ লাখ ৮ হাজার ৪৬৪টি। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়েছে ৯ লাখ ২২ হাজার ১৫২টি।

এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গ-বিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৬০৯ জন। এ পর্যন্ত এই ভাইরাস থেকে মোট সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৯৬ হাজার ১০৭ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯০ দশমিক শূন্য ৮৯ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃতু্যর হার ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৪ ঘণ্টায় মৃত পাঁচজনের মধ্যে বিশোর্ধ্ব ১ জন, চলিস্নশোর্ধ্ব ১ জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ২ জন ও ষাটোর্ধ্ব ৩ জন রয়েছেন। বিভাগ অনুযায়ী, মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ১ জন মারা গেছেন।

দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৮ হাজার ৪০০ জনের মধ্যে ৬ হাজার ৩৫৩ জনই পুরুষ এবং ২ হাজার ৪৭ জন নারী। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৬৭৩ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়াও ২ হাজার ৮২ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৯৫২ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৪২১ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১৭১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৬৪ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ৩৭ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।

এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০৩ জন ঢাকা বিভাগের, ১ হাজার ৫৩৭ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৪৭৮ জন রাজশাহী বিভাগের, ৫৬০ জন খুলনা বিভাগের, ২৫৩ জন বরিশাল বিভাগের, ৩১০ জন সিলেট বিভাগের, ৩৬৩ জন রংপুর বিভাগের এবং ১৯৬ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

গতবছর ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। গত ১৪ জানুয়ারি তা সোয়া ৫ লাখ পেরিয়ে যায়। এর মধ্যে গত বছরের ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃতু্যর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বছর ২৩ জানুয়ারি তা আট হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে গত বছরের ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনেরমৃতু্যর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃতু্য। বিশ্বে শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ১১ কোটি ৩৪ লাখ পেরিয়েছে, মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৫ লাখ ১৮ হাজার। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ৩৩তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় ৩৯তম অবস্থানে রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে