সাপ্তাহিক বাজার দর

চালসহ পাঁচ পণ্যের দাম চড়া কমছে ভোজ্যতেলের দাম

চালসহ পাঁচ পণ্যের দাম চড়া কমছে ভোজ্যতেলের দাম

সপ্তাহের ব্যবধানে অতি প্রয়োজনীয় পাঁচ পণ্যের দাম বেড়েছে। এগুলো হলো- সরু চাল, আমদানি করা আদা, দেশি রসুন, জিরা ও ব্রয়লার মুরগি। পাঁচ পণ্যের দাম বাড়ার চিত্র সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার পণ্যমূল্য তালিকায়ও লক্ষ্য করা গেছে। এ সব পণ্য কিনতে ভোক্তার ওপর বাড়তি চাপ পড়লেও বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমতে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরানবাজার, নয়াবাজার ও মালিবাগ কাঁচাবাজারের খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

টিসিবি বলছে, বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি সরু চালের মধ্যে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল সপ্তাহের ব্যবধানে ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে দেশি রসুন ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি আমদানি করা আদা ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। জিরা কেজিতে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

জানতে চাইলে বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার

যায়যায়দিনকে বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একাধিক টিম বাজার তদারকি করছে। তারা ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। এ ছাড়া বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ভোজ্যতেলসহ একাধিক পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। আশা করি, যে কটি পণ্যের দাম বাড়তি আছে, তাও ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতায় চলে আসবে।

রাজধানীর খুচরাবাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি সরু চাল বিক্রি হয়েছে ৬২-৬৬ টাক। যা ৭ দিন আগে বিক্রি হয়েছে ৫৮-৬৪ টাকা। প্রতি কেজি আমদানি করা আদা বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকা। যা ৭ দিন আগে বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা। প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১২০ টাকা। যা ৭ দিন আগে বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকা।

এ ছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি জিরা ২০ টাকা বেড়ে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা আবিদুল হোসেন যায়যায়দিনকে বলেন, 'বাজারে চালের দাম কমছে না। বরং আরেক দফা বেড়েছে। দেখা যাচ্ছে প্রতি সপ্তাহে ২-৩ টাকা বাড়ছে। এ ছাড়া দাম বাড়ার ক্ষেত্রে ব্রয়লার মুরগিও যোগ হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে মনে হচ্ছে নিয়ম করে বাড়ানো হচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই।'

মালিবাগ কাঁচাবাজারের খালেক রাইস এজেন্সির মালিক ও খুচরা চাল বিক্রেতা দিদার হোসেন বলেন, চাল আমদানি করা হলেও মিলাররা চাল নিয়ে কারসাজি অব্যাহত রেখেছেন। কৃষকদের কাছ থেকে তারা কম দরে ধান কিনে নিয়েছে। এরপর তাদেরই সিন্ডিকেট সেই দামের ধান বেশি দরে নিজেদের কাছে বিক্রি করছে। পরিস্থিতি এমন করেছে, যেন ধানের দাম বাড়তি। তারা ধানের দর বাড়তি বলে চালের দাম বাড়াচ্ছে। সেই বাড়তি দর পাইকারি পর্যায়ে প্রভাব ফেলছে। যার ধাক্কা লাগছে খুচরাবাজারে। তিনি জানান, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সংশ্লিষ্টরা তদারকি করছে। এ তদারকিতে চালের দাম কমবে না। বরং আমদানি ও মিল পর্যায়ে গভীরভাবে তদারকি করতে হবে। ধান কে কিনেছে ও কারা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করার অভিনয় করছে তাদের ধরলে দাম কমে আসবে।

জানা গেছে, চাল সংকট সমাধানে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এ লক্ষ্যে সরকারি পর্যায়ে সাড়ে ৪ লাখ টন এবং বেসরকারি পর্যায়ে ১০ লাখ ১৮ হাজার টন চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়ার কথা। ফেব্রম্নয়ারির মধ্যেই এসব চাল দেশে প্রবেশ করার কথা ছিল। কিন্তু নানা সমস্যার কারণে দুই মাসে মাত্র ৬ ভাগের একভাগ চাল আমদানি হয়েছে। আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খুলতে ব্যর্থ হওয়ায় ইতোমধ্যে আড়াই লাখ টন আমদানির অনুমোদন বাতিল করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। আশানুরূপ আমদানি না হওয়ায় বাজারে চালের দামে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।

কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী আবদুল মতিন যায়যায়দিনকে বলেন, চালের মোকামেই বাড়তি দাম। তাই খুচরা বাজারেও চালের দাম বাড়তি। মোকামে প্রতি কেজিতে ২০-৩০ পয়সা লাভে চাল বিক্রি করছেন।

মিরপুর এক নাম্বারে বাজার করতে আসা আবদুল হামিদ বলেন, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে লাগামহীন বাড়ছে চালের দাম। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এভাবে চালের দাম বাড়তে থাকলে মানুষ ভাত খাওয়া ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন। চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষের চরম কষ্ট হচ্ছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গত ২২ ফেব্রম্নয়ারির তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৪৮ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে আমদানি হয়েছে ৮৩ হাজার টন এবং বেসরকরি পর্যায়ে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার টন।

এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি গুদামে ৬ লাখ ৫৬ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ৪৩ হাজার টন চাল এবং ১ লাখ ১৩ হাজার টন গম রয়েছে।

রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকায়। যদিও চায়না বড় পেঁয়াজের কেজি গত সপ্তাহের মতো ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫ টাকা বেড়ে ২৫-৩০ টাকা, নতুন আলু ২০ টাকা, লাউ প্রতি পিসে ১০ টাকা কমে ৪০-৫০ টাকা, বেগুন (লম্বা) ৩০ টাকা আর গোল বেগুন ৫০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা এবং সিম প্রতি কেজি ৪০-৪৫ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে চিনি, ডাল এবং মসলার দাম আগের মতোই রয়েছে। কাঁচা মরিচের কেজি ৮০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ১০০ টাকা।

মাছের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। হাতিরপুলের মাছ ব্যবসায়ী রফিক আহমদ জানান, ভৈরব, খুলনা আর সাতক্ষীরা এলাকা থেকে প্রচুর মাছ আসে। কিন্তু কয়েকদিন ধরে মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। দেশি বড় রুইমাছ কেজি ৩৫০ থেকে বেড়ে ৪০০ টাকা, ছোট রুই মাছ ২০০ থেকে বেড়ে ২৫০ টাকা, কাতল ৩৫০ টাকা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে