রমজানের ধারা আমৃতু্য জারি

রমজানের ধারা আমৃতু্য জারি

মুমিনের প্রবৃত্তি পরিশুদ্ধ, ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর মোহ থেকে মুক্ত হয়ে আখিরাতমুখী এবং জীবনে সম্প্রীতি ও সহানুভূতির চেতনা জাগাতে আসে সিয়াম-সাধনার মাস রমজান। আর মাত্র এক বা দুদিন পর এই মাস বিদায় নেবে। তবে মুমিনের জীবনে

রমজানের এই ইবাদতের ধারা অব্যাহত থাকবে। কেননা, মহাপরাক্রমশালী রাব্বুল আল-আমিন জীবনভর ইবাদত জারি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হচ্ছে, 'তুমি মৃতু্যঅবধি তোমার রবের ইবাদত করতে থাক। (সূরা হিজর)

ইসলামী স্কলাররা বলেন, রমজান হলো ঈমান-আমলের উন্নতি ও তাকওয়া হাসিলের সময়। এটি পুরো বছর গুনাহ বর্জন, ইবাদতের শক্তি সঞ্চয় ও আত্মিক পাথেয় সংগ্রহের এক মহা সুযোগ এনে দেয়। আর যারা রমজান মাসে কাঙ্ক্ষিত সুফল ও উপকার গ্রহণ করতে পারল, যে নিজের জীবনকে পরিবর্তন করতে পারল। রমজান থেকে অর্জিত পাথেয় নিজের জীবনে ধারণ করতে পারল। হতে পারল মুত্তাকী- যে কিনা আলস্নাহর আনুগত্য ও তাকওয়ার সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত হয়েছে।

তবে বাস্তবে দেখা যায়, এক শ্রেণির মানুষ রমজানে রোজা রাখার পাশাপাশি নামাজ-কোরআন তেলাওয়াতসহ নানা ধরনের ইবাদতে মশগুল থাকলেও এই মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর তারা এর প্রায় সবকিছুই ছেড়ে দেন। অশ্লীলতাসহ বিভিন্ন ধরনের পাপাচারে মত্ত হন। তাদের জন্য আলস্নাহর লানত।

তাই যারা রমজানের আলস্নাহর ইবাদত বন্দেগিতে গাফেল ও উদাসীন থাকলেও রমজানে আমলের প্রতি তৎপর হয়েছেন, তাদের উচিত দৃঢ়ভাবে তা জারি রাখা এবং আজীবন এর ওপর অটল-অবিচল থাকার চেষ্টা করা। অন্যদিকে রমজানের আগমন ও বিদায়ে যাদের উপলব্ধি এবং জীবনধারায় কোনো পরিবর্তন ঘটেনি তাদের উচিত হবে, তওবা করে আলস্নাহর আনুগত্যের পথে চলতে শুরু করা।

আর যারা রমজানের আগেও আলস্নাহতালার অনুগত হয়ে ইবাদত-বন্দেগি করতেন। রমজান মাসের আগমনে এর ফজিলত ও গুরুত্ব উপলব্ধি করে নেক আমলের বিষয়ে আরও তৎপর হয়েছেন। তারা যেন রমজানের পরও রমজান থেকে অর্জিত পাথেয় নিয়ে আরও উদ্যমী হয়ে আলস্নাহর আনুগত্য এবং ইবাদত-বন্দেগিতে অটল থাকেন এবং রমজানে কৃত নেক আমলের ধারা আমৃতু্য জারি রাখেন।

রমজানে কৃত আমলগুলোর ধারা চালু রাখতে প্রতি মাসে নফল রোজা রাখা যায়। এর মধ্যে শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাসুলুলস্নাহ সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি রমজান মাসের রোজা রাখল। অতপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারাবছর রোজা রাখল। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬৪)

এ ছাড়া প্রতি চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তিনদিনের রোজা (আইয়ামে বীযের রোজা) রাখারও বিশেষ ফজিলত রয়েছে। নবী কারিম সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম বলেন, প্রতি মাসে তিনদিন রোজা রাখা এবং রমজান মাসের রোজা সারাবছর রোজা রাখার সমতুল্য। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬২), শাবান মাসে অধিক পরিমাণে রোজা রাখারও তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হাদীস শরিফে বর্ণিত আছে, উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা. বলেন, 'রাসুলুলস্নাহ সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম শাবান মাস ব্যতীত বছরের অন্য কোনো মাসে এত অধিক (নফল) রোজা রাখতেন না।' (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭৮২)

অন্যদিন রমজানের পরও কোরআন তেলাওয়াতের অভ্যাস ও নিয়ম চালু রাখা জরুরি। আলস্নাহর কালামের সঙ্গে সম্পর্ক যতই ঘনিষ্ঠ হবে, আলস্নাহর বিশেষ রহমত তত বেশি বর্ষিত হবে। এ ছাড়া রমজান চলে গেলেও তাসবিহ, তাহলিল ও ইস্তেগফার অব্যাহত রাখা প্রত্যেক মুমিনের প্রাত্যহিক কর্তব্য। রমজানে মুমিন বান্দাদের মধ্যে দান-খয়রাতের আগ্রহ বেড়ে যায়। এটিও আলস্নাহর অনুগ্রহ। সম্পদের মালিক আলস্নাহ। বান্দা নিছক আমানতদার। আলস্নাহর নির্দেশ অনুযায়ী সম্পদ ব্যয় করা মুমিনের কর্তব্য। তাই রমজান শেষ হলেও এসব ইবাদত অব্যাহত রাখা উচিত সায়েমের জন্য। কেননা, সায়েমের গন্তব্য আখেরাত পর্যন্ত। তাই তার আমল হবে জীবনভর।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে